শিরোনাম
 সাত খুন মামলায় ১৫ জনের ফাঁসি বহাল, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  প্রধান বিচারপতির সঙ্গে গওহর রিজভীর সাক্ষাৎ  বিবিএস ক্যাবলসের অস্বাভাবিক দর তদন্তে কমিটি  বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষি ও এসএমই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৭

বাংলাদেশে 'বৈপ্লবিক চলচ্চিত্র' কেন নিয়মিত নয়?

সমাজ
ড. নাদির জুনাইদ
কোনো চলচ্চিত্র দু'ভাবে বৈপ্লবিক হয়ে উঠতে পারে। যখন পরিচালক সচেতনভাবে নিজের ছবিতে সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের অন্যায়ের রাজনৈতিক সমালোচনা প্রকাশ করা হয়ে উঠবে তার ছবির মূল লক্ষ্য। আর আরেকটি দিক হলো, যখন একটি চলচ্চিত্রে অপ্রথাগত এবং নান্দনিকভাবে নতুন নির্মাণশৈলী ব্যবহার করা হবে। গতানুগতিক ক্যামেরা ভাষা ব্যবহার করে সামাজিক সমালোচনা প্রকাশ করা হলে তার তীব্রতা যথেষ্ট কার্যকর হয় না। তাই বিভিন্ন দেশে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবী চলচ্চিত্রগুলোয় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা প্রদানের পাশাপাশি ছবির নির্মাণশৈলীও হয়ে উঠেছে অগতানুগতিক। বাংলাদেশের পরিচালকদের তৈরি ছবি দিয়েই উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। জহির রায়হানের 'জীবন থেকে নেয়া' (১৯৭০), আলমগীর কবিরের 'ধীরে বহে মেঘনা' (১৯৭৩) আর 'রূপালি সৈকতে' (১৯৭৯), মসিহ্উদ্দিন শাকের আর শেখ নিয়ামত আলীর 'সূর্যদীঘল বাড়ি' (১৯৭৯), সৈয়দ সালাহ্উদ্দীন জাকীর 'ঘুড্ডি' (১৯৮০), তারেক মাসুদের 'মাটির ময়না' (২০০২) বক্তব্য আর নির্মাণশৈলী দু'দিক দিয়েই প্রথাবিরোধিতার মাধ্যমে বৈপ্লবিক ছবি হয়ে উঠতে পেরেছে। বাংলাদেশে তৈরি সুনির্মিত ছবি হিসেবে এ চলচ্চিত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য না দিয়ে চিন্তাশীল নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার মতো চলচ্চিত্র গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশে কমই নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কাহিনী আর নির্মাণশৈলী বেশিরভাগ সময় আটকে থাকছে গতানুগতিকতার গণ্ডিতে। বাণিজ্যিক লাভকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা চাকচিক্যময় চলচ্চিত্র হয়তো ব্যবসায় সফল হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের প্রথাগত ছবির মাধ্যমে বিশ্ব চলচ্চিত্রের পরিসরে শক্তিশালী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রশংসিত হওয়া সম্ভব না। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে এশিয়া, আফ্রিকা বা লাতিন আমেরিকার অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিশ্বে যথেষ্ট পরিচিত নয়। বাণিজ্যিক ছবির গতানুগতিক উপাদান ব্যবহার করার কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছবি নিজ দেশে সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু শিল্পমাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ চলচ্চিত্র যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। আর চলচ্চিত্রের শৈল্পিক মান যথেষ্ট আকর্ষণীয় না হলে সেই ছবি চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি এবং প্রশস্তি পাবে না।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের চলচ্চিত্র আর নাটকের রূপ দেখলে মনে হতে পারে, এই সময়ের দর্শক কেবল বিনোদন পেতেই আগ্রহী। আশির দশকে তৈরি বিভিন্ন টেলিভিশন নাটকেও সমাজের জরুরি নানা সমস্যা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রচেষ্টা ছিল। সেসব নাটক কেবল হালকা বিনোদন-সর্বস্ব হতো না, দর্শককে তা চিন্তা করতে বাধ্য করত। অথচ বর্তমান সময়ের টেলিভিশন নাটকে সামাজিক সমালোচনা আর ভাবনাপ্রবণ সংলাপ দেখাই যায় না। এ ধরনের নাটকের নিয়মিত নির্মাণের কারণে প্রশ্ন জাগে, দেশের বেশিরভাগ মানুষ কি এখন অগভীর বিনোদনে মজে থাকতেই আগ্রহী? এমন নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে সবসময় প্রচার করা হলে দর্শক এমন হালকা বিনোদনেই ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। কারণ গণমাধ্যমের অনুষ্ঠান সামাজিকীকরণ এবং দর্শকের রুচি তৈরিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে জাঁকজমক আর জৌলুস থাকলেই সেই ছবি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে। সেই সঙ্গে মূলধারার গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে অবিরাম প্রচারের মাধ্যমে দর্শককে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে এমন ছবি দেখার জন্য। এ ধরনের জৌলুসপূর্ণ আর বিনোদনে ভরপুর চলচ্চিত্র-নাটক দেখলে মনে হয় আমাদের সমাজে কোনো সমস্যা নেই। অথচ সংবাদপত্র আমাদের জানান দেয় বিভিন্ন সমস্যা কত প্রকট হয়ে উঠছে প্রতিদিন। বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্র-নাটক মানুষকে অগভীর আনন্দে বুঁদ করে রেখে সেসব সমস্যা ঢেকে রাখছে। প্রশ্ন তৈরি হয়, জনগণ সামাজিকভাবে সচেতন না হলে কারা সুবিধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন?

পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য লিখেছিলেন :'দিশেহারা মানুষকে নেশায় বুঁদ করে রাখার জন্য যেমন মদের দোকান দরকার, সে রকম টেলিভিশন সিরিয়াল দরকার, নোংরা প্রোগ্রাম দরকার। এগুলো অঢেল সাপ্লাই বা বিশাল বিতরণের ব্যবস্থা দরকার। মানুষ যদি চুপ করে যায়, মানুষ যদি একটা ধোঁয়ার মধ্যে থাকে, সে কোনো প্রশ্ন করবে না।' দর্শক-পাঠককে কেবল বিনোদন দেওয়া গণমাধ্যমের একমাত্র দায়িত্ব নয়। বিদ্যমান সমস্যা সম্পর্কে এমনভাবে মানুষকে সচেতন করা প্রয়োজন যেন দর্শক বিনা প্রশ্নে অন্যায় মেনে না নেয়। প্যারিসে ১৯৬৮ সালে তরুণরা পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভ শুরু করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত সফলতা না পেলেও তাদের প্রতিবাদের নান্দনিক রূপ আর অভিনবত্ব এখনও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিপ্লবী প্রতিবাদ অনুপ্রাণিত করে। তারা যে দেয়াল-লিখন আর পোস্টার ব্যবহার করেছিল ১৯৬৮ সালে তা আজও মনকে ঝাঁকুনি দেয়। সেই ফরাসি তরুণদের একটি কথা এখনও মনে হয় অর্থবহ : 'আমি অংশগ্রহণ করছি, তুমি অংশগ্রহণ করছো, সে করছে, আমরা করছি, আপনারা সবাই অংশগ্রহণ করছেন। আর তারা লাভ করছে।' এই 'তারা' কাদের দ্বারা গঠিত তা জানার জন্য ভাবা দরকার। কিন্তু নাটক-চলচ্চিত্রে দেওয়া অগভীর বিনোদন এবং জাঁকজমক মানুষকে গভীরভাবে ভাবতে সাহায্য করবে না। প্রতিনিয়ত মানুষ কীভাবে শোষণের শিকার হচ্ছে, তা অনুধাবনের বোধও তৈরি হবে না অনেকেরই।

আমাদের দেশে আরেকটি সমস্যা হলো, সমাজসচেতন চলচ্চিত্রের নির্মাণ অবহেলিত হলেও তা নিয়ে চলচ্চিত্র লেখক, সমালোচক এবং সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তিরা যথেষ্ট সমালোচনামুখর নন। সত্যজিৎ রায় গত শতকের ষাটের দশকে পশ্চিমবঙ্গের অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কলকাতার সমকালীন বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়_ এমন বিভিন্ন ছবি যেমন 'অভিযান' (১৯৬২), 'চারুলতা' (১৯৬৪), 'কাপুরুষ' ও 'মহাপুরুষ' (১৯৬৫), 'নায়ক' (১৯৬৬), 'গুপী গাইন বাঘা বাইন' (১৯৬৮), 'অরণ্যের দিনরাত্রি' (১৯৬৯) একের পর এক নির্মাণ করছিলেন। সাম্প্রতিক বাস্তবতার জরুরি সমস্যা থেকে এই বিখ্যাত পরিচালকের মুখ ফিরিয়ে রাখার প্রবণতা সেই সময় তীব্রভাবে সমালোচনা করেছিলেন সচেতন চলচ্চিত্র সমালোচকরা। সত্যজিৎ রায়ের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী চলচ্চিত্র তাত্তি্বক চিদানন্দ দাশগুপ্ত লিখেছিলেন, কলকাতার রাস্তায় রাজনৈতিক বিক্ষোভের কারণে পুড়তে থাকা ট্রাম, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, উদ্বাস্তু, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর খাদ্যের ঘাটতি প্রভৃতি বৃহৎ সমস্যা সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে উঠে আসে না। যদিও তিনি শহরে বসবাস করেন, তবু মনে হয় শহরের যন্ত্রণার সঙ্গে তার কোনো সংযোগ নেই। আরেকজন সমালোচক লিখেছিলেন, 'পথের পাঁচালী' আর 'অপরাজিত'র স্র্রষ্টা যেন ক্রমশ সাধারণ মানুষ আর তাদের বেঁচে থাকার কঠিনতর সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।

এই সমালোচকদের চাপে এবং হয়তো তাদের জবাব দেওয়ার জন্যই সত্তরের দশকের শুরুতে সত্যজিৎ রায় তৈরি করেছিলেন তার বিখ্যাত কলকাতা ত্রয়ী যেখানে সমসাময়িক কলকাতায় বিদ্যমান বিভিন্ন অন্যায় আর অসঙ্গতি তিনি তুলে ধরেছিলেন সরাসরিভাবে। এ ছবিগুলোর নির্মাণশৈলীও ছিল তার পুরনো কাজ থেকে ভিন্ন। রাষ্ট্রবিরোধী নকশালবাদী আন্দোলন চলার সেই বিক্ষুব্ধ আর বিপজ্জনক মুহূর্তে মৃণাল সেনও তৈরি করেছিলেন তার কলকাতা ত্রয়ী। ঋতি্বক ঘটক তার শেষ ছবি 'যুক্তি', 'তক্কো আর গপ্পো' (১৯৭৪)-তে তুলে ধরেছিলেন বর্তমান সময়ের অন্যায়। এই ছবিগুলোয় সত্যজিৎ-ঋতি্বক-মৃণাল সামাজিক অন্যায়ের জন্য কারা দায়ী তা প্রকাশ করতে গিয়ে সুবিধাবাদী এবং ক্ষমতাশালী শ্রেণির মানুষদের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করেছিলেন। এখানেই সে ছবিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশে তৈরি কিছু বিকল্পধারার ছবির পার্থক্য চোখে পড়ে। বাংলাদেশে বিকল্পধারার চলচ্চিত্রে সামাজিক সমস্যা দেখানো হয়। কিন্তু এমন সমস্যার জন্য কারা মূলত দায়ী তা প্রকাশ করা হয় না। অপরাধী হিসেবে কখনও দেখানো হয় কোনো গ্রাম্য মোড়ল বা মাস্তানকে। কিন্তু একজন গ্রাম্য মোড়ল বা মাস্তান শোষণমূলক সমাজব্যবস্থার জন্য আর কতটা দায়ী? আর কখনও কোনো মূলধারার ছবিতে ক্ষমতাশালী কোনো ব্যক্তির দুর্নীতি দেখানো হলেও শেষ পর্যন্ত একজন সুপারহিরো এসে সেই অন্যায়কারীকে পরাজিত করেন, যা দর্শককে এক ধরনের তৃপ্তি জোগায়; কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে ছবির কোনো সম্পর্ক থাকে না। কারণ বাস্তবে কখনোই কোনো সুপারহিরো এসে এককভাবে অন্যায়কারী ক্ষমতাশালী চক্রকে পরাভূত করে মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করবে না। এ ধরনের কাল্পনিক চরিত্র তাই সাধারণ দর্শকদের তৃপ্তি দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের সংগঠিত হওয়ার ইতিবাচক ক্রোধ আর উদ্যম কমিয়ে দেয়।

আমাদের সমাজে বহু মানুষের হাতে এখন মোবাইল ফোন, অজস্র্র মানুষ ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট। সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে অগভীর বিনোদনের জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনী আর প্রচার। এমন সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ কি মানুষকে চিন্তাশীল এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে সাহায্য করছে? আমাদের চলচ্চিত্র প্রথাগত পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে প্রায়ই বৈপ্লবিক হয়ে উঠছে এমন দাবি আমরা করতে পারি না। চলচ্চিত্রের উঁচু মানের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির চাকচিক্য নয়, প্রয়োজন শৈল্পিক অভিনবত্ব আর বক্তব্যের প্রখরতা। গতানুগতিকতার অগভীর গণ্ডিতে আটকে থাকা নাটক-চলচ্চিত্র কিছু মানুষের আর্থিক সাফল্য নিশ্চিত করবে; কিন্তু সমাজে যা প্রকৃত অর্থে প্রয়োজন সেই চিন্তাশীলতা সৃষ্টিতে জৌলুসের কোনো ভূমিকা নেই। সামাজিক সমস্যার যৌক্তিক এবং নান্দনিক উপস্থাপনের পর কোনো চলচ্চিত্রকে যেন সেন্সরের ছাড়পত্র পেতে অসুবিধায় পড়তে না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন শিল্পী নিজের কাজে বিদ্যমান সামাজিক সমস্যা যুক্তি দিয়ে সমালোচনা করার সুযোগ পাবেন তাই স্বাভাবিক। সত্যজিৎ-ঋতি্বক-মৃণাল সেন্সরের বাধা ছাড়াই ছবি নির্মাণ করতে পেরেছিলেন। রাষ্ট্র তাদের সেই সুযোগ দিয়েছিল। মনে রাখতে হবে, দায়সারাভাবে সামাজিক সমস্যা দেখানো কিংবা জৌলুস আর জাঁকজমক প্রাধান্য দেওয়া চলচ্চিত্র নয়, প্রকৃত অর্থে বৈপ্লবিক হয়ে উঠেছে এমন ছবি নির্মিত হলেই একটি দেশের চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হবে।

অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved