শিরোনাম
 সাত খুন মামলায় ১৫ জনের ফাঁসি বহাল, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  প্রধান বিচারপতির সঙ্গে গওহর রিজভীর সাক্ষাৎ  বিবিএস ক্যাবলসের অস্বাভাবিক দর তদন্তে কমিটি  বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষি ও এসএমই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৭

ঈদ শপিং প্রস্তুতি

যেহেতু ঈদ প্রায় চলে এসেছে, সেহেতু আপনাকে ভাবতে হবে ঈদ শপিং নিয়ে। এমনিতে ভাবলে হবে না, বেশ জোর-জবরদস্তি দিয়ে ভাবতে হবে। মানে বলছি যে, ঈদ শপিংয়ের আগে আপনাকে প্রস্তুত হতেই হবে। নইলে ঈদ শপিং তো দূরের কথা, আপনি কিছুই করতে পারবেন না। তো আসুন না, সেই প্রস্তুতির কথা জেনে নিই। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হওয়ায় সেই প্রস্তুতির কথাই জানাচ্ছেন মাসুদ রানা আশিক

-কথায় বলে_ টাকে টাকা আনে। কিন্তু টাক মাথাওয়ালারা যতই টাকা আনুক না কেন, সেই টাকাগুলো আলমারির ড্রয়ারে চাবি দিয়ে রাখতে পারবেন_ সেই নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ঈদ শপিংয়ের প্রস্তুতির প্রথমেই আপনার দরকার টাকা। আপনাকে কেউ তো আর কিছু মাগনা দেবে না, নাকি? আর আপনার বাড়িতে যদি হালি হালি সদস্য থাকে তাহলে যে টাকার পাহাড় লাগবে, সেটা তো বলাই বাহুল্য। যতই চিন্তা করেন না কেন_ আপনি টাকা খরচ কম করবেন। কিংবা শপিং করবেন না_ সেটা মনে হয় আপনার পরিবারের সদস্যরা মানবে না। সো_ প্রস্তুতি নিন টাকা খরচের।

-টাকা যদি আপনার কাছে থাকেই তাহলে এবার আপনার দরকার মার্কেটে যাওয়া। হেঁটে যাবেন, নাকি কোনো বাহনে যাবেন সেটা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা এ বিষয়ে মাথা ঘামানোর কোনো পূর্ব সিদ্ধান্ত নিইনি। আপনি যদি কোনো বাহনে চড়ে মার্কেটে যান তাহলে সেই বাহনে চড়েই শপিং করতে পারবেন, তা কিন্তু নয়। মার্কেটে বাহন পার্কিংয়ের জায়গা আছে, কিন্তু বাহনে চড়ে শপিং করার কোনো জায়গা আছে বলে আমাদের জানা নেই। যেহেতু বাহনে চড়ে আপনি শপিং করতে পারবেন না, সেহেতু আপনাকে হাঁটতে হবে। শুধু যে এক মার্কেটে হাঁটবেন, তা কিন্তু নয়। এক মার্কেটে পছন্দ হলো না আরেক মার্কেট, সেখানেও পছন্দ হলো না আরেক মার্কেট। এভাবে হাঁটতে হলে পায়ে পর্যাপ্ত জোর না থাকলে চলবে না। রোগাক্রান্ত, হাঁটার অনুপযোগী পা হলে শপিং প্রস্তুতিতে আপনি ডিসকোয়ালিফাই।

-যে দোকান থেকে আপনি কাপড় কিনবেন সেই দোকানে সব কাপড়ই যে ভেজালমুক্ত_ সেটাই বা আপনি আগ বাড়িয়ে কীভাবে বলেন? আপনি যেমন পারবেন না, পারব না আমরাও। ফল পাকলেও কাপড়ের রঙও যে পাকা-কাঁচা হয়; সে বিষয়ে তো আমরা পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নই। কাপড়ের রঙ পরীক্ষা করার জন্যও আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিক্রেতার অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী কথায় যদি মনে করেন, কাপড়ের রঙ পুরোপুরি পেকে লাল হয়ে গেছে_ তাহলে ঠকে যেতেও পারেন। কারণ তাদের কথা খুবই মনোমুগ্ধকর, আকর্ষণীয়। তাই কাপড়ের রঙ পরীক্ষা করার জন্য আপনাকে শপিংয়ে যাওয়ার আগে সাবান নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই হবে। সাবান দিয়ে কাপড়ে দু-একটা ঘষা দিলেই বুঝবেন রঙ পাকা, না কাঁচা।

-শুধু সাবান দিয়ে ঘষলেই যে আপনি কাপড়ের রঙ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে ফেলবেন_ এমন ধারণা করলে অবশ্যই ভুল করবেন। এজন্য আপনাকে পানি রাখতে হবে। মার্কেটে আবার পানি পাবেন কোথায়? সেখানে আপনার জন্য তো কেউ পানি নিয়ে বসে নেই। তাই শপিং প্রস্তুতিতে অবশ্যই আপনার দরকার পানি। পানি বোতলে করেও নিয়ে যেতে পারেন কিংবা কুলি মারফত বড় একটা ড্রামে করেও নিয়ে যেতে পারেন। মানে ঘটনা হলো, সাবান দিয়ে ঘষার পর কাপড়টাতে পানি দিয়ে একটু কচলাবেন। যদি দেখেন রঙ উঠে যাচ্ছে তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন কাপড়ের রঙটা কাঁচা। কাঁচা রঙের কাপড় নিশ্চয় আপনি নেবেন না। তবে এক্ষেত্রে বিক্রেতা আপনার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে আমরা সঠিক বলতে পারছি না।

-ঈদ শপিংয়ের বিষয়-আশয়। দাম যে আকাশ ধরার বাসনায় লাফাবে, এটা অতি স্বাভাবিক। বরং দাম যদি আকাশ না ধরে সেটাই চরম আশ্চর্য। এত দামের পণ্য আপনার মতো মানুষ খুব কমই কিনেছে_ এমন মনে হয়ে যদি হঠাৎ হিট খেয়ে ফিট হয়ে পড়ে যান তাহলে কিন্তু বিস্তর সমস্যা। তবে এ সমস্যার সমাধান তো আছেই। সঙ্গে বরফ নিতে পারেন। যখনই দেখবেন পণ্যের দাম শুনে মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে তখনই বরফটা মাথায় রাখবেন। আশা করা যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই মাথা এক্কেবারে কুল হয়ে যাবে। তবে একটা কথা। বরফ তো অনেক সময় থাকে না। কিছু পরই সেটা পানি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে আপনি আস্ত ফ্রিজ নিয়েই মার্কেটে প্রবেশ করতে পারেন। যে দোকানে প্রবেশ করবেন সে দোকানেই ফ্রিজে বিদ্যুৎ কানেকশন দিয়ে পণ্যের দাম শুনবেন।

-টানাটানির অভ্যাস আগে থেকেই গড়ে তুলুন। না না, আমি দড়ি টানাটানির কথা বলছি না। বলছি না সিগারেট টানার কথাও। কাপড় টানার কথা বলছি আরকি। আপনি যে দোকানে যাবেন সেই দোকানের বিক্রেতা নিশ্চয় কাপড় বেশ শক্ত বলেই জোর বয়ান তুলবে। আপনারাই বলেন, নিজ সন্তানকে কেউ খারাপ বলে? কাপড় শক্ত, না পোক্ত সে বিষয়ে তো আপনাকে পরীক্ষা করতে হবে। এজন্য অবশ্যই আপনাকে কাপড় টানতে হবে। আপনার সঙ্গে আরও একজন থাকলে ভালো হয়। দু'জন মিলে দু'দিক থেকে জোরে কাপড়টা টানুন। যদি কাপড়টা ছিঁড়ে যায় তাহলে বুঝবেন কাপড়টা শক্তের কোনোভাবেই ভক্ত নয়। সে নরম। এমন হলে কাপড়টা আপনি কিনবেন না। তবে সেই কথা আবার বলছি। বিক্রেতার সঙ্গে যদি আপনার হাতাহাতি পর্যন্ত হয়ে যায়, আমাকে দোষ দিতে পারবেন না।

-পকেটমার তো আপনার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলবে না, 'ভাই আমি পকেটমার। আমি এখন আপনার পকেট মারব।' এমন ভদ্র পকেটমার যে এই বঙ্গদেশে নেই সেটা সবারই জানা কথা। জানা কথা বলেই বলছি, এরা ভিড়ের মাঝেই থাকে বেশি। আপনি যে মার্কেটে শপিং করতে এসেছেন সেখানেও পকেটমার ভায়া ভদ্রবেশে ঘুরছে না সেটাই বা বলি কীভাবে? আপনার পকেটও যে মারিংয়ের আওতায় আসবে না সেটাও তো বলা যাচ্ছে না। তাই মার্কেটে প্রবেশের আগে আপনি যে পকেটে টাকা রেখেছেন সেই পকেট সুঁই-সুতো দিয়ে সেলাই করে রাখুন। এতে পকেটে কেউ হাত দিতে পারবে না। পণ্য কেনার পর সেলাই খুলে টাকা পরিশোধের পর আবারও পকেটটা সেলাই করে রাখুন। আশা করা যায়, এমন হলে আপনার পকেট মারিং হবে না।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved