শিরোনাম
 এক মাস কঠোর সংযমের পর এলো খুশির ঈদ  ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত  ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ২০:১০:৫৮ | আপডেট : ১৮ জুন ২০১৭, ২৩:০৮:১৪

আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে: খালেদা জিয়া

সমকাল প্রতিবেদক
রাঙামাটি যাওয়ার পথে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরের ওপর আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

রোববার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলার পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এ অভিযোগ করেন। তিনি অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান ও দলের মহাসচিবসহ আহত নেতৃবৃন্দের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

খালেদা জিয়া তার বিবৃতিতে বলেন, 'পাহাড় ধসে রাঙামাটির বিধ্বস্ত জনপদ ও মাটিচাপায় হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় টিম রাঙামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়ায় ইসাখালী নামক স্থানে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নেতৃবৃন্দের গাড়িবহরের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তার সফরসঙ্গী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান শামীম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মীর ফাওয়াজ হোসেন শুভ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বকরসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।'

এ ধরনের 'ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত হামলায় ধিক্কার' জানিয়ে তিনি বলেন, 'পাহাড় ধসে উপদ্রুত এলাকায় সরকারের তাচ্ছিল্যপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যে ধিক্কার উঠেছে সেখান থেকে জনগণের চোখ অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার জন্যই বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। আওয়ামী পাণ্ডাদের দিয়ে বিএনপির গাড়িবহরে আক্রমণ সরকারের পতনের আগে শেষ মরণকামড়। তবে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সকল অপকর্মের হিসেব নিতে জনগণ অপেক্ষা করছে।' আর 'এই অপেক্ষা বেশি দীর্ঘ হবে না' বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন বিবৃতিতে আরও বলেন, 'রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় বিএনপি মহাসচিবসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের গাড়িবহরে হামলা ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করে আহত করার যে নজির সৃষ্টি হলো তা গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলতে সরকারের একটি দুর্বিনীত উদ্যোগ। এই ঘটনা বর্তমান বিনা ভোটের সরকারের আরেকটি হিংসাশ্রয়ী অসুস্থ রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। আওয়ামী লীগ গুণ্ডামিকেই আশ্রয় করেছে টিকে থাকার অবলম্বন হিসেবে। তাই শান্তি, স্বস্তি ও জননিরাপত্তাকে বিসর্জন দিয়ে নৈরাজ্যকেই বেছে নিয়েছে। এভাবে ভয়ভীতি, শঙ্কা ও আতঙ্কের পরিবেশ বজায় রেখে গণপ্রতিবাদকে চাপা দিয়ে রাখাটাই হচ্ছে তাদের মূল লক্ষ্য। সরকার ভক্ষকের ভূমিকা গ্রহণ করার জন্যই বাংলাদেশে মানুষের জীবন-জীবিকা এখন ভয়ংকর নিরাপত্তাহীনতায় বিপন্ন। জনসমর্থনহীন ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতেই অপরাধ ও অপরাধীদের সহযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছে এই সরকার। তাই জনসমাজে সন্ত্রাসীদের শাসনই সর্বত্র বিরাজমান।'

খালেদা জিয়া বিবৃতিতে আরও বলেন, 'চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজারে পাহাড় ধসে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুতে ওই এলাকাগুলোর বিপন্ন মানুষগুলো এখন শোকে-দুঃখে ম্রিয়মান। হাজার হাজার আহত মানুষের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। উপদ্রুত মানুষ বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা না থাকায় অভুক্ত ও অসুস্থতায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বিদ্যু ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে ওই এলাকাগুলোয় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপদ্রুত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সরকারপ্রধান বিদেশ সফরেই সময় কাটিয়েছেন। দুর্গত এলাকার অসহায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভ্রক্ষেপহীন থেকেছেন সরকারপ্রধান। বাংলাদেশের জনগণকেই আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় দুশমন মনে করে। সেজন্য বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্ভোগে নিপতিত মানুষের পাশে আওয়ামী সরকার কোন সময়ই দাঁড়ায়নি। এরা জনগণের বিপদে ও কষ্টে আনন্দ লাভ করে।'

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved