শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ০২:১০:৫৭

খাল ভরাট করে ফের চলছে মার্কেট নির্মাণ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত
অমিতোষ পাল

উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে আবারও চলছে খাল ভরাট। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল শপিং কমপ্লেক্স। ফলে খালটি স্থায়ীভাবে হারাতে বসেছে। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও কোনো গা করছে না।



জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে শুরু হয় খালটির ভরাট কার্যক্রম। পরে শুরু হয় ১৭ তলাবিশিষ্ট 'মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতি শপিং কমপ্লেক্স'-এর নির্মাণ কাজ। এর আগে খালের জায়গায় দেয়ালও দেওয়া হয়। এ নিয়ে গত বছর ২ নভেম্বর সমকালে 'ঢাকার আরেকটি খাল মৃত্যুমুখে/ভরাট করে হচ্ছে শপিং কমপ্লেক্স' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর একই বছরের ৩০ নভেম্বর খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতির ভবনের নির্মাণ কাজ ও মাটি ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত। জনস্বার্থে করা ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়ে রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী চলতি বছর ২৩ জানুয়ারি স্থিতাবস্থা (স্টাটাসকো) জারি করেন। অর্থাৎ হাইকোর্টের নির্দেশে যেভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে, সেভাবেই থাকবে। কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ করা যাবে না। উচ্চ আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞার পর কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। এর পর সমবায় সমিতি কর্তৃপক্ষ আবারও মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু করে। যা আদালত অবমাননার শামিল। সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, সেখানে নির্মাণযজ্ঞ চলছে। পাইলিংয়ের কাজ শেষ হতে চলেছে। পাইলিংয়ের ভারী যন্ত্রপাতি, রড, পাইপ ইত্যাদি নির্মাণসামগ্রী সেখানে রয়েছে।



সরেজমিন দেখা যায়, আগারগাঁও-শ্যামলী লিংক রোডের বাংলাদেশ বেতারের পাশ দিয়ে মিরপুরের দিকে চলে যাওয়া ৬০ ফুট প্রশস্ত সড়ক ধরে তিনশ' ফুট এগোলেই তিতাস গ্যাসের প্রধান কার্যালয়ের নবনির্মিত বহুতল ভবন। এর আগেই রাস্তার পশ্চিম পাশ দিয়ে চলে গেছে খালটি। কিছুদূর এগিয়ে বাঁয়ে বাঁক নিয়ে খালটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। সেখানে এক পাশে তৈরি হচ্ছে মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতি শপিং কমপ্লেক্স। তাদের দেওয়া দেয়ালের পাশে খালের দু'ফুটের মতো জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। অন্য অংশে এখনও ২০-২৫ ফুট প্রশস্ত খাল রয়েছে। ওই এলাকায় ৩০ ফুট প্রশস্ত খাল ছিল বলে ওয়াসা ও এলাকাবাসী জানায়। খালটি ভরাট করে শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশিত হতে পারছে না। বৃষ্টি হলেই পানি উপচে আশপাশের আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ছে। অথচ আগে এলাকার পানি এই খাল দিয়ে কল্যাণপুর খালে গিয়ে পড়ত।



উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের প্রকল্প পরিচালক ক্যা সা সিং সমকালকে বলেন, ওই খালের পাড়ে পূর্ত বিভাগ মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতিকে একটি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল ১৯৮৪ সালে। এর পাশেই ওয়াসার ৩০ ফুট প্রশস্ত একটি খাল আছে। বছর দেড়েক আগে ওয়াসা খালটি সংস্কার করতে গেলে সমবায় সমিতি একটি কাগজ দেখায়। তারা খালের জায়গারও মালিক বলে দাবি করে। যে কারণে খালের অন্যান্য অংশ খনন করা সম্ভব হলেও ওই অংশ খনন করা যায়নি। সমকালে প্রতিবেদন ছাপা হলে আদালত নির্মাণ কাজের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। তারপর তারা কাজ শুরু করেছে কি-না জানা নেই।



এ প্রসঙ্গে মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী বেলায়েত হোসেন বলেন, আদালত স্থগিতাদেশ দিলেও তারা আবেদন করার পর আদালত সব নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে দিয়েছেন। এ জন্য তারা আবার নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, তারা খালের জায়গায় মার্কেট তৈরি করছেন বলে যেটা বলা হচ্ছে, সেটা ভুয়া তথ্য।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved