শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৭, ১৯:৪০:০৪ | আপডেট : ০৩ জুন ২০১৭, ১৯:৪৩:২৫

'হ্যান্ডসেটে শুল্ক বৃদ্ধিতে চোরাচালানীদের রাজত্ব কায়েম হবে'

বিশেষ প্রতনিধি
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি দেশের বাজারে চোরাচালানীদের রাজত্ব কায়েম করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোবাইল ফোন আমদানিকরাকরা।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েসনের (বিএমপিআইএ) নেতারা বলেন, নবম বৃহৎ মুঠোফোন ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার স্থানীয়ভাবে মুঠোফোন উৎপাদন সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা ইতিবাচক। কিন্তু এখন পর্যন্ত শতভাগ আমদানি নির্ভর হওয়ায় মুঠোফোনে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব আমদানিকারকদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এতে মুঠোফোন বাজারে চোরাচালান উৎসাহিত হবে, সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে এবং অসম প্রতিযোগিতার ফলে বৈধ আমদানিকারকরা ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে আমদানিকারকরা বলেন, করনীতি বিনিয়োগ সহায়ক হলে স্যামসাং, নোকিয়া, আইফোনসহ একাধিক আর্ন্তজাতিক ব্র্যান্ড ও স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো দেশে উৎপাদন শুরু করবে এবং আগামী তিন বছরেই মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ হ্যান্ডসেট দেশেই উৎপাদন সম্ভব হবে।

তারা অন্তত একবছর হ্যান্ডসেট আদমদানিতে আগের বছরের কর কাঠামো বহাল রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তারা বর্তমানে সর্বাধিক ব্যবহৃত কম্পিউটিং ডিভাইস হিসেবে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের শুল্ক সুবিধা দেওয়ারও আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএমপিআইএ এর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব। উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহসভাপতি আমিনুর রশীদ, রাকিব উল কবীর, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শহীদ, যুগ্মসম্পাদক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক ও এ টি এম মাহবুবুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমপিআইএ নেতারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের কোনো উৎপাদন বা সংযোজন শিল্প নেই। বিএমপিআইএ এর অনেক সদস্য প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মুঠোফোন শিল্প স্থাপনের জন্য আগ্রহী। আমদানিকারকদের অনেক দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার মুঠোফোন খুচরা যন্ত্রাংশের এইচ এস কোড প্রণয়ন করেছে। যেহেতু মুঠোফোন উৎপাদন একটি প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প এবং বাংলাদেশে এর দক্ষ শ্রমিকের অভাব আছে, তাই দেশে সংযোজনকারী শিল্প ও দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার জন্য ন্যূনতম একবছর সময় প্রয়োজন।

তারা বলেন, বর্তমানে দেশে মোট মোবাইল ফোন আমদানির ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অবৈধভাবে আমদানি হয়। এ অবস্থায় সংযোজন শিল্পে শুল্ক দশ শতাংশ এবং সরবরাহকারী পর্যায়ে ভ্যাট আরোপ করা হলে অবৈধভাবে মুঠোফোন আমদানি উৎসাহিত হবে, যার বিপরীতে সংযোজনকারী শিল্প প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়বে। এ কারণে সংযোজন শিল্পে শুল্ক দশ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তারা।

নেতারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ইন্টারনেট। বর্তমানে ১৩ কোটি মোবাইল গ্রাহকের মধ্যে ৭ কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করছে। মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৭ শতাংশ গ্রাহকই মোবাইল ইন্টারনেটের মাধমে এ সেবা গ্রহণ করে। যেহেতু স্মার্টফোনের মাধ্যমে গ্রাহকরা কম্পিউটারের সব সুবিধা নেয়, সেহেতু সরকার কম্পিউটার পণ্যের সঙ্গে স্মার্টফোন ডিভাইসের শুল্ক সামঞ্জস্য করলে তা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।

বিএমপিআইএ সংশ্লিষ্টরা জানান, মোবাইল ফোন ইর্ম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন দেশেই মুঠোফোনের শিল্প স্থাপনের অবকাঠামো তৈরির নিমিত্তে আগামী তিন অর্থবছরে সংযোজনকারী শিল্পের খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক পাঁচ শতাংশ আমদানির ক্ষেত্রে অন্তত আগামী এক বছরের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শুল্ক ও মূসক নীতিমালা বলবৎ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে চেরাচালানীদের কাছে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসহায় পড়বে। সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যেই মোট বিক্রয়ের ৯০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। 

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved