শিরোনাম
 খালেদার বিরুদ্ধে কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে  সরিয়ে ফেলা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন অ্যানেক্স ভবনের সামনে  শিরোপা দিয়ে এনরিকেকে বিদায় বার্সার  চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ আর্সেনালের
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০১:৪৫:১৯ | আপডেট : ২০ মে ২০১৭, ১৫:১২:৪৯

অগ্রগতি কম হলেও মেগা প্রকল্প নিয়ে আশাবাদ

৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
আবু কাওসার

চলতি অর্থবছরে মেগা প্রকল্পের জন্য প্রথম আলাদা বাজেট ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে একমাত্র পদ্মা সেতু ছাড়া অন্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। তারপরও উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আসন্ন বাজেটে মেগা প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ১০ মেগা প্রকল্পে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর অর্ধেকই ব্যয় হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুতে। চলতি বাজেটে (২০১৬-১৭) এসব মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে রূপপুর প্রকল্প এককভাবে ১০ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা পাচ্ছে। চলতি বছর বরাদ্দ ছিল

মাত্র ৬১৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে এবার বরাদ্দ থাকছে পাঁচ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ছয় হাজার ২৬ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত সেতুর কাজের ৪৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী বাজেটেও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে। সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর কিছু সমস্যার কারণে মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। আগামী বাজেটে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য অর্থ বিভাগে আলাদা তদারকি সেল খোলা হবে। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে আগামীতে বাস্তবায়নে গতি আসবে।

মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে এক বছর শেষ হতে যাচ্ছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিন লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন, যার সংস্থান হবে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ মেগা প্রকল্পের অর্ধেক এখনও কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, পদ্মা রেল সংযোগ, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। দাতারা প্রতিশ্রুতি দিলেও এসব প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি এখনও। কিছু প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, টেন্ডারসহ নানা জটিলতাও রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে সরকারের লক্ষ্য প্রবৃদ্ধির হার ক্রমে দুই অঙ্কের ঘরে নিয়ে যাওয়া। এ জন্য ক্রমান্বয়ে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে পথনকশা তৈরি করছে সরকার।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদ বলেন, জিডিপির গতি ত্বরান্বিত করতে হলে বড় অবকাঠামো প্রকল্প প্রয়োজন। সেদিক থেকে বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য ভালো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অর্থায়ন। এ ছাড়া বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই। আমাদের বাস্তবায়নের সামর্থ্য কম।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, যা কঠিন। বিকল্প হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কিন্তু সেটিও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এসব বিবেচনায় অর্থ জোগান দেওয়া কঠিন হবে।

বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের চিত্র :সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে আগামী বাজেটে মেট্রোরেলে তিন হাজার ৪২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৬৫ কোটি টাকা। ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) দেবে ৭০ শতাংশ অর্থ। বাকিটা বাংলাদেশ সরকারের। ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে আগামী বাজেটে বরাদ্দ থাকছে সাত হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে ছিল চার হাজার ১০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত আট মাসে ব্যয় হয় মাত্র ৫৬৬ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এর ৯০ ভাগ অর্থায়নের কথা চীনের। চীন এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

দোহাজারী-গুনদুম রেল প্রকল্পে এবার এক হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বছর বরাদ্দ ছিল ৬১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয় ৪২২ কোটি টাকা। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিবির দেওয়ার কথা ১৪ হাজার কোটি টাকা।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে দুই হাজার ২২০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে ছিল দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বরাদ্দের সব অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে বলে জানা যায়।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য পিপিপির ভিত্তিতে নির্মাণ করা হবে সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার এলএনজি টার্মিনাল। আগামী বাজেটে এ প্রকল্পে ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এর কাজ শুরু হয়নি।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাক্কলিত ব্যয় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে দুই হাজার কোটি খরচ হয়ে গেছে। এ প্রকল্পে আগামী বাজেটে কী পরিমাণ বরাদ্দ থাকছে, তা জানা যায়নি।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved