শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০১:৪১:৩৭

জামায়াতের নজর নির্বাচনে সংস্কারে নয়

রাজীব আহাম্মদ

রাজনৈতিক দল হিসেবে 'জামায়াতকে এখন আগামী দিনের কথাই ভাবতে হবে। জামায়াতকে ভোটারদের মুখোমুখি হতে হবে। ভোটের জন্য তৈরি হতে হবে।' কথাগুলো সমকালকে বলেছেন দলটির রাজনীতির পর্যবেক্ষক ও শুভানুধ্যায়ী, সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান। মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের পরিণামে পর্যুদস্ত জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক-সাংগঠনিক অবস্থা, কৌশল ও লক্ষ্য সম্পর্কে তার সঙ্গে কথা হয়।



ছাত্রশিবিরের সাবেক এক সভাপতি বলেন, 'যুদ্ধাপরাধের বিচার এখন অতীতের বিষয়। এ নিয়ে জামায়াতের কিছু করার নেই। বরং সামনের দিকে তাকাতে হবে।' ইতিমধ্যে সে কাজ শুরুও হয়েছে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের ভেতরে-বাইরে অনেক আলোচনা হলেও বর্তমান নেতৃত্বে দলটিতে সংস্কার আনার কোনো সম্ভাবনা এখন নেই। যেমন, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানোর ফলে নতুন কোনো নামে দল গঠন, অন্য দলের প্রতীক নিয়ে ভোটে দাঁড়ানো এবং ১৯৭১-এর রাজনৈতিক ভুল স্বীকার তথা পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে কাজ করার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা দলটি ভাবছে না। জামায়াত পুরনো নীতি-আদর্শেই পরিচালিত হবে। মানে, জামায়াতের মনের কোনো পরিবর্তন হয়নি।



সাত বছর দলটিকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে যুদ্ধাপরাধের বিচার মোকাবেলায়। ২০১০ সালের জুনে প্রধান নেতারা গ্রেফতার হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে দণ্ড এবং সর্বোচ্চ আদালতে আপিল ও রিভিউ প্রভৃতি বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৬-এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ফাঁসি কার্যকর হয় দলের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর। বিচার চলাকালে কারাগারে মৃত্যু হয় সাবেক আমির গোলাম আযম ও সিনিয়র নায়েবে আমির একেএম ইউসুফের। নায়েবে আমির আবদুস সুবহান ও এটিএম আজহারের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

গুরুত্বে পুনর্গঠন :নিজামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মকবুল আহমাদ। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল, এ দুই বছরে জামায়াত যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে একের পর এক হরতাল ডাকে। এতে সহিংসতায় জামায়াতের অবশিষ্ট নেতারা অসংখ্য মামলার আসামি হয়েছেন। বহু কর্মী নিহত ও পঙ্গু হয়েছেন। সহিংসতার অভিযোগে দেশে-বিদেশে সমালোচিত হয়েছে দলটি। নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছে। ২০ দলে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও একের পর এক নেতাদের ফাঁসির সময় বিএনপিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী কাছে না পেয়ে জামায়াত এক রকম একঘরে হয়ে পড়ে।



জামায়াত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিলেও জামায়াত বহু আগে থেকেই ৪৩টি আসনকে 'টার্গেট' করে কাজ করছে। প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। এসব এলাকায় জামায়াতের 'ভোট ব্যাংক' রয়েছে। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনেও এসব এলাকায় জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এখন অবশ্য প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিবর্তে পাঠচক্র, দারসে হাদিস প্রভৃতি ঘরোয়া কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মী ও সহযোগী সদস্যদের সক্রিয় রেখে দল পুনঃসংগঠিত করা হচ্ছে।

নিবন্ধন ও প্রতীকের জন্য :২০১৩ সালের ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে জামায়াত। তবে এ নিয়ে সাড়ে তিন বছরেও তারা আর আদালতে যায়নি। জামায়াত নেতাদের অভিমত, বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালতের রায় তাদের পক্ষে আসবে না। আগামী বছরের শেষদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তখনই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চের সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন প্রতীকের তালিকা থেকে 'দাঁড়িপাল্লা' বাদ দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল এ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দলটির সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পরই এ বিষয়ে আইনি লড়াইয়ে নামবে জামায়াত।



নিবন্ধন বাতিলের পর জামায়াতের সামনে দুটি বিকল্প ছিল :অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া। দ্বিতীয় বিকল্পই বেছে নিয়েছে দলটি। বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপির প্রতীক না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন জামায়াত নেতারা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হন জামায়াত সমর্থিতরা। আগামী সাধারণ নির্বাচনেও একই ধারা বজায় থাকবে।

সংস্কার নয় :বহুদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে_ নতুন নামে নতুন নেতৃত্বে দল করবে জামায়াত। একাধিক সম্ভাব্য নামও শোনা গেছে। তবে জামায়াতের দায়িত্বশীল পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানান, চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত নতুন নামে দল গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তদের ধারণা, সরকার তাদের মাঠে নামার সুযোগ না দিলেও নিষিদ্ধ করবে না।

ছাত্রশিবিরের সাবেক এক প্রচার সম্পাদক বলেন, নতুন নেতৃত্বে যারা এসেছেন তারা নিজামী-মুজাহিদেরই উত্তরসূরি। ২০১০ সালে নিজামী-মুজাহিদরা যেভাবে জামায়াতের সংস্কারের বিরোধিতা করেছিলেন, তারাও একইভাবে বিরোধিতা করেছিলেন। তারা পুরনো পথেই চলবেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved