শিরোনাম
 খালেদার বিরুদ্ধে কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে  সরিয়ে ফেলা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন অ্যানেক্স ভবনের সামনে  শিরোপা দিয়ে এনরিকেকে বিদায় বার্সার  চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ আর্সেনালের
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০১:৩৮:২৭

গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান

জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস সম্মেলন শুরু
সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ব গণহত্যাবিরোধী প্রচার চালিয়ে যাবে। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় 'বাংলাদেশ জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস' আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এবারের সম্মেলন থেকে বিশ্বের কাছে একটি বার্তা পেঁৗছে দেওয়া হবে_আর কখনোই কোথাও গণহত্যা, গণনিষ্ঠুতার পুনরাবৃত্তি নয়।

গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গড়ার আহ্বান জানিয়ে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এই সম্মেলনের আয়োজন করল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 'আর কখনও কোথাও গণহত্যা নয়'_স্লোগানে শুরু হওয়া তিন দিনের এ সম্মেলনে ১২ দেশের বিশেষজ্ঞসহ ৬৪ জন প্রতিনিধি অংশ

নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, জিয়াউদ্দিন তারেক আলী, গণহত্যার বিচার বিষয়ে গবেষক যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক আলেকজান্ডার হিল্টন, আর্জেন্টিনার বিচারক কার্লোস রোজান্সকি এবং আন্তর্জাতিক আর্কাইভ কাউন্সিলের সদস্য ড. ট্রুডি এইচ পিটারসন।

সম্মেলন উদ্বোধন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচারের প্রেক্ষাপট ও সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে গণহত্যার বিচার সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক দূত স্টিফেন জে র‌্যাপ ২০১৪ সালে ঢাকায় এসে এই বিচার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চাপমুক্ত ও হুমকিমুক্ত পরিবেশে হচ্ছে বলে বর্ণনা করেন। এই বিচারকার্য একটি ভালো দৃষ্টান্ত এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি। আর দক্ষিণ এশিয়া গণতান্ত্রিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা পাওলো কাসাকা বলেছেন, তিনি নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে, কিন্তু অপরাধীদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আইনের আওতায় সর্বোচ্চ সাজা হলে অবশ্যই এ সাজার পক্ষে তার অবস্থান ইতিবাচক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, (গণহত্যায় নিহতদের) স্মরণ করা আমাদের কর্তব্য; এটা সামাজিক, নৈতিক বাধ্যবাধকতা। অতীতের গণহত্যা স্বীকার করা, ঘটনা পরম্পরা চিহ্নিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার নিশ্চিত করা শুধু তাদের সম্মানিত করাই নয়, এটা এ ধরনের অপরাধ যেন আর না হয় সে বিষয়ে আমাদের সদিচ্ছাও প্রকাশ করে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ব্যবস্থায় এক 'নতুন আদর্শ' প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক আলেকজান্ডার হিল্টন বলেন, বিশ্বে দুই ধরনের গণহত্যা আছে। একটা গোপনীয় এবং অন্যটি প্রকাশ্য গণহত্যা। প্রকাশ্য গণহত্যার বিচার অনেক দেশেই হয়েছে; কিন্তু অনেক দেশে গোপনীয় গণহত্যার ঘটনা রয়েছে, যেগুলো আলোতে আসা এবং বিচার হওয়া উচিত।

আর্জেন্টিনার বিচারক কার্লোস রোজান্সকি বলেন, অপরাধ সংঘটনের বহু বছর পর বিচার শুরু হলে তা সম্পাদন করা অনেক কঠিন। সেই কঠিন কাজ বাংলাদেশ সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, দেশ ভিন্ন হলেও দূরত্ব এবং ঘটনার সময়ের ভিন্নতা থাকলেও অপরাধের ধরন সর্বত্র প্রায় একই। তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই বিচার ব্যবস্থার সৌন্দর্য নিহিত।

ড. ট্রুডি এইচ পিটারসন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবনের স্থাপত্যকলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইতিহাস কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। ইতিহাসের পাতা কখনও রক্তাক্ত হয়, কখনও সোনালি আভায় উজ্জ্বল থাকে। কিন্তু ইতিহাস যখন জাগ্রত থাকে, তখন তা ভবিষ্যতের জন্য আলো হয়ে পথ দেখায়।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাংলাদেশের মানুষের গৌরবগাথা আর অপরিসীম আত্মদানের উত্তরাধিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ওপর একাত্তরে কী ভয়াবহ গণহত্যা, গণনিষ্ঠুরতা চালিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী, সেই চিত্র তুলে ধরে গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানই এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বকে জানানো হবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিনটি সেশন চলবে। প্রথম সেশনে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের ওপর আলোচনা করবেন জার্মানির ক্যাথরিনা হোফমান, যুক্তরাষ্ট্রের আলেকজান্ডার হিনটন, আর্জেন্টিনার ডানিয়েল ফেইরসটেন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক এডাম জনস। দ্বিতীয় সেশনে অংশ নেবেন ভারতের অনুরাধ রায়, কম্বোডিয়ার চহে ভিশথ, জাপানের মিনে ওয়াতানাবে, বাংলাদেশের ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন ও মনোয়ারা বেগম। সভাপতিত্ব করবেন ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক। তৃতীয় সেশনে অংশ নেবেন পিজুয়ার হোসেন, আর্জেন্টিনার কার্লোস রোজান্সকি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কম্বোডিয়ার ড. হেলেন জার্ভিস। সভাপতিত্ব করবেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

আগামীকাল সোমবার শেষ দিনের প্রথম অধিবেশনে অংশ নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রুডি এইচ পিটারসন, আলজেরিয়ার ড. বোরেফিস মোসা, বাংলাদেশের ড. এমএ হাসান ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। সভাপতিত্ব করবেন ড. হেলেন জার্ভিস। দ্বিতীয় সেশনে থাকবেন বেলজিয়ামের সিগফ্রায়েড ওলফ, কানাডার অধ্যাপক অ্যাডাম জনস, ভারতের আশীস নন্দী ও বাংলাদেশের ইমরান আজাদ। সভাপতিত্ব করবেন আবদুল হান্নান খান। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved