শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০১:৩৫:২১

২১ আসামি জামিনে মুক্ত মামলায় দীর্ঘসূত্রতা

শাহজালাল রতন, ফেনী

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ শনিবার। মামলার দীর্ঘসূত্রতায় ইতিমধ্যে প্রধান আসামিসহ ২১ জন জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছেন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হলে বাকি আসামিদের জামিন দিতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, সাক্ষীদের বিলম্ব উপস্থিতি, বৈরী আচরণ ও বাদী পক্ষের তদবিরের অনীহাই মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণ। অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একটি মহল হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও জামিনে মুক্ত থাকায় মামলা-সংশ্লিষ্টরা সন্ত্রস্ত। এই হত্যায় জড়িত ১১ আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ অবস্থায় মামলা নিয়ে হতাশ বাদীর পরিবার।

ফেনী শহরের একাডেমি সড়কের বিলাসী সিনেমা হলের সামনে ২০১৪ সালের ২০ মে বেলা ১১টায় একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে একরামুল হক একরামের গাড়ি অবরোধ করে তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা প্রথমে একরামকে কুপিয়ে আহত করে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে একরামের গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একরামের ভাই জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে জেলা তাঁতী দলের সভাপতি মিনার চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৮ আগস্ট ফেনী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ৫৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন। ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

চাঞ্চল্যকর একরাম হত্যার ঘটনার পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমতে শুরু করে। আদালতের একাধিক আইনজীবী পুলিশের অভিযোগপত্রকে ভুলে ভরা বলে আখ্যায়িত করেন। অনেক সাক্ষী আসামি পক্ষের লোক বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বারবার তাদের আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সমন জারি করা হলেও অধিকাংশ ধার্য তারিখে তারা অনুপস্থিত ছিলেন।

তিন বছরের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়তি সুবিধা পায় গ্রেফতারকৃত আসামিরা। মামলার প্রধান আসামি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার, ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ হোসেনসহ ২১ জন এরই মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তবে জাহিদ হোসেনকে অন্য একটি অস্ত্র মামলায় পরে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন খান বলেছেন, মামলার বাদী একরামের ভাই জসিম উদ্দিন ৫৬ আসামির মধ্যে ৩-৪ জনের নাম উল্লেখ করে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ৪৭ সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিলেও কেউ আসামিদের নাম উল্লেখ করেননি। পিপি হাফেজ আহাম্মদ স্বীকার করেছেন, সাক্ষীদের আচরণ ও আদালতে দেওয়া বক্তব্য বৈরী হওয়ায় মো. বেলাল হোসেন, আবদুল করিম, আনোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিনকে বৈরী ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলেন, মোবাইল ফোনে ধারণ করা মামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ, যা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বার বার প্রদর্শিত হয়েছে তা সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল। ভিডিও ফুটেজে একরামের ওপর হামলা, গুলি, ছুরিকাহত ও আগুন লাগানোর দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন টিভি দর্শকরা। এই ভিডিওকে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে অজ্ঞাত কারণে আদালতে উপস্থাপন করেনি পুলিশ।

পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেছেন, অজ্ঞাত কারণে একরামের ভাই বাদী জসিম উদ্দিন, একরামের স্ত্রী তাসমিম আক্তার মামলার ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে বিরত রয়েছেন। মামলার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন আসামি এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

পিপি আরও বলেন, আসামিদের মধ্যে ১৭ জন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এ জবানবন্দিই মামলা প্রমাণে ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব বলে তিনি জানান। এদিকে মামলার বাদী জসিম উদ্দিন ও বাদীর পরিবার চরম হতাশায় রয়েছেন। তারা বলেছেন, বিভিন্ন কারণে তাদের পক্ষে মামলার খোঁজ-খবর নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved