শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০০:২৭:৪৬
ট্র্যাকে না নামার নতুন নজির দেশের ক্রীড়াঙ্গনে

এ দায় কার

ক্রীড়া প্রতিবেদক
সাইক সিজারের পর আলিদা শিকদার। আন্তর্জাতিক ইভেন্টে একটি পদকের আশায় দেশি অ্যাথলেটদের উপেক্ষিত করে বিদেশি ধনীর দুলালিদের দ্বারস্থ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। কিন্তু ফলশূন্য; বরং বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বড় ইভেন্টে নামিয়ে সমালোচিত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ রিও অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জিমন্যাস্টস সাইজ সিজারকে পাঠিয়েছিল বিওএ। একটি পদকও এনে দিতে পারেননি তিনি। তবুও একটা স্বস্তি যে, পদকের লড়াইয়ে নেমেছিলেন সিজার; কিন্তু ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ট্র্যাকেই না নেমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন নজির গড়েছেন আরেক ধনীর দুলালি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি আলিদা শিকদার। মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের পর লং জাম্পেও অংশ নেননি তিনি। পদক জয়ের আশায় আলিদাকে আজারবাইজানে পাঠিয়ে দেশকে লজ্জায় ডুবিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। এ দায় কার? দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে ট্রায়ালে সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আলিদাকে আজারবাইজানে পাঠিয়ে যেন ভ্রমণবিলাস করিয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংস্থা। দুই ইভেন্টের একটিতেও না খেলে ভ্রমণ শেষে বাকু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন তিনি।

সারা বছর দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার পর আন্তর্জাতিক বড় ইভেন্টে খেলতে না পারার আক্ষেপটা সবারই আছে। দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারেরও আছে। হয়তো তখন বিওএ চূড়ান্ত করায় আর কিছু বলার ছিল না তার। তবুও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন চাইলে একটা ট্রায়ালের আয়োজন করত। যেটি করেছিল ছেলেদের ইভেন্টে। সেখানে দ্রুততম মানব মেজবাহ আহমেদকে হারিয়ে বাছাইয়ে সেরা হয়ে বাকুতে গিয়েছিলেন অ্যাথলেট আবদুর রউফ। এ সুযোগটা শিরিন পাননি বিওএর পদকের আশায়। যেটা সবারই থাকে; কিন্তু দেশের অ্যাথলেটদের বঞ্চিত করে লাভ কী হলো? সেই উত্তর বিওএর কর্মকর্তা এবং বাকুতে যারা আছেন, তারাই বলতে পারবেন। তবে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মিন্টু যুক্তি দেখালেন অন্যভাবে, 'আমি যোগ দেওয়ার আগেই আলিদাকে চূড়ান্ত করেছিল অলিম্পিক কমিটি। আর অলিম্পিক আমার অভিভাবক। তারা দেখেছে আলিদার রেজাল্ট ভালো, তাই তাকে নিয়েছে। আমিও মেয়েটার সঙ্গে দেখা করেছি। তাকে উৎসাহ দিয়েছি যে, তুমি দেশের জন্য খেলতে যাচ্ছ, আশা করি ভালো কিছুই করতে পারবে।' সলিডারিটি গেমসে কিছুই তো করেননি আলিদা। ট্র্যাকে নামার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন গাজীপুরের এ মেয়ে। নাকি পদকের লড়াইয়ের নামার মতো সাহস ছিল না ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা এ অ্যাথলেটের। তা অবশ্য মনে করেন না অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, 'সে ওখানে কলেজ চ্যাম্পিয়ন। ওখানে ভালো একটা একাডেমিতে ট্রেনিং করছে; কিন্তু সে খেলতে নামেনি অসুস্থতার কারণে। অন্তত আমি এটুকুই জানি। এখান বাংলাদেশে আসার পর আমার ম্যানেজার একটা রিপোর্ট দেবেন। প্রথম দিন যখন ১০০ মিটার করেনি, তখন তার বাবা বলেছিলেন সে অসুস্থ। দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে অসুস্থ হয়ে গেছে।' শিরিনকে না নেওয়ার দায়টা মন্টু চাপিয়ে দিলেন অলিম্পিকের ওপরে, 'শিরিনকে কেন নেওয়া হয়নি এটার ভালো জবাব অলিম্পিক দিতে পারবে। কারণ এটা আমার ফেডারেশনে আসার আগে হয়েছে। আমাদের অভিভাবক অলিম্পিক, ওরাই সেরা মনে করেছে, তারাই নিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ তাদের সিদ্ধান্ত। আমি যতদূর জানি, শিরিনের বর্তমান যে রেকর্ড রয়েছে, তার চেয়ে নাকি আলিদারটা ভালো।'

ক্রীড়ঙ্গনে গুজন উঠেছে, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগের কমিটিই আলিদাকে চূড়ান্ত করেছিল। যে কারণে নতুন কমিটি আসায় আলিদাকে খেলার সুযোগ দেয়নি। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুর রকিব মন্টু, 'যদি আগের কমিটির হিসাব করত তাহলে আলিদাকে তো পাঠানোই হতো না। ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করে তো আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে যেতাম না। আমি আলিদার জন্য অনেক কিছু করেছি। এটা ভুল ধারণা। চেয়ার বদলালে যে সব কিছু উল্টে যাবে তা তো নয়। কাজের ধারাটা চলবেই।' আলিদা কেন আজারবাইজানে পাঠানো হলো সে কথাটি বললেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, 'আসলে আমাদের অনেক বড় আশা ছিল। একটা মেয়ে ওখান থেকে এসেছে। আর আমাদের অ্যাথলেটিকসেরও কোনো কিছু পাচ্ছে না। তাই আশা করেছিলাম, দেশকে যদি কিছু এনে দিতে পারে সে। স্বর্ণ বা রৌপ্য নয়; যে কোনো একটা পদকের আশা করেছিলাম আমরা।'

কিন্তু পদকের বদলে বড় লজ্জাই পেল দেশ।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved