শিরোনাম
 লংগদুতে যৌথবাহিনীর অভিযানে একে-৪৭ রাইফেল-গুলি উদ্ধার  গাবতলীর পশুরহাটে ভয়াবহ আগুন  সিরাজগঞ্জে বাস- মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত ৪  নতুন ভ্যাট আইন ২ বছর স্থগিত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭ | আপডেট : ১৯ মে ২০১৭, ২৩:৩৯:৩৭

বাবা কাহিনী

শেখ রোকন


সৈয়দ মুজতবা আলীর 'চাচা কাহিনী' বিখ্যাত ও বহুল আলোচিত; নতুন করে সামনে এসেছে 'বাবা কাহিনী'। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় যেভাবে 'কতিপয় বাবা' প্রকাশ্য হয়েছেন, তা আগে কখনও দেখা গিয়েছে কি-না মনে পড়ে না। ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর বাবারা সাধারণত পরিচয় প্রকাশ্য করতে চান না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ বুক ফুলিয়ে সামনে চলে এসেছেন। বিশেষত একজন বাবা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা অভূতপূর্ব। বলা হয়ে থাকে, সমাজে খারাপ মানুষ অনেক থাকে; কিন্তু 'খারাপ বাবা' বলে কিছু নেই। সব বাবাই তার সন্তানের কাছে 'ভালো বাবা'। সব নেতিবাচক গুণ বাৎসল্যের স্রোতে ভেসে যায় সন্তানের সংস্পর্শে।

রেইনট্রিকাণ্ডে সবচেয়ে আলোচিত সাফাত আহমেদের বাবা। পুত্রের নিকৃষ্ট অপরাধেও লজ্জিত বা অনুতপ্ত হওয়া দূরে থাক, তিনি বুক ফুলিয়ে সংবাদমাধ্যমে বলছেন 'জোয়ান ছেলে' এমন করতেই পারে। এখানেই শেষ নয়, বলেছেন নিজেও একই পথের পথিক। সাফাতের মা-ও সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, বাবার উৎসাহ ও প্রশ্রয়েই বখে গেছে তার ছেলে। উপমহাদেশে 'বাপকা ব্যাটা' বলে একটি প্রবাদ চালু রয়েছে। এর সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়েছেন সাফাতের বাবা। তিনি যে অর্থবিত্তের জোরে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে কুণ্ঠা বোধ করেন না, নিজের ও ছেলের অপরাধকে বুক ঠুকে 'সঠিক' আখ্যা দিতে দ্বিধা করেন না, সেই স্বর্ণ ব্যবসা অবশ্য ছাইয়ে পরিণত হওয়ার জোগাড়। তার মালিকানাধীন আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শাখা থেকে শুল্ক গোয়েন্দারা সাড়ে তেরো মণ স্বর্ণ ও প্রায় আধা কেজি হীরা জব্দ করেছেন, যেগুলোর 'এক রতি' পরিমাণেরও বৈধতা নেই। অবৈধ ব্যবসা থেকে আসা অঢেল অর্থে টান পড়লে ধর্ষকের বাবার অপকীর্তির জোশ শুকিয়ে যেতে সময় লাগবে না। ভাবমূর্তির ক্ষতি তো আছেই।

ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে ঘটনাস্থল রেইনট্রি হোটেলেরও। যদিও এখন কর্তৃপক্ষ তাদের দায় অস্বীকার করছে; প্রথম দিকে হোটেলটির অবস্থান ধর্ষকদের পক্ষেই গেছে। এর ফলে প্রায় নতুন হোটেলটির ব্যবসায় ধস নেমেছে। ইন্টারনেটে 'রেটিং' দ্রুত পড়ে গেছে। লক্ষণীয়, ওই রাতে অভিযুক্তরা ওই হোটেলে বসে যে ইয়াবা সেবন করে, তারও কিন্তু 'বাবা' নামে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলের মালিক ধর্ষকদের বন্ধু। প্রথম দিকে বলা হচ্ছিল, দক্ষিণাঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য এর মালিক। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার সন্তানরা এর পরিচালক। তিনি আসলে 'মালিকের বাবা'। বাংলা ভাষায় 'অমুকের বাবা' বলতে সাধারণত তার চেয়ে এক কাঠি সরেস বোঝানো হয়ে থাকে। তিনি কী বুঝিয়েছেন বোধগম্য নয়।

ধর্ষণে 'সহযোগিতা' করার জন্য অভিযুক্ত সাদমান সাকিফের বাবা অবশ্য প্রকাশ্যে কথাবার্তা বলছেন না। কিন্তু তার বাবা নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল প্রথমে। বলা হয়েছিল, তার বাবা রাজধানীর নামি একটি রেস্টুরেন্টের মালিক। আবার ওই রেস্টুরেন্টের মালিকদের একজন বহুল আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢেউ ওঠার পর ওই কর্মকতার মেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই জানান, তার একমাত্র ভাই বিদেশে প্রবাসী। পরে স্পষ্ট হয়- সাকিফের বাবা ওই রেস্টুরেন্টের মালিকদের একজন, একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী। বিভ্রান্তি কাটে সাকিফের বাবা নিয়ে।

তবে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি তৈরি করেছে আরেকজন অভিযুক্ত 'নাঈম আশরাফ'। পরে জানা যায়, তার নাম আসলে 'আবদুল হালিম'। বন্ধুর নামকে নিজের নাম ও বন্ধুর রাজনীতিক বাবাকে নিজের বাবা হিসেবে চালিয়ে আসছিল বিভিন্ন জায়গায়। এমন আরও অনেক 'প্রভাবশালী বাবা' সুবিধামতো উপস্থাপিত হন। কেউ একজন বাংলা শব্দার্থ না বুঝে 'কতিপয় বাবা' লিখেছিল; আর নাঈম বা হালিম সজ্ঞানে বহু বাবা গ্রহণ করেছে। যদিও সবাই তাকে ছেলে মানতে ইতিমধ্যে অস্বীকার করেছেন। একজন 'গডফাদার' অবশ্য সবকিছু সত্ত্বেও কথিত নাঈম আশরাফের পক্ষে, সহযোগী একটি দৈনিকের খবর। এই বাবার পরিচয় জানতে পারলে 'বাবা কাহিনী' পূর্ণ হতো বৈকি! কোনো সংবাদমাধ্যম বা আইন-শৃঙ্খলা সংস্থা কি এগিয়ে আসবে?

skrokon@gmail.com


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved