শিরোনাম
 খালেদার বিরুদ্ধে কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে  সরিয়ে ফেলা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন অ্যানেক্স ভবনের সামনে  শিরোপা দিয়ে এনরিকেকে বিদায় বার্সার  চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ আর্সেনালের
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ০১:৪২:১৬

কয়েকদিন ঢাকাতেই লুকিয়ে ছিল হালিম

৭ দিনের রিমান্ডে
সমকাল প্রতিবেদক, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

রাজধানীর বনানীতে হোটেল রেইনট্রির কক্ষে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত অন্যরা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে গেলেও প্রথম কয়েকদিন ঢাকাতেই আত্মগোপনে ছিল নাঈম আশরাফ নামধারী আবদুল হালিম ওরফে হাসান মোহাম্মদ হালিম। ১১ দিনের মাথায় গত বুধবার রাতে তাকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরই মধ্যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম ঘটনার দিন এক তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ৬ মে বনানী থানায় মামলা দায়েরের পরপরই সে পালিয়ে যায়। প্রথমে দুই দফায় আলোচিত এই ধর্ষণ মামলার এক নম্বর

আসামি আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। সবশেষে গ্রেফতার হলো নাঈম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চতুর নাঈম প্রথম কয়েকদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে তার এক বন্ধুর কাছে আত্মগোপনে ছিল। সেখানে অধিকাংশ সময় সে শুয়ে-বসে ও ঘুমিয়ে কাটায়। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে মুন্সীগঞ্জে আশ্রয় নেয়। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে আরও তথ্য বের করা হবে। নাঈম জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, যে তরুণীর সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে তার সঙ্গে ওইদিন প্রথম পরিচয় হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় সমকালকে বলেন, বনানীর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই গা-ঢাকা দেয় নাঈম আশরাফ। প্রথম কয়েকদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে এক বন্ধুর কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। এরপর সে মুন্সীগঞ্জে যায়। এ ঘটনায় রেইনট্রি হোটেলের কারও জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল দুপুরে নাঈম আশরাফকে ঢাকার আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ইসমত আরা এমি। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে নাঈমকে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। এ সময় রাজধানী মানবাধিকার সংস্থার পক্ষে সৈয়দ নাজমুল হুদা এবং মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে ফাহমিদা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছা গ্রামের আকুব আলীর একটি টিনের ঘরে চার দিন ধরে অবস্থান করছিল নাঈম। বুধবার রাত ৯টার দিকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ওই ঘর থেকেই তাকে গ্রেফতার করে ঢাকায় আনে। সেই ঘরটি একনজর দেখার জন্য গতকাল সকাল থেকে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে থাকে। আকুব আলীর ছেলের বউ আলেয়া বেগম সাংবাদিকদের জানান, তার ননদের জামাই নুরুল ইসলাম ৪ দিন আগে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসে বাড়িতে। নুরুল ঢাকায় পিকআপ ভ্যান চালায়। পুলিশ গ্রেফতারের পর বাড়ির লোকেরা জানতে পারেন তাদের অতিথি ধর্ষণ মামলার আসামি।

গত ৬ মে বনানী থানায় দায়ের করা এ মামলার এজাহারে বলা হয়, ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের আয়োজনে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। বাকি তিনজন তাদের সহযোগিতা করে।

হালিমের শাস্তি চান কাজীপুরবাসী : দিনমজুর ও ফেরিওয়ালার পুত্র 'নাঈম আশরাফ' নামধারী প্রতারক ও ধর্ষক আবদুল হালিম ওরফে হাসান মোহাম্মদ হালিমের গ্রেফতারের খবর শুনে স্বস্তি এসেছে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাবাসীর মধ্যে। নিজ গ্রাম গান্ধাইলে তার স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় গান্ধাইল আলী আহম্মদ হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার শাস্তি দাবি করেন। হালিমের চাচি শিখা খাতুন জানান, যদি হালিম প্রকৃতই দোষী হয়, অবশ্যই তার শাস্তি হবে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় সে বেঁচে গেছে। গ্রামবাসী এতটাই রুষ্ট ছিল যে, ধরতে পারলে গণপিটুনিতে সে মারা পড়ত।

নাঈম আশরাফের আসল নাম আবদুল হালিম। গান্ধাইল ইউনিয়নের দিনমজুর ও ফেরিওয়ালা আমজাদ হোসেনের ছেলে। প্রকৃত নাঈম গান্ধাইল ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল আলমের ছেলে। নিজ এলাকার চেয়ারম্যান ও তার ছেলের নাম যুক্ত করে হালিম নিজেকে নাঈম আশরাফ নামে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। ঢাকার কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে চাকরি করার পর সে 'ই-মেকার্স' নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খোলে। ২০১৪ সালে ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের আয়োজক ছিল ওই প্রতিষ্ঠান। একই প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালে ঢাকায় ভারতের আরেক শিল্পী নেহা কাক্কারকে নিয়ে 'নেহা কাক্কার লাইভ ইন কনসার্ট' আয়োজন করে। ফাঁদে ফেলে একাধিক তরুণীকে বিয়েও করে নাঈম।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved