শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ০১:৪১:১২

আদালতে দায় স্বীকার সাফাত-সাদমানের

বিশেষ প্রতিনিধি

অপরাধের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বনানীর হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ। সাফাত তার জবানবন্দিতে বলে, ঘটনার রাতে ওই হোটেলে হাসান আবদুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফও আরেক তরুণীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। সাফাত এও বলেছে, মদ খেয়ে সে নিজেও এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাদের আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ। সাফাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব। সাদমান সাকিফের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী। পরে তাদের

কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত।

সাদমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড গতকাল ও সাফাতের ছয় দিনের রিমান্ড আজ শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ মামলার অপর আসামি নাঈম আশরাফকে বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বনানীর ঘটনায় আরও দুই আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলীও রিমান্ডে রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় সমকালকে বলেন, বাদী যে অভিযোগ করেছিলেন, তা প্রমাণিত হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সাফাত ও তার সহযোগী সাদমান স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

দায়িত্বশীল সূত্রমতে, জবানবন্দি ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত জানায়, ঘটনার দুই সপ্তাহের বেশি আগে সাদমানের মাধ্যমে বাদীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর বাদীর সঙ্গে তার কয়েকবার ফোনে কথাও হয়েছে। তারা একসঙ্গে একাধিক দিন ঘুরেছে। ঘটনার দিন জন্মদিনের পার্টিতে নিমন্ত্রণ করা হয় তরুণীকে। প্রথমে সে আসতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সাফাত জানায়, চাইলে অন্য কোনো বন্ধু-বান্ধবকে সে নিয়ে আসতে পারে। এরপর ওই তরুণী তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীকে নিয়ে ঘটনার রাতে বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে যায়। রাতে একপর্যায়ে তারা মদ খাওয়ার আসর বসায়। ওই দিন বিকেলেও সাফাত ও নাঈম মদ খেয়েছিল। একপর্যায়ে এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে সাফাত। পরদিন তারা একসঙ্গে সুইমিংপুলে গোসল করে। এরপর প্রত্যেকে তাদের বাসায় ফিরে যায়। গাড়িতে তরুণীকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসে সাফাত। তবে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় অনুতপ্তের কথা জবানবন্দিতে বলেনি সাফাত।

১৪ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে সাফাত জানায়, ঘটনার রাতে হোটেলে মদের আসরের মূল আয়োজক ছিল নাঈম আশরাফ। ওই রাতে আরেক তরুণীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেছিল নাঈম।

সাফাত জানায়, তরুণী থানায় অভিযোগ করায় সে বিস্মিত হয়েছে। গোয়েন্দারা এরই মধ্যে তার মোবাইল ফোনসেট পরীক্ষা করে বেশ কিছু ছবি পেয়েছেন।

১০ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে সাদমান জানায়, তার মাধ্যমে সাফাতের সঙ্গে বাদীর পরিচয়। ঘটনার রাত আড়াইটার দিকে প্রথমে সে হোটেল ছাড়ে। এরপর সাফাতের অনুরোধে রাত সাড়ে ৪টার দিকে হোটেলে যায়। তখন দুই তরুণী তাকে বলে, তার বন্ধু সাফাত ও নাঈম তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে।

গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর 'দ্য রেইনট্রি' হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। ওই ঘটনায় গত ৬ মে আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও ই-মেকার্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পরিচালক নাঈম আশরাফ ওরফে হাসান আবদুল হালিমসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন এক ছাত্রী। মামলার অপর তিন আসামির একজন সাদমান সাকিফ 'রেগনাম গ্রুপে'র পরিচালক। চাঞ্চল্যকর মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট সেন্টার।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved