শিরোনাম
 খালেদার বিরুদ্ধে কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে  সরিয়ে ফেলা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন অ্যানেক্স ভবনের সামনে  শিরোপা দিয়ে এনরিকেকে বিদায় বার্সার  চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ আর্সেনালের
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ০১:৩৫:৩৯

চট্টগ্রামে দুই নেতার বহিষ্কারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিএনপি বনাম বিএনপি
সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল ও উত্তর জেলার সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে একদিনেই। একই চিঠিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমকেও দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বুধবার দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে হাইকমান্ড থেকে এমন নির্দেশনা আসার পর বিস্মিত হয়েছেন দলের লক্ষাধিক নেতাকর্মী। দলের এমন কঠোর অবস্থানকে কেউ স্বাগত জানাচ্ছেন, আবার কেউ দেখাচ্ছেন মিশ্র

প্রতিক্রিয়া। চট্টগ্রামে বিএনপির কোন্দল নতুন কোনো ঘটনা না হলেও দুই জেলার অন্যতম শীর্ষ দুই নেতাকে দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে এভাবে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, 'দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছেন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চট্টগ্রামে সমাবেশ পণ্ড করতে নেতারা যেভাবে ভূমিকা পালন করেছেন তা নিন্দনীয়। এ কারণে একসঙ্গে দুই জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটির মাধ্যমে সারাদেশে একটি বার্তাও দিয়েছেন দলীয় চেয়ারপারসন।' সামনে নির্বাচন থাকায় কিছুদিন পর এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হতে পারে কি না_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'

দীর্ঘদিন ধরে কোন্দলে বিপর্যস্ত ছিল চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা। এটিরই ফল হিসেবে গত ২ ও ৩ মের সমাবেশে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতেই হাতাহাতিতে লিপ্ত হন নেতাকর্মীরা। দক্ষিণ জেলার সহসভাপতি এনামুল হক এনামকে এ সময় ছুরিকাঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে। মহানগরের সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও কোন্দলের বাইরে নেই বিএনপির মহানগর কমিটিও। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। কিছুদিন আগে খালেদার কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে নালিশও দিয়ে এসেছেন থানা বিএনপির ১৬ নেতা। তাই উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিষয় নিয়ে হাইকমান্ডের বর্তমান ভূমিকায় উদ্বিগ্ন আছেন মহানগরের নেতারাও।

জানা গেছে, মঞ্চের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২ মে নাসিমন ভবনের সামনে উত্তর জেলা বিএনপির সমাবেশে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে যুগ্ম মহাসচিব ও উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীর সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। এতে পণ্ড হয়ে যায় সমাবেশ। একই ঘটনা ঘটে পরের দিন দক্ষিণ জেলাতেও। পটিয়ার হল টুডেতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশে দু'গ্রুপের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। এতে গাজী শাহজাহান জুয়েল অনুসারীদের হামলায় বিএনপি নেতা এনামুল হক এনামসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। সমাবেশস্থলের মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ দুই ঘটনার পর পুরো ব্যাপারটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় হাইকমান্ড। এরই ধারাবাহিকতায় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে দলের শীর্ষ দুই নেতাকে।

এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ জেলার অব্যাহতি পাওয়া সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান জুয়েল বলেন, 'দলীয় চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। তবে যে পদেই থাকি না কেন আগের মতোই নেতাকর্মীদের নিয়ে চালিয়ে যাব বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম।' দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি শেখ মহিউদ্দিন বলেন, 'দলীয় চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই। আমি মনে করি বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে দাঁড়াতেও পারবে না আওয়ামী লীগ।' একই প্রসঙ্গে সহসভাপতি এনামুল হক এনাম বলেন, 'অব্যাহতির এ সিদ্ধান্ত শুধু চট্টগ্রাম নয়; সারাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে মনে করি আমি।'

দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে গাজী শাহজাহান জুয়েলের আধিপত্য ছিল অনেকদিন ধরেই। ২০১১ সালে জেলা কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাকে। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে সাংসদও নির্বাচিত হন। এ কারণে দক্ষিণ জেলার কমিটিতে নিজের একটি গ্রুপ তৈরি করেন জুয়েল। তার বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দলীয় কার্যক্রমে অনেকদিন ধরেই নিষ্ক্রিয় আছেন তিনি। দেশের চেয়ে কানাডাতেই বেশি থাকেন তিনি। সেখান থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন তিনি। তার এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে দলীয় অবস্থান শক্ত করেন দক্ষিণ জেলার সহসভাপতি এনামুল হক এনাম। নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করতে থাকেন এনাম। এভাবেই দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে পোক্ত হতে থাকে কোন্দল।

অভিন্ন অবস্থা চট্টগ্রাম উত্তর জেলাতেও। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কাজী হাছান উত্তর জেলা বিএনপির যোগাযোগ সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে তিনি উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হন। ওই কমিটির আহ্বায়ক হন আসলাম চৌধুরী। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে তার সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর দূরত্ব সৃষ্টি হয়। দুইজনে আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। বিভিন্ন উপজেলায় দিতে থাকেন আলাদা কমিটিও। আসলাম চৌধুরী জেলে যাওয়ার পর উত্তর জেলার গ্রুপিং আরও পোক্ত হয়। যার ফল হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিতিতেই হয় মারামারির ঘটনা।

এ প্রসঙ্গে অব্যাহতি পাওয়া উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, 'যে ঘটনার জন্য আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও যেহেতু দলীয় চেয়ারপারসন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমি মাথা পেতে নিচ্ছি। আমার বিশ্বাস কিছুদিন পরে হলেও এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন তিনি।' একই প্রসঙ্গে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, 'দলীয় চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই। তবে আমার বিশ্বাস এ সিদ্ধান্ত আবার পুনর্বিবেচনা করবে দল।'

বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণ জেলার সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পেছনে চারজনকে দায়ী করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের চেয়ারপারসনের কাছে গত ১৪ মে একটি রিপোর্ট জমা দেন। রিপোর্টে তিনি উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পেছনে গাজী শাহজাহান জুয়েল ও কাজী আবদুল্লাহ আল হাছানকে সরাসরি দায়ী করেন। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের ব্যর্থতা এবং উত্তর জেলা বিএনপির সমাবেশে পণ্ড হওয়ার জন্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দায়ী করা হয়। এ রিপোর্ট পাওয়ার পর গত সোমবার রাতে বিএনপির সিনিয়র নেতা ও মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে দলের গুলশান অফিসে একটি বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে জুয়েল ও কাজী হাছানকে বহিষ্কার ও শামীমকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved