শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ০০:১৩:১৭

অর্থ পাচারের কারণ দূর করতে হবে

সমকাল প্রতিবেদক
যেসব সমস্যার কারণে দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা দূর করার পরামর্শ দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। সংগঠনটি মনে করে, সরকার অর্থ পাচারের কারণগুলো দূর করলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। ত্বরান্বিত হবে প্রবৃদ্ধি। এজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এমসিসিআই। একই সঙ্গে রাষ্ট্র মালিকানার ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তি বাড়ানো ও খেলাপি ঋণের কারণে মূলধন ঘাটতি দূর করার পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি।

দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এমসিসিআইর সর্বশেষ জানুয়ারি-মার্চের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় এসব পরামর্শ ও সুপারিশ এসেছে।

এমসিসিআই বলছে, এটি বিশাল ধাঁধার মতো কয়েক বছর ধরে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ কমছে। কিছু অর্থনীতিবিদ অভিযোগ করছেন, প্রতি বছর দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে। কেন অর্থ দেশে বিনিয়োগ না করে মানুষ বিদেশে নিচ্ছে, তা যাচাই করে অবশ্যই এর সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পর্যবেক্ষণ করতে হবে। খেলাপি ঋণের কারণে রাষ্ট্র মালিকানার ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। এ সমস্যারও সমাধান হওয়া উচিত।

চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্গ্নোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচারের এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এই অর্থের বড় অংশ পাচার হয়েছে বলে জিএফআই জানিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ লাখ ৬ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা বা ৭ হাজার ৫৮৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এরপর দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের এই সংগঠন থেকে সরকারের কাছে এমন আহ্বান জানানো হলো।

সংগঠনটি মনে করে, অর্থনীতি ভালোভাবে এগোলেও তা প্রত্যাশার চেয়ে কম। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাবে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতিই বর্তমানে প্রবৃদ্ধির অন্যতম অন্তরায়। এর পরও এক যুগ ধরে গড়ে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য সংগঠনটি সেবা খাতের সরবরাহ পদ্ধতি ও কার্যকারিতা উন্নয়নের জন্য সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করার প্রস্তাব করেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা এ ধরনের হস্তক্ষেপ ব্যবস্থার কথা বলেছে। এ ছাড়া বেসরকারি বীমা, পরিবহন, যোগাযোগ, পর্যটন ও রিয়েল এস্টেট খাতে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি সরকারি হস্তক্ষেপ আশা করছে।

এমসিসিআইর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ন্যায্যমূল্য, সময়মতো প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা হলে প্রবৃদ্ধিতে কৃষি খাতের অংশ বাড়বে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে প্রবৃদ্ধিতে কৃষির অংশ কমেছে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোয় জিডিপির অংশে শিল্প খাতে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। এজন্য সংগঠনটি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সামগ্রিকভাবে শিল্প খাত এগোলেও নির্মাণ খাতে চাঙ্গাভাব নেই।

অন্যদিকে, তৈরি পোশাকের রফতানিতে ধীর প্রবৃদ্ধির কারণে লক্ষ্য অনুযায়ী রফতানি আয় হচ্ছে না বলে মনে করছে এমসিসিআই। অন্যান্য পণ্য রফতানি লক্ষ্য অনুযায়ী হচ্ছে। ফলে আগামীতে রফতানি বাড়বে বলে আশা করছে সংগঠনটি। তবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির কারণে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এমসিসিআই বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতির ধীরগতির ফলে রেমিট্যান্স আয় কমছে। এ ছাড়া প্রবাসীরা অবৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর কারণেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। এদিকে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা কমছে। তবে এ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। সস্তা শ্রম ও দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে তৈরি পোশাক খাত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে। তবে অবকাঠামো দুর্বলতা, বিদ্যুৎ-জ্বালানির ঘাটতি, নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, জমির অভাব এখনও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved