শিরোনাম
 ঘূর্ণিঝড় 'মোরা': চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত  অস্ট্রিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ  দিনাজপুরে অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষের পর বাস খাদে, নিহত ৩  নতুন ভ্যাট আইনে সংকট তৈরি হবে
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ০০:১২:৪৩

একদিন বিরতির পর আবার দরপতন

সমকাল প্রতিবেদক
টানা সাত কার্য দিবস দরপতনের পর গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবির হস্তক্ষেপে শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা থেমেছিল। তবে তা একদিনের বেশি টেকেনি। বুধবার আবারও দরপতন শুরু হয়, যা গতকাল বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই দরপতনের প্রবণতা দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত সে ধারা বজায় থাকায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৫৯ শতাংশ এবং অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে ৬৩ শতাংশেরও বেশি শেয়ারের দর কমে সপ্তাহের লেনদেন শেষ হয়। এ অবস্থায় সূচক সাড়ে তিন মাস পর আবারও ৫৪০০ পয়েন্টের নিচে নেমেছে।
অব্যাহত দরপতনের মধ্যেও অপেক্ষাকৃত দুর্বল মৌলভিত্তি ও স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এরমধ্যে তুংহাই, রিজেন্ট টেক্সটাইল, জুট স্পিনার্স এবং কেঅ্যান্ডকিউর সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
এ খবরে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারদর সাড়ে ৮ শতাংশ কমে ২৮ টাকা ৬০ পয়সায় নেমেছে। তুংহাই নিটিংয়ের দরপতন হয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ, সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১৫ টাকা ৮০ পয়সা দরে। এছাড়া সাড়ে ৪ শতাংশ দরপতনের পর কেঅ্যান্ডকিউর দর ৫৪ টাকায় এবং জুট স্পিনার্সের বাজারদর ২ শতাংশ কমে ৬৫ টাকায় নেমেছে।
এদিকে বাজার-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শেয়ার বিক্রির চাপে গত কিছুদিন ধরে দরপতন হচ্ছে। এ ছাড়া টানা দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও হতাশা রয়েছে। কেউ কেউ দরপতনের ভীতি থেকে শেয়ার বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন।
জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইফতেখার-উজ-জামান সমকালকে বলেন, কেন থেমে থেমে দরপতনের গ্রহণযোগ্য কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। কারা ও কেন লোকসানে শেয়ার বিক্রি করছে তা খুঁজে দেখা দরকার। বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে আইসিবি নিয়মিত বিনিয়োগ করছে। পাশাপাশি বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও বিনিয়োগে ফিরতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে তার এ অনুরোধ খুব একটা কাজে এসেছে বলে মনে হয় না। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৯২টিরই দর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৯০টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৪১টির দর। এতে এ বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আরও ৩০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৩৯৯ পয়েন্টে নেমেছে। এর আগের নয় কার্যদিবসে সূচকটি হারিয়েছে ১১৫ পয়েন্ট।
দুই বাজার মিলে এদিন ৬৭৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা বুধবারের তুলনায় ৫২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বা সোয়া ৭ শতাংশ কম। এরমধ্যে ডিএসইর লেনদেন প্রায় ৪৯ কোটি টাকা কমে ৬৩৫ কোটি ২৩ লাখ টাকায় নেমেছে। সিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৩৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার।
ডিএসইর খাতওয়ারী লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র এবং পাট খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। অন্য খাতগুলোতে ছিল মিশ্র অবস্থা।
সার্বিক দরপতনের মধ্যেও এক্সিম প্রথম এবং আইসিবি দ্বিতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর বেড়েছে যথাক্রমে ৯ শতাংশ এবং সোয়া ৭ শতাংশ। ফান্ড দুটি ছিল ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে। এরপরের অবস্থানে থাকা রংপুর ফাউন্ড্রি, মুন্নু সিরামিক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, কন্টিনেন্টাল ইন্সুরেন্স, এশিয়া ইন্সুরেন্স, অগ্রণী ইন্সুরেন্স এবং মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ৪ থেকে সোয়া ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সাড়ে ৮ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল এফএএস ফাইন্যান্স। শেয়ারটির সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved