শিরোনাম
 খালেদার বিরুদ্ধে কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে  সরিয়ে ফেলা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন অ্যানেক্স ভবনের সামনে  শিরোপা দিয়ে এনরিকেকে বিদায় বার্সার  চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ আর্সেনালের
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য!

যথেচ্ছাচারের মাধ্যম!

আলী যাকের
সম্প্রতি ফেসবুক বড় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফেসবুককে বাংলায় বলা হয়ে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এই নামটি আমার মাতৃভাষায় হলেও বলতে যেন কেমন দূরের মনে হয়। 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম' এটা দূরের মনে হয় বোধ হয় এই কারণে যে, ফেসবুকে তো আমরা আর যাই করি যোগাযোগের জন্য কদাচিৎ ব্যবহার করে থাকি। ফেসবুকে আমরা নিজেদের কথা বলি। অন্যের কথা শুনি আর না-ই শুনি। অন্যের কথা নিয়ে কিছু ভাবি আর না-ই ভাবি, নিজের কথা বলে যাই অনর্গল। আমি ভেবে দেখেছি, এই বিষয়টিতে আমরা বেশ সিদ্ধহস্ত। আমরা কথা বলতে পারি বটে। সে কথার কোনো অর্থ হোক কিংবা অনর্থ হোক, আমরা কথা বলে চলি। সে কারণেই ফেসবুক বেশ একটা জুতসই মাধ্যম। কাল রাতে টেলিভিশনে একটা আলোচনা উঠে এলো এ মত-অভিমত যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার দ্বারাই এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব। আমি সবিনয়ে এই অভিমতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। এ কথাটি সম্যক উপলব্ধির জন্য কিছু অতিরিক্ত কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

তবে প্রথমেই অনুসন্ধান করব ফেসবুক নামটির একটি জুতসই বাংলা শব্দের। ফেসবুকের ফেস শব্দটির বাংলা খুঁজি প্রথমে। 'ফেস' শব্দের বাংলা সহজ। 'মুখ'। 'বুক' অর্থ 'বই'। তাহলে সহজ অর্থ হতে পারে 'মুখবই'। তবে এই শব্দবন্ধটি কেমন যেন শোনায়। তাই আরও একটু ভারি দিকে যাওয়া যাক। তাহলে 'বদনগ্রন্থ' বললে কেমন হয়? 'বদন' মানে 'মুখ'। 'গ্রন্থ' হলো 'বই'। তো 'বদনগ্রন্থ' নিয়ে একটা ছোটখাটো আলোচনা হতেই পারে।

আমি এই 'বদনগ্রন্থ' বা 'ফেসবুকে' প্রায়ই বিচরণ করে থাকি। যখন বিদেশে যাই এবং দেশকে ভীষণ মনে পড়ে, তখন কারণে-অকারণে ফেসবুকে যাওয়া হয়। ওইখানেই আমার চেনাজানা বাঙালিদের সাক্ষাত পাই। কিন্তু সেই সঙ্গে অনেক আবর্জনারও সাক্ষাত ঘটে এই 'বদনগ্রন্থে'। এই নিয়েই আজ গল্প করি তাহলে?

সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্ষমতাধর এক ব্যক্তি বলেছেন যে, তিনি আহ্লাদিত যে সাধারণ বাংলাদেশিরা ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তারা খবরের কাগজও পড়ে না। কথাটা এমন ধারণা থেকেই ব্যক্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় যে, কী আছে খবরের কাগজে? তিনি বোধ হয় ভুলে গেছেন যে, ফেসবুকে যেসব বাঙালি আজ ভিড় করছেন তারা লেখাপড়ার ধারেকাছেও ঘেঁষেন না। প্রসঙ্গত আমার এক সহকর্মী যিনি গাড়িচালক তার প্রসঙ্গ তোলার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। এই ভদ্রলোকের বিদ্যা ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। কথাবার্তায় লেখাপড়ার কোনো ছাপ নেই। দেখতে সুদর্শন। যতদূর শুনতে পাই, তার বেশ কিছু নারী বন্ধু আছে। তা থাকতেই পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে এই অধিকার তার আছে। আমার কৌতূহল হলো জানার যে তার বদনগ্রন্থের পাতা তিনি কীভাবে ব্যবহার করেন? অতএব, আমি সেখানে গেলাম এবং দেখলাম যে সেই পাতাকে তিনি যোগাযোগের জন্য আদৌ ব্যবহার করেননি কোনোকালে। কিছু ছবি আছে তার পরিবারের এবং হয়তো অন্যান্য পরিচিতজনের, আর কিছু নয়। গোটা ফেসবুকের পাতায় একটি সম্পূর্ণ বাক্যও তিনি লেখেননি। কারণ লেখার কোনো ক্ষমতা তার নেই। এর দ্বারা আমি এই বুঝি যে শিক্ষা আকাশ থেকে আসে না। আসে পরিশ্রমী অধ্যয়ন থেকে। যে ব্যক্তি খবরের কাগজ পড়তে পারে না অথবা পড়াশোনায় অনাগ্রহী, তার দ্বারা কোনো মেধা উদ্বুদ্ধ কোনো কাজই সম্ভব নয়। একটি জাতির সম্পূর্ণ এবং বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানবগোষ্ঠী হিসেবে উত্তরণ ঘটতে পারে না, যদি সে জাতি শিক্ষিত না হয়। অতএব, শিক্ষার ওপরে আর কিছু নেই। আজ যে অবলীলায় কুশিক্ষার অগ্রাভিযান চলছে যা গণমাধ্যমে দৃশ্যমান তার প্রতিকার বদনগ্রন্থের জনপ্রিয়তা নয় বরং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সঞ্চার করা।

এই শিক্ষা বা অধ্যবসায়ের প্রতি ক্রমবধর্মান অনাগ্রহ আমাকে এবং স্বদেশের মেধার প্রতি যারাই আগ্রহী তাদেরকে ভীত করে তুলবে। কোথায় চলেছি আমরা। ক্রমেই এই জাতি অশিক্ষা কি কুশিক্ষার ভয়াবহ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। অথচ এর থেকে পরিত্রাণের যে একমাত্র পথ, একটি জাতিকে শিক্ষিত করে তোলা, তার প্রতি কারও নজর নেই। আরও নজর নেই সেসব মানুষের, যারা আমাদের নিরন্তর আদেশ-নির্দেশ দিয়ে চলেছেন। এ বড় আতঙ্কের ব্যাপার। কেননা অশিক্ষিত জাতির দ্বারা যে কোনো কুকর্ম সম্ভব এবং তাই হয়ে চলেছে আমাদের চারদিকে অবলীলায়। কেউ কি হাল ধরতে এগিয়ে আসবেন?

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved