শিরোনাম
 খালেদার বিরুদ্ধে কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে  সরিয়ে ফেলা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন অ্যানেক্স ভবনের সামনে  শিরোপা দিয়ে এনরিকেকে বিদায় বার্সার  চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ আর্সেনালের
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭

'নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার স্বভাব আছে আমার'

শওকত আলী
ব্যক্তিগত জীবনে কোনো বিশেষ ঘটনা আপনাকে প্রভাবিত করেছে?

অনেক কিছুই আছে- যেমন দেশ বিভাগ, স্বৈরশাসন, জীবন ও জীবিকা বিষয়ক অনিশ্চয়তা। লেখালেখি বিষয়ে আমাকে যেটা সবচেয়ে আকর্ষণ করেছে, তা হলো শ্রমজীবী ভূমিলগ্ন সংগ্রামী মানুষ।

আত্মপ্রকাশলগ্নে কোনো প্রতিবন্ধকতার কথা আপনার মনে পড়ে?

যে কোনো নতুন লেখকেরই প্রতিবন্ধকতা থাকে। স্বাভাবিকভাবে আমারও কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। কিন্তু লেখালেখির শুরু থেকে সিকান্দার আবু জাফর, কবি আহসান হাবীব, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হকসহ কিছু তরুণ প্রতিভাবান কবি ও সাহিত্যিকের সানি্নধ্য লাভ করেছিলাম। যারা আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।

প্রথম বই প্রকাশের কথা মনে আছে?

'পিঙ্গল আকাশ' নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলাম। এটি আমার প্রথম উপন্যাস। 'পূবালী' নামে একটি পত্রিকায় এটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। পরে তাদেরই প্রকাশনা সংস্থা থেকে বই আকারে প্রকাশিত হয়। বইটি লোকজনের নজরে এলে সে সময় তুমুল আলোচনা শুরু হয়।

শৈশব-কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে?

'৪৭-এর দেশ ভাগের ফলে '৫২ সালে চলে এসেছি এপার বাংলায়। ফলে শৈশব-কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা আর সম্ভব হয়নি।

এখন আপনার বন্ধু কারা?

ওই অর্থে কোনো বন্ধু নেই।

কোন বইগুলো আপনি বারবার পড়ে থাকেন?

আমি এখন কোনো বই-ই পড়ি না। চোখে সমস্যা, স্মৃতিবিভ্রাটের জন্য কারও নাম মনে পড়ে না। তবে বিদেশি সাহিত্য যেমন- আমেরিকান সাহিত্য, রুশ সাহিত্য ইত্যাদি খুব প্রিয় ছিল আমার।

আপনার প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী কারা?

একসময় বলতে পারতাম, এখন মনে নেই। ঢালাওভাবে বলতে গেলে রবীন্দ্রসঙ্গীতই আমার প্রিয় সঙ্গীত। আর ধ্রুপদী সঙ্গীতের দিকে বরাবরই আমার একটা আকর্ষণ ছিল।

আপনার ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সীমাবদ্ধতা আপনাকে কষ্ট দেয়?

আমার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কিন্তু নিজেকে নিজেই বিচ্ছিন্ন করে রাখার স্বভাব আছে আমার।

নিজের চরিত্রের শক্তিশালী দিক কোনটি বলে আপনি মনে করেন?

আমার চরিত্রের কোনো শক্তিশালী দিক নেই। তবে আমি অন্যের নির্দেশনা মাথা পেতে নিতে চাই না।

আপনার চরিত্রের কোন দিকটি আপনার প্রিয়?

আমার চরিত্রের ভেতর প্রিয়-অপ্রিয় কিছু নেই। তারপরও বইপত্র পড়তে ভালোবাসি, প্রকৃতির কাছে থাকতে চাই। দেশের মাটির প্রতি ভালোবাসা আছে।

আপনার প্রিয় উদ্ধৃতি কোনটি?

আমার প্রিয় কোনো উদ্ধৃতি নেই। থাকলেও এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না।

মৃত্যুর পর আপনার এপিটাফে কী লেখা থাকলে আপনি খুশি হবেন?

লেখা তো দূরের কথা, আমি চাই আমার সমাধিতে কোনো এপিটাফ যেন না থাকে।

শওকত আলীর রচনা থেকে

সোমজিৎ লক্ষ্মণাবতীর অভিজাত পল্লী থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে রাজপথ অতিক্রম করছিলেন। বার্ধক্যের কারণে স্বভাবতই ঋজুতা হারিয়েছেন- যেমন দেহের, তেমনি মনেরও। তথাপি তাকে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে রাজধানীতে আসতে হয়েছে। মন্ত্রী হলায়ুধ মিশ্রের সঙ্গে তিনি দেখা করতে চান। রাজধানীতে এসে অবধি নানান জনরব শুনছেন। কেউ বলছে, বৃদ্ধ মহারাজ রাজধানীতে নেই, গঙ্গাতীরে গিয়েছেন। কেউ বলছে, তিনি অত্যধিক রুগ্ণ, রাজকার্য এখন দেখেন না। এক স্থানে আবার শুনলেন, মহারাজ নাকি যবনাক্রমণ আসন্ন দেখে প্রাণরক্ষার জন্য পলায়ন করেছেন। প্রকৃত সংবাদটি যে কী, কিছুই জানার উপায় নেই। হলায়ুধ মিশ্র তার সতীর্থ ছিলেন গুরুগৃহে। সেই সূত্রে এখনও উভয়ের মধ্যে হৃদ্যতা রয়েছে। বর্ষাকাল পূর্বেও তিনি রাজধানীতে এসেছিলেন- তখনও সাক্ষাৎ হয়েছে। এবার তিনি হলায়ুধের মাধ্যমে মহারাজ লক্ষ্মণ সেন দেবের নিকটে যেতে চান। মহারাজের নিকট থেকে একটি আবেদন জানাবেন। কিন্তু জনরবের পর জনরব শুনছেন। যদি আজ শুনলেন যে, রাজসভার এখন মান্য পুরুষ গোবর্ধন আচার্য, তো কালই আবার জানলেন গোবর্ধন আচার্য নয়, প্রকৃত পুরুষ হচ্ছেন মহাপদ্ধি হয়েছেন, পাণ্ডিত্যের পীড়নে ইদানীং বিরক্ত হন। এখন রাজসভার আনন্দদানকারী নট গাঙ্গোকই হচ্ছে মূল ব্যক্তি। যদি কেউ পারে, তো সে-ই পারবে রাজার সানি্নধ্যে নিয়ে যেতে। আর একজন আবার বলল, রাজসভার যে সংবাদ শুনছেন কোনোটিই সত্য নয়- এসব সংবাদের আদৌ কোনো ভিত্তি নেই। রাজসভায় কিছুই হয় না, মহারাজের অতো সময় কোথায়? আপনি বরং রানী বল্লভার সাক্ষাৎপ্রার্থী হন।

[উপন্যাস : অংশ, 'প্রদোষে প্রাকৃতজন']
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved