শিরোনাম
 ঘূর্ণিঝড় 'মোরা': চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত  অস্ট্রিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ  দিনাজপুরে অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষের পর বাস খাদে, নিহত ৩  নতুন ভ্যাট আইনে সংকট তৈরি হবে
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৭, ০২:০২:৪৫
নির্বাসনের স্মৃতিচারণ

কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

সমকাল ডেস্ক

স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের জন্য দলের ভেতরের ষড়যন্ত্রকেই দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'আসলে ঘরের শত্রু বিভীষণ। ঘরের ভেতর থেকে শত্রুতা না করলে বাইরের শত্রু সুযোগ পায় না। সে সুযোগটা তারা করে দিয়েছিল।' তৎকালীন মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদের জড়িত থাকার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, 'আরও অনেকে এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল।' বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় একথা বলেন শেখ হাসিনা। ছোটবেলা থেকেই ষড়যন্ত্র দেখে আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,

'আমি এগুলোর পরোয়া করি না। আমি বিশ্বাস করি যতদিন মহান আল্লাহ এবং বাংলার জনগণ পাশে রয়েছেন, মা-বাবার দোয়া রয়েছে, ততদিন বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।' এ সময় স্বজন হারানোর বেদনা ও নির্বাসনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে অঝোরে কাঁদেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ছয় বছর 'নির্বাসিত' থাকার পর প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে ১৯৮১ সালের এই দিনে দেশে

ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। গতকাল অনুষ্ঠানের শুরুতে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'অনেকেই তাকে (বঙ্গবন্ধু) সাবধান করেছিলেন; এরকম একটা ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বিশ্বাসই করেননি। আব্বা বলতেন, না, ওরা তো আমার ছেলের মতো, আমাকে কে মারবে?' হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অনেকের নিয়মিত ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে যাতায়াত ছিল জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'শরিফুল হক ডালিম, তার বউ, শাশুড়ি, শ্যালিকা ২৪ ঘণ্টা আমাদের বাসায় পড়ে থাকত।' আরেক খুনি মেজর এ এইচ এম বি নূর চৌধুরী শেখ কামালের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীর এডিসি ছিল। খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান বঙ্গবন্ধুর অর্থমন্ত্রী এ আর মলি্লকের শ্যালিকার ছেলে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এরা তো অত্যন্ত চেনা মুখ। খুব দূরের নয়। এরাই ষড়যন্ত্র করল।'

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'যারা এভাবে বেইমানি করে, মোনাফেকি করে, তারা কিন্তু এভাবে থাকতে পারে না। মোশতাক রাষ্ট্রপতি হয়ে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করে। তাদের মধ্যে অবশ্যই যোগসাজশ ছিল।' জিয়ার পারিবারিক সমস্যা সমাধানে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'জিয়া প্রতি সপ্তাহে একদিন তার স্ত্রীকে (খালেদা জিয়া) নিয়ে ৩২ নম্বরের বাড়িতে যেত।' বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দুয়ার সবার জন্য অবারিত ছিল, যার সুযোগ ষড়যন্ত্রকারীরা নিয়েছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তাদের যাওয়াটা আন্তরিকতা ছিল না। চক্রান্ত করাটাই ছিল তাদের লক্ষ্য; সেটা বোধ হয় আমরা বুঝতে পারিনি।' তিনি বলেন, 'আমার মাঝে মধ্যে মনে হয়, আব্বা যখন দেখেছেন, তাকে গুলি করছে, তারই দেশের লোক, তার হাতে গড়া সেনাবাহিনীর সদস্য, তার হাতে গড়া মানুষ_ জানি না তার মনে কী প্রশ্ন জেগেছিল?'

১৫ আগস্টের ওই বিয়োগান্তক ঘটনার সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামাল হোসেনের পশ্চিম জার্মানির বন শহরে সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কথা চেপে রাখার কথাও উঠে আসে শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণায়। তিনি বলেন, 'এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি একটা কথাও বললেন না। উনার কোথাও যাওয়ার কথা ছিল, চলে গেলেন। হুমায়ুন রশীদ সাহেব (পশ্চিম জার্মানিতে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত) এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানালেন প্রেসের সামনে।' ভারতে নির্বাসিত জীবনের কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে শেখ হাসিনা বলেন, 'ভাবলাম দেশের কাছে যাই। কখনও শুনি, মা বেঁচে আছেন। কখনও শুনি, রাসেল বেঁচে আছে। একেক সময় একেক খবর পেতাম। ওই আশা নিয়ে চলে এলাম। কেউ বেঁচে থাকলে ঠিক পাব। ২৪ আগস্ট দিলি্ল পেঁৗছলাম। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে শুনলাম, কেউ বেঁচে নেই। হুমায়ুন রশীদ সাহেব আগে বলেছিলেন। কিন্তু আমি রেহানাকে বলতে পারিনি। কারণ, ওর মনে একটা আশা ছিল, কেউ না কেউ বেঁচে থাকবে। দিলি্লতে মিসেস গান্ধী থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। ওয়াজেদ সাহেবকে (এম ওয়াজেদ মিয়া) এটমিক এনার্জিতে কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন।' কিছুক্ষণ চুপ থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, 'এটা কী কষ্টের, যন্ত্রণার কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারব না।'

১৯৮০ সালে বিদেশে থাকার সময়ই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় শেখ হাসিনাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এত বড় সংগঠন করার অভিজ্ঞতাও আমার ছিল না। আমার চলার পথ অত সহজ ছিল না।' দল এবং দলের বাইরে নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে তিনি বলেন, 'খুনিরা বহাল তবিয়তে বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত। স্বাধীনতাবিরোধীরা তখন বহাল তবিয়তে। তারাই ক্ষমতার মালিক। যে পরিবারকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, সে পরিবারের একজন এসে রাজনীতি করবে! সেটা এত সহজ ছিল না, প্রতি পদে পদে প্রতিবন্ধকতা ছিল।'৩৬ বছর আগের এ দিনটিতে দেশে ফেরার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, 'মেয়ের হাত ধরে দুটো স্যুটকেস নিয়ে চলে আসি। একটাই লক্ষ্য নিয়ে সেদিন ফিরে এসেছিলাম_ এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। সেটাই যেন করতে পারি। আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।'

বক্তব্যের এই পর্যায়ে উপস্থিত নেতাদের আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব খুঁজতে বলেন শেখ হাসিনা; তবে সবাই সমস্বরে 'না না' বলে ওঠেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নতুন নেতৃত্ব খোঁজা দরকার। জীবন-মৃত্যু আমি পরোয়া করি না। মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখেছি। ভয় পাইনি। আমি বিশ্বাস করি, আব্বা ছায়ার মতো আমাকে দেখে রাখেন, আর ওপরে আল্লাহর ছায়া আমি পাই।'

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৩৬০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি :সমতলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৩৬০ শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, কোনো অঞ্চলের কোনো জায়গার একটি মানুষও অবহেলিত থাকবে না। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে এনে সবার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৫৫টি জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজনের বসবাস রয়েছে। তাদের জীবনমান কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সেই লক্ষ্যে আমরা কিছু বিশেষ এলাকা নিয়ে উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এ জন্য বাজেটেও আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিক্ষাবৃত্তির চেক গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved