প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৭
দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ

বখে যাওয়া জীবনের গল্প বলছে সাফাত

সাহাদাত হোসেন পরশ
'ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার সঙ্গে প্রথমে প্রেম ছিল। এরপর তাকে বিয়ে করি। তবে সেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। এরপর নতুনভাবে আরও অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্কে জড়াই। পিয়াসার সঙ্গে বিয়ে ভাঙার কষ্ট ভুলতে চেয়েছি। বনানী-গুলশানের সিসাবারে নিয়মিত বন্ধুদের নিয়ে আসর বসাতাম।'

বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ রিমান্ডে এসব তথ্য দেয়। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বুধবার সমকালকে এসব তথ্য জানায়। এ ঘটনায় সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহতম আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সমকালকে বলেন, 'মামলার তদন্ত বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ মামলার তদন্ত পুলিশের জন্য একটি মডেল হবে। নির্মোহভাবে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।'

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাফাত রিমান্ডে জানিয়েছে, সে এরই মধ্যে দুটি বিয়ে

করেছে। তবে দুটি বিয়েই ভেঙেছে। এরপর সে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত পার্টিতে যেত। এসব পার্টিতে অনেক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। যাদের মধ্যে অনেকের সঙ্গে তার 'ঘনিষ্ঠ' সম্পর্ক ছিল। রেইনট্রির ঘটনায় তরুণীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করবে_ এটা ছিল তার কল্পনার বাইরে। সাফাত পুলিশকে আরও জানায়, ঘটনার দিন সে হোটেলে অনেক মদ খেয়েছিল।

একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই প্রথমে এক তরুণী মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নেয়। তবে সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও কোনো লাভ হবে না। বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেয় সে। ঘটনার দু'দিন পর রেইনট্রি হোটেলে মীমাংসা বৈঠক হয়। সেখানে দুই তরুণী অভিযুক্তদের বলেন, তাদের ভিডিও মুছে ফেলতে। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার হুমকি দিয়ে আবারও দুই তরুণীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যান। সূত্র বলছে, এ ঘটনায় যে তরুণী থানায় মামলা করেছেন তার সঙ্গে আগে থেকে সাফাতের পরিচয় থাকলেও অন্য তরুণীকে ঘটনার আগে সে চিনত না। তিনিই প্রথম জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

জানা গেছে, সাফাতের জন্মদিনে নিমন্ত্রণ করলেও দুই তরুণী প্রথমে আসতে রাজি হচ্ছিলেন না। এরপর তাদের বলা হয়, জন্মদিনের অনেক বড় পার্টি হবে। তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান আসবেন। এমন মিথ্য তথ্য দিয়ে তাদের জন্য ফাঁদ পাতা হয়। এরই মধ্যে সাফাত ও তার বন্ধুদের মোবাইল ফোন থেকে অনেকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি পাওয়া গেছে।

সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করে, এ ঘটনার তার কোনো দায় নেই। ঘটনার দিন সে অস্ত্র নিয়ে হোটেলের রিসিপশনে বসে ছিল। কেবল একবার সাফাত তাকে রুমে ডেকে নেয়। অস্ত্র নিচে রেখে রুমে গিয়ে খাবার খেয়ে আবার নিচে ফেরত আসে সে। সাফাতের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ স্থায়ী না হওয়ায় সে ঘটনার পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের দেহরক্ষী হিসেবে চাকরি নেয়।

এদিকে সাফাতের সাবেক স্ত্রী মডেল পিয়াসা সমকালকে বলেন, 'তার সঙ্গে বিয়ে ভাঙার জন্য সাফাতের বাবা দিলদার আহমেদ দায়ী। বিয়ে ভাঙার পর সাফাত নষ্ট হয়েছে। ভারতে গিয়ে এক মডেলের সঙ্গেও কেলেঙ্কারিতে জড়ায়।'

গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর 'দ্য রেইনট্রি' হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। ওই ঘটনায় গত ৬ মে সাফাত আহমেদ ও ই-মেকার্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পরিচালক নাঈম আশরাফসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন এক ছাত্রী। মামলার অপর তিন আসামির একজন সাদমান সাকিফ 'রেগনাম গ্রুপে'র পরিচালক। চাঞ্চল্যকর মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট সেন্টার।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved