শিরোনাম
 জাবির ৪২ শিক্ষার্থীর জামিন  ব্লগার রাজীব হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ  ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদকারী ৪ জনের জামিন  খালেদার বিরুদ্ধে কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে  সরিয়ে ফেলা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন অ্যানেক্স ভবনের সামনে
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৭, ০২:৪৯:৩৪ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৭, ০৯:৫০:৫৭
দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ

এ কেমন বাবা

নাহিদ তন্ময়

কোনো বাবাই চান না- তার সন্তান অপরাধী হোক। এমনকি যে অপরাধী, সেও চায় তার সন্তান যেন মানুষ হয়। কিন্তু জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ সেলিম তার 'ব্যতিক্রম'। ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধকে 'ষড়যন্ত্র' দাবি করে ছেলের পক্ষে সাফাই গাইছেন তিনি। ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থীকে বলছেন 'খারাপ' মেয়ে।



ছেলের পক্ষ নিয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের এমন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠছে সমালোচনার ঝড়। তাকেও বিচার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার ও নারীনেত্রীরা। তারা বলেছেন, দিলদার আহমেদকে ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে আইনের আওতায় উচিত। তিনি অপরাধীর পক্ষে সাফাই গেয়ে যে অশ্লীল মন্তব্য করেছেন, তাতে সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়বে। অর্থ-বিত্ত থাকলেই কেউ আইনের ঊধর্ে্ব নয়।



মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির বলেন, ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীকে নিয়ে দিলদার আহমেদের নোংরা ও অশ্লীল মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, ছেলে বাবার মতোই হয়েছে। বাবার অতীত ও বর্তমান জীবন তদন্ত করলে হয়তো তার বিরুদ্ধেও নারী নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উঠে আসবে। ছেলের পক্ষে সাফাই গেয়ে তার মন্তব্য সমাজে অপরাধ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাকেও আইনের আওতায় আনা হোক। খুশী কবির বলেন, আমরা মনে করি দিলদার আহমেদের আপত্তিকর মন্তব্য একজন নারীর নিরাপত্তা, নিজের অবস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, আমাদের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও আত্মসম্মান বোধ- সবটাকে একেবারে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।



খুশী কবির বলেন, ধর্ষণ অপরাধের বিচারে আমাদের আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে। আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় না। আইনের প্রয়োগ যাতে নিশ্চিত করা হয় সেদিকে আমাদের নজর দেওয়া দরকার। অন্যায়, অনাচার, অপকর্মের বিরুদ্ধে আমাদের জেগে উঠতে হবে।



সাফাত আহমেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে রাজধানীর বনানীর 'দি রেইনট্রি' হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা হয়। মামলার এজাহারে সাফাত ছাড়াও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, পিকাসো রেস্তরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের দেহরক্ষী ও গাড়িচালককে আসামি করা হয়েছে। দুই ছাত্রীর অভিযোগ, তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। অন্য তিনজন এতে সহায়তা করে। সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার হলেও অপর তিন আসামি এখনও পলাতক।



ছেলে সাফাত আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন দিলদার আহমেদ। তিনি সমকালকে বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি- সাফাতকে ফাঁসানো হয়েছে। হোটেল রেইনট্রিতে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটাকে ধর্ষণ বলব না। এসবের নাটের গুরু সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া। সাফাত তাকে ডিভোর্স দেওয়ায় সে প্রতিশোধ নিয়েছে।' ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরকারী দুই ছাত্রীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'যারা গিয়েছে তারা স্বেচ্ছায় গিয়েছে। ঘটনার পরদিন সকালে হোটেল থেকে তারা হাসিমুখে বেরিয়েছে।'



জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী, নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, দিলদার আহমেদের এ মন্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধর্ষণকে যে অপরাধ মনে করে না, তার শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে যাবে। সালমা আলী আরও বলেন, আপন জুয়েলার্সের শতভাগ ক্রেতাই নারী। আর তিনিই (দিলদার আহমেদ) যদি এ নারীদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন তাহলে বোঝাই যাচ্ছে তিনি কী ধরনের মানুষ।



নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, অপরাধীর পক্ষে আস্ফালনের অপরাধে দিলদারের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য করার সাহস কেউ দেখাতে না পারে।



নারী নেত্রী এলিনা খান মনে করেন, দিলদার আহমেদের এ মন্তব্য পরিবারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। কেউ যদি নিজেকে আইনের ঊধর্ে্ব মনে করেন, তবে সমাজে অপরাধ বেড়ে যাওয়াটাও স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved