শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৭, ০১:২৭:৪৭ | আপডেট : ১৫ মে ২০১৭, ১০:২১:৫০

সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

১৫০ দেশে আক্রান্ত ২ লাখ কম্পিউটার
রাশেদ মেহেদী

সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীও নিরাপদ নয়। দেশে ৯০ শতাংশ পাইরেটেড অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) ব্যবহারই মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এদিকে গত শুক্রবার বিশ্বজুড়ে সাইবার আক্রমণে ১৫০টি দেশের দুই লাখ কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থা ইউরোপোল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান রব ওয়েইনরাইট ব্রিটেনের আইটিভিকে বলেছেন, যে মাত্রায় সাইবার আক্রমণ হয়েছে, তা আগে কখনও ঘটেনি। আজ সোমবার আক্রমণের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গত শুক্রবার রাশিয়া, চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে একটি র‌্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে পড়ে, যাতে আক্রান্ত হয় বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক। হ্যাকারা ওয়ানাক্রাই নামক ম্যালওয়্যারের সর্বশেষ সংস্করণের মাধ্যমে বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে এসব সংস্থার নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কম্পিউটার স্ক্রিনে একটি বার্তা দিতে থাকে_ তাতে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে বিটকয়েনের মাধ্যমে ৩০০ ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আরও আক্রমণ হতে পারে এবং সেগুলো হয়তো ঠেকানো সম্ভব হবে না। বছর খানেক আগে বাংলাদেশের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে র‌্যানসমওয়্যারের (ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস) আক্রমণ হয়েছিল। অনেক চেষ্টার পর সেই কম্পিউটারটি

মুক্ত হয়। সার্ভারের ডাটা ব্যাকআপ থাকার কারণে রক্ষা পায় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও তথ্য। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গত শুক্রবার বিধ্বংসী হামলা শুরুর পর বংলাদেশে নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। দেশে এই হামলার প্রভাব কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের ডাটা সার্ভার সুনির্দিষ্টভাবে হামলার শিকার হয়েছে কি-না, তা নিয়ে ধোঁয়াটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আইএসপিএবির সভাপতি আবদুল হাকিম সমকালকে জানিয়েছেন, এক বছর আগে র‌্যানসমওয়্যারের একটি হামলার খবর তারা জানতে পেরেছিলেন; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হামলার কোনো খবর তাদের জানা নেই।

গত শনিবার দেশের একটি ব্যাংকে র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের খবর পাওয়া গেলেও দায়িত্বশীল কোনো সূত্র এর সত্যতা স্বীকার করেনি। বিবিসির খবরে ওই হামলার তথ্য প্রকাশের পর গতকাল রোববার ব্যাংকপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশের কয়েকটি প্রধান ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তারা জানান, তাদের ব্যাংক নিরাপদ রয়েছে। তারা সহযোগী কোনো ব্যাংক থেকেও এ ধরনের খবর পাননি। তবে একটি সূত্র ব্যাংকের নাম প্রকাশ না করে জানায়, ব্যাংকটির ধানমণ্ডি শাখার একটি কম্পিউটারে এ ধরনের হামলার মতো কিছু একটা দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পরই দ্রুততার সঙ্গে তা সমাধান করা হয়। ব্যক্তিগত পর্যায়েও কেউ কেউ হামলার শিকার হয়েছেন বলে বিচ্ছিন্নভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

জাতীয় ডাটা সেন্টারের পরিচালক তারেক বরকতউল্লাহ জানান, জাতীয় ডাটা সেন্টার সুরক্ষিত রয়েছে। সেন্টারটির সার্ভার লিনাক্স ও ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমে চলার কারণে ওয়ানাক্রাই হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে সফটওয়্যার উৎপাদন ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বেসিস সভাপতি প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, পাইরেটেড উইন্ডোজ সিস্টেম ব্যবহারকারীরা র‌্যানসমওয়্যারসহ বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার আক্রমণের ভয়ঙ্কর ঝুঁকিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে লিনাক্স-৪-এর নিচের সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম যারা ব্যবহার করছেন, তারাও সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। এদিকে প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেকপয়েন্ট জানিয়েছে, কয়েকটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনেও র‌্যানসমওয়্যার জাতীয় ম্যালওয়্যারের অস্তিত্ব পেয়েছে তারা। যেসব স্মার্টফোনে আগে থেকে ইনস্টল করা ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে, তার তালিকাও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক করেছে চেকপয়েন্ট।

বাংলাদেশ সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তথ্য বিশ্লেষণেও তার প্রমাণ মিলছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সোয়া কোটি। তার ৯৫ শতাংশই ব্যবহার করছেন উইন্ডোজ ওএস। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ব্যবহার করেন পাইরেডেট ভার্সন। পাইরেডেটে বা ক্লোন সংস্করণে প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকে না। পাইরেটেড ওএস ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি অ্যান্টি ভাইরাস ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন কিংবা বাজার থেকে সস্তায় পাইরেডেট অ্যান্টি ভাইরাস কিনে ইনস্টল করেন। বিনামূল্যে ডাউনলোড করা অ্যান্টি ভাইরাসটি থাকে মূলত ট্রায়াল ভার্সন; প্যাটার্নাল প্রটেকশেন বা নিরাপত্তা ফায়ারওয়াল থাকে না। পাইরেটেড সংস্করণেও ফায়ারওয়াল প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকে না। ফলে পাইরেট উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরাই মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে মোস্তাফা জব্বার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগে ধারণা করা হতো, লিনাক্স ওএস ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের আক্রমণমুক্ত। তা এখন আর মোটেও সত্য নয়। এখন অন্যান্য ব্যবহার্য অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মতোই ভাইরাস, স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যারও একই সঙ্গে উইন্ডোজ ও লিনাক্সের জন্য তৈরি হচ্ছে। তাই যে কোনো মুহূর্তে ওয়ানাক্রাই ম্যালওয়্যারের লিনাক্স ভার্সন তৈরির মাধ্যমে হ্যাকাররা আক্রমণ চালাতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, সাইবার জগতে হামলার ঝুঁকি সবসময়ই থাকবে। কারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হ্যাকাররা তাদের হামলার অস্ত্রও উন্নত করছে। তিনি বলেন, হামলা থেকে মুক্ত থাকা জটিল কিছু নয়। প্রতিনিয়ত সতর্ক ও সচেতন থাকাই হামলা প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় উপায়।

আজ আক্রমণের সংখ্যা বাড়তে পারে :বিবিসির খবরে বলা হয়, বিশ্ব এক ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন বলেও জানিয়েছে ইউরোপোলের প্রধান রব ওয়েইনরাইট। আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, আজ সোমবার অফিস-আদালত খোলার পর আক্রমণের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, হ্যাকাররা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনগুলোকে ম্যালওয়্যার দিয়ে টার্গেট করেছে। তিনি আরও বলেন, এই র?্যানসমওয়্যারটি নতুন ধরনের। কারণ এটা একটি ভাইরাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যার ফলে একটি কম্পিউটার সংক্রমিত হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিটকয়েন অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, হ্যাকাররা শতাধিক ক্ষেত্রে অর্থ আদায় করে নিয়েছে এবং তার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ডলার হবে। এ প্রসঙ্গে রব ওয়েইনরাইট বলেন, আক্রমণের ব্যাপকতার সঙ্গে তুলনা করলে বলতে হবে_ এই অর্থের পরিমাণ 'অনেক কম'।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved