প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৭, ২৩:০৪:৩৬

চট্টগ্রামে রাতের আঁধারে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর, আটক ১

চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে একটি পারিবারিক শিব মন্দিরের দুটি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার রাত থেকে রোববার ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গা বি নাগ লেনে অজিত শীলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, রোববার বিকেলে শুক্কুর নামে এক মাদকাসক্ত যুবক মন্দির এলাকায় এসে ভাংচুরের দায় স্বীকার করে। তার হাতে মন্দির থেকে খোয়া যাওয়া একটি ত্রিশূল ও ঢুলি ছিল। তাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্কুর জানান, তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলার খসরুপুর। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ বেপারীপাড়ার পোড়াগলি এলাকায়। তার স্ত্রী গৃহকর্মী।

সরেজমিন দেখা যায়, মন্দির চত্বরে মূর্তির ভাঙা কিছু অংশ পড়ে আছে। তাতে আগুন দেওয়া হয়। তখনও ধোঁয়া উঠছে। প্রায় সাত ফুট লম্বা কালো ভৈরবের মূর্তি পুকুরের পাশে উপড়ে পড়ে আছে। মন্দিরের বারান্দায় স্থাপিত নন্দীকেশরের মূর্তির মুখের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। মন্দিরের দেয়ালে টাইলসে অঙ্কিত কালী দেবী, স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ ও সারদা দেবীর চিত্রে কালো স্কচটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। নন্দীকেশরের মূর্তিটি বসানোর স্থানে 'ওঁ' লেখাও কালো টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

অজিত শীল সমকালকে বলেন, 'শনিবার রাত ১০টায় মন্দিরে তালা দিয়ে বের হয়ে যাই। রোববার সকালে এসে দেখি এ বীভৎস চিত্র। কে করেছে জানি না।' এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

মন্দিরের পাশের বাসিন্দা পম্পি শীল সমকালকে বলেন, 'শনিবার রাত ২টার দিকে ঘুমাতে গেছি। তখনও সব ঠিক ছিল। মন্দিরের সব বাতি জ্বলতে দেখেছি। সকালে উঠে দেখি এ অবস্থা। আশপাশে বিভিন্ন ভবনের নির্মাণকাজের শব্দের জন্য বিষয়টি রাতে কেউ টের পায়নি।'

এদিকে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শুক্কুর এসে দায় স্বীকার করে। কীভাবে ভাংচুর করেছে তারও বর্ণনা দেয়। যুবকটি মাদকাসক্ত হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তার বক্তব্য বিশ্বাস করেননি। যারা ভাংচুর চালিয়েছে, তারা তাকে পাঠিয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা।

বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ সরকার সমকালকে বলেন, 'শুক্কুর নামে এক যুবক এসে বলছে তার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সে একাই মূর্তিগুলো ভাংচুর করেছে। মহাপুরুষদের চিত্রের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিল। তারা কথা বলেনি, তাই টেপ লাগিয়ে দিয়েছে। টেপ মন্দিরের সামনে পেয়েছে বলে দাবি করেছে।'

জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সমকালকে বলেন, 'মানসিকভাবে অস্বাভাবিক এক লোক এসে দাবি করছে, সে এ কাজ করেছে। সে অনুতপ্ত। তার বক্তব্যের সত্যতা আছে কি-না সেটা যাচাই করে দেখছি। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved