শিরোনাম
 এক মাস কঠোর সংযমের পর এলো খুশির ঈদ  ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত  ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা
প্রকাশ : ০৩ মে ২০১৭, ২১:২৩:২৯

'জাহানারা ইমামের আর্দশ ছড়িয়ে দিতে হবে'

সমকাল প্রতিবেদক
শহীদজননী জাহানারা ইমামের আদর্শকে ধারণ করেই যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশ এগিয়ে চলেছে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় শহীদজননীর এই আর্দশকে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। তরুণ প্রজন্ম যদি সোচ্চার হয়, তাহলে দেশে ঘাতক-দালাল নির্মূল হবে। দেশও সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে।

বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লভিএ মিলনায়তনে শহীদজননী জাহানারা ইমামের ৮৮তমজন্মদিন উপলক্ষে ‘শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলনের ২৫ বছর’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ‘মুক্তিযুদ্ধের শহীদস্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটি এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র দেশে নানা ভাবে জঙ্গীবাদ মৌলবাদ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে  প্রথমবারে মতো প্রবর্তিত মুক্তিযুদ্ধের শহীদস্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার পেয়েছেন নাটোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রান্তজনের স্টাফ রিপোর্টার কামাল হোসেন। পুরস্কার বিজয়ীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই দেওয়া হয়।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহ-সভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সভাপতি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. নুজহাত চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, শহীদজননী জাহানারা ইমামের আন্দোলনের ২৫ বছরে অনেক প্রাপ্তির পাশাপাশি অনেক আকাঙ্ক্ষাও রয়েছে। তবে যুদ্ধঅপরাধীদের বিচার এই বাংলার মাটিতে  হয়েছে এটাই বড় প্রাপ্তি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি উঠেছে। তবে জাতীয়ভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তোলা সম্ভব হয়নি। সেটি হয়েছে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে। ১৯৯২ সালে তিনি গণআদালতে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচার করেন। তখন শেখ হাসিনাও আন্দোলনে যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আর এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে এবং এটি অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যেমনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধীতা করছেন, তেমনি এখন জঙ্গিবাদ নির্মুলের কার্যক্রমেও বিরোধীতা করে আসছেন। খালেদা জিয়া  ও বিএনপি বার বার প্রমাণ করেছে তারা কখনো বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। বরং স্বাধীনতা বিরোধীদেরই সমর্থন দিয়েছেন।

শাহরিয়ার কবির বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জাহানারা ইমামেরর আন্দোলনকে এখন আরও বেগবান করতে হবে।

শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, জাহানারা ইমাম অহিংস পদ্ধতি আন্দোলন করে দেখিয়েছেন কিভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি আদায় করতে হয়। আমাদেরকেও এখন জঙ্গিবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে মোকাবেলা করতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এটা পারলে তবেই আমাদের স্বার্থকতা।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved