শিরোনাম
 ১১ মে পবিত্র শবে বরাত  শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা থেকে আবুসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার  লোডশেডিং কমাতে বিশ্বব্যাংকের ৪৭২ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন  শুধু ব্যক্তি নয়, উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়তে হবে: ক্যামেরন
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ২৩:০৮:১০

স্ত্রী তালাক দেওয়ায় প্রতিবেশী শিশুকে হত্যা!

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী তালাক দেওয়ায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার ওপর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশীর দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে তুলে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ফারুক নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার ফারুকের বাড়ির পাশের একটি বিল থেকে স্কুলব্যাগসহ স্কুলছাত্র রেজাউল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাঁও ইউনিয়নের ধরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ধরগাঁও গ্রামের ছেতরা বিলে এক শিশুর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে অর্ধগলিত ও ফুলে যাওয়া লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওই সময় শিশুর কাঁধে তার স্কুলব্যাগ ছিল। ব্যাগের ভেতরে বইয়ের মধ্যে নাম ও পরিচয় লেখা ছিল। সেই সূত্র ধরে খবর পাঠানো হয় পরিবারের লোকজনকে।

ছেলের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে থানায় ছুটে আসেন ভ্যানচালক সোবহান মিয়া, স্ত্রী মোর্শেদা বেগম ও বড় ভাই ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া মোকশেদুল ইসলাম। বিকেলে নান্দাইল মডেল থানায় গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন তারা। এ সময় তাদের আহাজারিতে থানা চত্বরের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা মোর্শেদা বেগম।

শিশু রেজাউলের বাবা সোবহান মিয়া জানান, তারা গাজীপুরের যে বাসায় ভাড়া থাকতেন, একই বাসায় ভাড়া থাকতেন নান্দাইলের ধরগাঁও এলাকার রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ফারুক মিয়া। গত মঙ্গলবার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্কুলের বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ফারুক ও তার সহযোগী সেলিম মিয়া রেজাউলকে নিয়ে গেছে। এরপর রেজাউল ও ফারুকের সন্ধান করে না পেয়ে পর দিন বুধবার জয়দেবপুর থানায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

সোবহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'ফারুক কয়েক দিন ধরেই আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। সেই আমার ছেলেকে তুলে এনে হত্যা করেছে।'

শুক্রবার নান্দাইল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) খলিলুর রহমান হাওলাদারের কক্ষে বসে ফারুকের সাবেক স্ত্রী লাকি আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ফারুকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন তিনি। দু'জনের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এক মাস আগে তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি নান্দাইলের রাজগাতি ইউনিয়নের কালীগঞ্জে চলে যান তিনি। কিন্তু এই তালাকের পেছনে প্রতিবেশী সোবহান ও তার স্ত্রীর হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে ফারুক। এ জন্য তাকে এবং সোবহানকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেয় সে। ফারুকই শিশুটিকে তুলে এনে হত্যা করেছে।

শিশু রেজাউলের মা মোর্শেদা বেগম আহাজারি করে বলেন, 'আমার ছেলের কী দোষ ছিল। তাকে কেন এমনভাবে প্রাণ দিতে হলো।' ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

লাশটির সুরতহাল করেন নান্দাইল মডেল থানার এসআই মো. নুরুল হুদা। তিনি জানান, লাশটি ফুলে থাকায় ঠিক কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে মনে হচ্ছে, অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. খলিলুর রহমান হাওলাদার বলেন, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved