শিরোনাম
 চাঁপাইনবাবগঞ্জে 'জঙ্গি আস্তানায়' ফের গুলির শব্দ, অভিযান শুরু  টাঙ্গাইলে ২ ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ২২:১৯:৩১

গ্যাস সংকটে মিরপুরে দুর্ভোগ

সমকাল প্রতিবেদক
গ্যাস না থাকায় রাজধানীর মিরপুরে অসহনীয় দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন এলাকাবাসী। হোটেল-রেস্তোরাঁতে গিয়েও অনেকে খাবার পাননি। উপোস কাটাতে হয়েছে অনেককে। বাসায় রান্না না হওয়ায় এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভিড় জমে যায়।

শুক্রবার ছিল সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন। অধিকাংশ মানুষ বাসায় ছিলেন। রাত ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা অবধি মিরপুরের কোনো কোনো এলাকায় গ্যাস আসেনি বলে জানা যায়।

গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছে, মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে গ্যাস লাইন সরানো হচ্ছে। এজন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তিতাস ঘোষণা দিয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

আর দুপুরে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান দাবি করেন, দুপুরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক এলাকার পাইপলাইনে গ্যাস আসেনি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা সমকাল অফিসে ফোন করে জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাইন সরানোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় তিতাস লাইনে গ্যাস সরবরাহ করেনি। ফলে সকালে লাইন চালু করার কথা থাকলেও চালু করতে বিকেল হয়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও কোনো কোনো এলাকায় রাতেও গ্যাস আসেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেট্রোরেলের কথা বলে গত দু'মাস থেকে প্রায়ই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে এ এলাকায়। কিন্তু কাজ আর শেষ হয় না। আরও রয়েছে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি। চলাচলের ভোগান্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাসের হাহাকার।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মিরপুর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বাড়িতে চুলা জ্বলেনি। মিরপুর ১ থেকে ১০ নম্বর গোল চত্বর হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত আসার পথে খাবার হোটেলগুলোতে লোকজনের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে জুমার নামাজের পর অনেক হোটেলেই লাইন ধরে লোকজনকে খাবার কিনতে দেখা গেছে।

মিরপুর ২ নম্বরের পূর্ণিমা হোটেলে খাবার কিনতে আসা সাইদুর বাপ্পি বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন। বাসায় থাকতেই হয়। কিন্তু সকাল থেকে গ্যাস নেই। রান্না হয়নি। তাই হোটেলে খাবার কিনতে এসেছেন। সকালের নাশতা হোটেল থেকে কিনেছেন বলে জানান তিনি।

মিরপুরের পাইকপাড়ার বাসিন্দা সেলিম হোসেন দুপুরে সমকালকে জানান, শুক্রবার ছুটির দিন বলে কয়েকজন আত্মীয়কে বাসায় দাওয়াত করেছিলেন। তিতাস বলেছিল, সকাল ৮টার পর গ্যাস আসবে। কিন্তু দুপুর হয়ে গেল। এখনও গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে অতিথিদের আসতে নিষেধ করতে হয়েছে। নিজেদের জন্য হোটেল থেকে খাবার আনা হয়েছে।

পূর্ব শেওড়াপাড়ার গৃহিণী নাসিমা আক্তার সমকালকে বলেন, গত কয়েক মাস থেকে গ্যাসের সমস্যা চলছে। দিনের বেলা গ্যাস থাকে না; আসে গভীর রাতে। এ জন্য ভোর বেলা উঠে রান্না করতে হয়। কিন্তু গতকাল তাও সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে পরিবারের জন্য হোটেল থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।

মেট্রোরেলের লাইন স্থাপনের জন্য ভূগর্ভস্থ পরিসেবা সরানোর কাজ চলছে। তিতাস গ্যাস লাইন সরানোর জন্য গত দু'মাস ধরে কাজ করছে। সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে এ কাজ করা হয়। এ জন্য আগেই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়; এলাকায় মাইকিং করা হয়। গত বুধবার তিতাসের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাইপ স্থানান্তরের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মিরপুর ১, ২, ৬, ৭, ১০, ১১, ১২, ১৩, ও ১৪, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মনিপুর, আগারগাঁও, তালতলা, কাফরুল, কচুক্ষেত, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএস, আহমেদনগর, শাহআলীবাগ, পাইকপাড়া ৬০ ফুট রাস্তার আশপাশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বাস্তবে গতকাল প্রায় সারাদিনও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিকেলে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস এলেও অধিকাংশ এলাকায় সংকট ছিল।

জানতে চাইলে তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) এইচএম আলী আশরাফ সমকালকে বলেন, গতকাল কয়েকটি কারণে প্রতিশ্রুত সময়ে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। প্রথমত, বৃষ্টি হওয়ায় কাজ শেষ হতে বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর ১১'র দিকে একটি স্থানে পাইপ লাইন সরানোর সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে তাদের এক কর্মী আহতও হয়েছেন। আগে সপ্তাহে একদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে এক স্থানের লাইন সরানো হলেও এবার (শুক্রবার) একসঙ্গে ৫টি স্থানে পাইপ লাইন সরানোর কাজ করা হয়েছে। এতে সময় বেশি লেগেছে।

তিনি জানান, দুপুর দেড়টার পর অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। রাতের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শুক্রবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বিষয়ে তিতাসের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশনের স্ক্রল গেলেও অনেক স্থানে মাইকিং হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাজীপাড়ার বাসিন্দা ফেরদৌস হাবীব জানান, তার এলাকায় আগে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়নি।

এ বিষয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি তারা আগেই বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশনের স্ক্রল দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে মাইকিং করা হয়েছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি হয়তো মাইকের ঘোষণা শুনতে পাননি।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved