শিরোনাম
 প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে হাওর পরিদর্শনে যাচ্ছেন রোববার  ইন্টারনেটের দাম কমাতে কাজ করছে সরকার: তারানা  হাওর এলাকায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের ছুটি বাতিল  সারোয়ার-তামিম গ্রুপের আইইডি বিশেষজ্ঞ জেনি গ্রেফতার: র‌্যাব
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ২১:৪৭:২২

বৃষ্টি-জোয়ারে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো
ভারি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চল।

শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নগরীতে। সকালে ঘুম থেকে উঠে থৈ থৈ পানি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন নগরবাসী। জলাবদ্ধতায় নগরীর প্রধান সড়কসহ শাখা সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় পথে পথে যানবাহন অচল হয়ে পড়ে। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে বাসাবাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

অব্যাহত বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে অবস্থান করছে; যা বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবারও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, জলাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, 'আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দ্বিতীয় মৌসুম। জলাবদ্ধতা উত্তরাধিকার সূত্রে আমি পেয়েছি। তবে আমি চেষ্টা করছি নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে। এর জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছি। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের বিষয়টি এ মাসে চূড়ান্ত হবে। খালগুলোর মুখে পাম্প হাউসসহ স্লুইসগেট স্থাপন প্রকল্পের ডিপিপি মন্ত্রণাণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একনেকে অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।'

বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। ভারি বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া ডিসি রোড, নাসিরাবাদ, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, হেমসেন লেন, আগ্রাবাদ, হালিশহর, জামালখান, সিডিএ আবাসিক এলাকা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাসহ নগরীর বিভিল্পু নিচু এলাকা পানিতে ডুবে যায়। কোথাও কোমর আবার কোথাও বুক সমান পানি জমে যায়। ফলে এসব এলাকার অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে।

নগরীর প্রবর্তক, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নল্ফ^র গেট, জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, কাপাসগোলা, চকবাজার, ডিসি রোড ও বাকলিয়া এলাকায় রাস্টøাঘাটে পানিতে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। এতে যানবাহনে থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না। লেগে থাকে যানজটও। অনেকে বুকসমান পানি মাড়িয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান।

বিকেলের দিকে পানি নেমে যাওয়ার পর হাতেগোনা কিছু গণপরিবহন রাস্তায় নামলেও বেশি ভাড়া আদায় করা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদের বাস ভাড়া ৯ টাকা হলেও আদায় করা হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে অন্যান্য রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরের বহদ্দারহাট থেকে নাসিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক বুক সমান পানিতে ডুবে  গেছে। পথে পথে আটকা পড়তে দেখা যায় কয়েক শ' যানবাহন। বিশেষ করে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলোর ইঞ্জিনে পানি ঢুকে অচল হয়ে পড়ে। শুক্রবার বন্ধের দিন থাকায় রাস্তাঘেঁষা দোকানপাট বন্  ছিল। এসব দোকানে পানি ঢুকে অনেক মালপত্র নষ্ট হয়। বহদ্দারহাট মোড়ে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারে পানি জমে যাওয়ায় রাস্তা সংলগ্ন ফুটপাতে শাক-সবজি ও মাছ বিত্রিক্র করতে দেখা যায়। ডুবে গেছে চকবাজার কাঁচাবাজারও।

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি বাসার সামনে পানি থৈ থৈ করছে। দুপুর পর্যন্ত বাসায় আটকে ছিলাম। দুপুরের পর পানি কিছুটা কমেছে।'

সিএনজি অটোরিকশা চালক আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, ‘সকালে গাড়ি নিয়ে বের হলেও বেশিক্ষণ চালাতে পারিনি। কাতালগঞ্জ এলাকায় প্রায় ঘণ্টা খানেক আটকে ছিলাম। হালিশহর গিয়েছিলাম সেখানেও হাঁটুসমান পানি জমে ছিল।’

টানা বৃষ্টিতে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়েও পানি জমে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, 'কার্যালয়ের মাঠে প্রায় তিন ফুট পানি জমেছে। গ্যারেজ, ফুয়েল রুম, প্রশাসনিক ভবনেও পানি ঢুকেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর কাদার আস্তরণ পড়ে গেছে।'

এদিকে, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকা সকাল থেকেই ছিল বিদ্যুৎহীন।

সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান সমকালকে বলেন, কালবৈশাখীর সঙ্গে ভারি বর্ষণ শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এর জন্য কোনো সংকেত দেখাতে বলা হয়নি।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved