শিরোনাম
 লংগদুতে যৌথবাহিনীর অভিযানে একে-৪৭ রাইফেল-গুলি উদ্ধার  গাবতলীর পশুরহাটে ভয়াবহ আগুন  সিরাজগঞ্জে বাস- মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত ৪  নতুন ভ্যাট আইন ২ বছর স্থগিত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ০১:৩৯:১৩ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ০৯:২২:৩২

হৃদয়বিদারক বাণিজ্য

রাজবংশী রায়

হার্টের রিং বাণিজ্যের নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বানচাল করতে চিকিৎসক-ব্যবসায়ী একজোট হয়েছেন। এ সিন্ডিকেটে রয়েছেন ২১ ব্যবসায়ী ও শতাধিক চিকিৎসক। রিংয়ের দাম নির্ধারণ-সংক্রান্ত সরকারি প্রস্তাবের বিরোধিতা করে গত বুধবার দেশের সব সরকারি হাসপাতালে রিং সরবরাহ বন্ধ রাখে ওই চক্র। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে রিংয়ের বেঁধে দেওয়া মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে রয়েছেন কঠোর অবস্থানে।

গত বুধবার সরকারি হাসপাতালে রিং সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েন। তবে গতকাল থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরকারি হাসপাতালে সীমিত আকারে রিং সরবরাহ শুরু করলেও আগের মূল্যেই তা বিক্রি করেছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সম্প্রতি দুই ধরনের রিংয়ের সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল্য ৫০ হাজার টাকা প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে এই রিং রোগীদের কাছে ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। প্রতিবেশী ভারতে এই রিংয়ের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য আট হাজার ৯২৯ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ৩৬ হাজার ৮০৪ টাকা। বাংলাদেশে প্রোমাউস ইলিমেন্ট রিং এক লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় এবং ভারতে ভ্যাট ছাড়া ৩৬ হাজার ৪০৮ টাকায় বিক্রি হয়। একইভাবে রেজুলেট ইন্টিগ্রেটি রিং এক লাখ ৪০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকায় এবং ভারতে ভ্যাট ছাড়া ৩৬ হাজার ৪০৮ টাকায়, জিয়েন্স প্রাইম রিং এক লাখ ১০ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকায় এবং ভারতে ভ্যাট ছাড়া ৩০ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৭৭ টাকায় বিক্রি হয়।

দেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার হার্টের রিংয়ের চাহিদা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রোগীদের জিম্মি করে চক্রটি প্রতি

বছর দেশে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রিং বাণিজ্য করছে।

রিং বাণিজ্যে এ চক্রটি এতই মরিয়া যে, চড়া দাম না পেলে এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ করে ফেলতেও দ্বিধা করে না। গত বছর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সরকারিভাবে প্রতিটি ৩৪ হাজার টাকা দামে ৪৮টি এবং প্রতিটি ৩৬ হাজার টাকা দামে ১০২টি হার্টের রিং কেনা হয়। প্রায় ৫৪ লাখ টাকা মূল্যে কেনা এসব রিং রোগীদের নির্ধারিত সময়ে পরানো হয়নি বলে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে। শুধু বাণিজ্য করার কারণেই বিনা মূল্যের ওই রিং দরিদ্র রোগীদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হার্টের রিং নিয়ে কাউকে বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সমকালকে বলেন, 'হার্টের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রিং একটি প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী মেডিকেল ডিভাইস। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এই রিং ভিন্ন ভিন্ন মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে রিংয়ের মূল্য নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটিও করা হয়েছে। ওই কমিটি যাচাই-বাছাই করে রিংয়ের একটি মূল্য তালিকা প্রস্তাব করেছে। কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা সবাইকে মানতে হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পেঁৗছে দিতে যে উদ্যোগ নিয়েছে; রিংয়ের মূল্য নির্ধারণ তার মধ্যে পড়ে।' তিনি জানান, জনগণের সরকার ব্যক্তি নয়; জনস্বার্থকে সব সময় প্রাধান্য দেবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব সমকালকে বলেন, 'হার্টের রিং নিয়ে নৈরাজ্য প্রতিরোধে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার রিং আমদানির পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরও ভূমিকা রাখবে। তাদের কাছ থেকে রিং কিনে নিয়ে রোগীর কাছে সরবরাহ করতে হবে।' জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান সমকালকে বলেন, 'হার্টের রিং বিক্রি নিয়ে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তার অবসান হবে।'

চিকিৎসক-ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট :সমকালের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শতাধিক কার্ডিওলজিস্ট ও ২৫টি রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে হার্টের রিং বাণিজ্য। দু'পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেই কেবল হার্টের রিং বিক্রি হয়। রোগীকে প্রতিটি রিং পরানো বাবদ ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি কমিশন নেন চিকিৎসকরা। এতে হার্টের রিংয়ের মূল্য বেড়ে যায়। অসংখ্য গরিব মানুষ এই কমিশন বাণিজ্যের শিকার হচ্ছেন। হার্টের রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডি গ্রাফিক ট্রেডিং লি., কার্ডিয়াক কেয়ার লি., ওরিয়েন্ট এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লি., কার্ডিয়াক সলিউশন, ইউনিমেড লি., বায়োভাসকুলার লি., ওমেগা হেলথ কেয়ার, গ্গ্নোবাল করপোরেশন, দ্য হার্ট বিট, জিন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লি., অ্যাডভান্সড মেডিটিস, বিজনেস লিংক, ইপিক টেকনোলজিস, হার্ট কোয়াক লি., জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইসিট এমএফজি লি., বিভা ইন্টারন্যাশনাল, অ্যালায়ান্স মেডিকেল, লাইফ লাইন ইন্টারন্যাশনাল, আমিন সার্জিক্যাল, করোনারি কেয়ার অ্যান্ড মেডিকেল সার্ভিসেস, আর্টিক্যুলার, এশিয়া প্যাসিফিক মেডিকেলস লি, দ্য স্পন্দন লিমিটেড ইত্যাদি। এদের যোগসাজশেই এ অনৈতিক কাজ চলছে বছরের পর বছর।

রিং পরানো হচ্ছে ভুল তথ্য দিয়ে :শুধু হার্টের রিং নয়; হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত পেসমেকার, বেলুন গাইডওয়্যার, ক্যাথেটার, ভাল্ব, অক্সিজেনেটর ইত্যাদি নিয়েও অবৈধ বাণিজ্য করছে চক্রটি। অভিযোগ আছে, রক্তনালী সামান্য সংকুচিত হলেই চিকিৎসকরা রোগীকে রিং পরাতে প্রলুব্ধ করেন। বিএসএমএমইউ-এর এক চিকিৎসক বলেন, 'যে সমস্যা মাত্র ১৫ হাজার টাকার বেলুন থেরাপিতে সমাধান করা যায়, তা সমাধান করতে রিং পরিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা বেশি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি সহকর্মীদেরও রেহাই দিচ্ছে না এ চক্রটি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিজয় কুমার পাল সমকালকে বলেন, 'বিএসএমএমইউ-এর কার্ডিওলজি বিভাগের এক অধ্যাপকের অধীনে গত বছর তার বাবার এনজিওগ্রাম করানো হয়। এ সময় তিনি তিনটি রিং পরানোর পরামর্শ দেন। প্রতিটি রিংয়ের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে বাবাকে রিং পরানো হয়নি। পরে অন্যখানে এনজিওগ্রাম করে দেখা যায়, তার বাবার হার্টে কোনো ব্লকই নেই। এখনও রিং ছাড়াই তিনি সুস্থ আছেন।

সম্প্রতি উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাকীবুল হক লিটু ভুল তথ্য দিয়ে রোগীকে রিং পরানোর জন্য প্রলুব্ধ করেন। অথচ অন্যত্র এনজিওগ্রাম করে তার হার্টে ব্লকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরে রোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত ওই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।

দাম বেশি, রোগীরা তাই ভারতমুখী :ল্যাবএইড হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট ডা. সোহরাবুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'হার্টের রিংয়ের মূল্য আমাদের দেশের তুলনায় ভারতে অনেক কম। তাই অনেক রোগীই সেখানে চলে যান। ভারতের ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইসিং অথরিটির (এনপিপিএ) মতো এ দেশেও এ ধরনের কর্তৃপক্ষ থাকা উচিত। তাহলে ওষুধসহ মেডিকেল সামগ্রীর বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসবে।'

রিং আমদানিকারকদের সংগঠন মেডিকেল ডিভাইসেস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, হার্টের রিংয়ের মূল্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ না করলে তাদের আমদানি বন্ধ করে দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের সদস্য এবং লাইফ লাইন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আবদুুল বাসেত সমকালকে বলেন, 'হার্টের রিংয়ের মূল্য পুনর্নির্ধারণের জন্য ঔষধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করি, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।'

রিং বিক্রির প্রক্রিয়া ও মূল্য পার্থক্য :অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাজারে ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের রিং পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ভেতরে অন্তত অর্ধশত প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধিরা ঘুরে বেড়ান। ক্যাথল্যাবের আশপাশে অবস্থান করেন তারা। সরাসরি রোগী বা তাদের স্বজনদের সঙ্গে তারা কথা বলেন না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর কথাবার্তা চূড়ান্ত হলেই কেবল ডেকে পাঠানো হয় তাদের। এর পর রিং বিক্রি করা হয়। পরিচয় গোপন রেখে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি রিং বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। কমিশনের অর্থ কেউ নগদ, আবার কেউ বিদেশ ভ্রমণে স্পন্সর হিসেবে নিয়ে থাকেন। বিভিন্ন হাসপাতালে রিং পরানোর জন্য কমিশন নেওয়া এই চিকিৎসকদের ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীরা ২০ হাজার টাকার রিং ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়, ৫০ হাজার টাকার রিং ৮০ থেকে এক লাখ টাকায় কিনে থাকেন। হাতেগোনা যে ক'জন চিকিৎসক কমিশন নেন না, তাদের ওয়ার্ডে রিং পরানো রোগীরা ভর্তিই হতে পারেন না। সৌভাগ্যক্রমে এসব চিকিৎসকের ওয়ার্ডে ভর্তি হতে পারলে রোগীরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পান।

রিং বাণিজ্য ঠেকাতে গত বছরের ১৯ মে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট (এনআইসিভিডি) কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মডেলের রিংয়ের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও লাভ হয়নি।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক সমকালকে বলেন, 'হার্টের রিং বিক্রির নামে যে লাগামহীন ব্যবসা এতদিন ধরে চলছে, সরকার তার লাগাম টেনে ধরেছে। এ ক্ষেত্রে পিছু হটলে চলবে না। শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সবার আগে জনস্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। তবে মান ও মূল্যের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।'

রিং পরানোর যোগ্য চিকিৎসকের অভাব :একাধিক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনজিওগ্রাম করে রক্তনালীতে এক থেকে তিনটি পর্যন্ত ব্লক ধরা পড়লে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রিং পরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ বিষয়ক বিশেষায়িত কোর্স 'ফেলোশিপ অন ইন্টারভেনশন' সম্পন্ন করা চিকিৎসকরা সুষ্ঠুভাবে এ কাজটি করতে পারেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মাত্র তিনজন চিকিৎসক এ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। একজন ইলেকট্রো ফিজিওলজিস্ট রয়েছেন। অথচ রিং পরিয়ে কমিশন নিচ্ছেন অর্ধশতাধিক চিকিৎসক।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টের অধীনে তিন থেকে পাঁচ বছর হাতেকলমে অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়া রিং পরানোর কাজে হাত দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন বিএসএমএমইউ-এর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, 'চারটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রিংয়ের প্রস্তাবিত মূল্য অধিদপ্তরে দাখিল করেছে। এতে বেয়ার মেটাল ও ডিইএস সেন্টের মূল্য ২৫ হাজার এবং ড্রাগ ইলিওটিং স্টেন্টের মূল্য ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন থেকে সব সরকারি হাসপাতালে এ দামে স্টেন্ট বিক্রি হবে। ২১টি কোম্পানিকে ৪৭ ধরনের স্টেন্ট আমদানির জন্য নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।' নিবন্ধিত সব কোম্পানিকে এখন থেকে হার্টের রিংয়ের মূল্য, নিবন্ধন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ মোড়কের গায়ে উল্লেখ করতে হবে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved