শিরোনাম
 ১১ মে পবিত্র শবে বরাত  শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা থেকে আবুসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার  লোডশেডিং কমাতে বিশ্বব্যাংকের ৪৭২ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন  শুধু ব্যক্তি নয়, উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়তে হবে: ক্যামেরন
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:৪৮:৩৩

চোখের জলে বিদায় বার্সার

সাখাওয়াত হোসেন জয়
ভেতরে কতটা কষ্ট জমা থাকলে তা ডুকরে বেরিয়ে আসে চোখের জলে, আশাভঙ্গের বেদনা কতটা গাঢ় হলে তার মতো কেউ অসহায় বোধ করেন, আবেগ কতটা স্পর্শকাতর হলে তা নাড়িয়ে দিতে পারে প্রতিপক্ষের হৃদয়কেও। দেখালেন তা নেইমার, দেখল তা ন্যু কাম্প আর তার সঙ্গে গোটা ফুটবল বিশ্ব। প্রচণ্ড বিশ্বাস ছিল তারা ভেঙে ফেলতে পারবেন জুভদের গড়া দেয়াল, বার্সার হয়ে লিখতে পারবেন তিনি আরেকটি রূপকথার গল্প! কিন্তু রূপকথা যে বারবার ফিরে আসে না, জুভেন্তাসের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করার পর যেন তা বুঝেও অবুঝ ছিলেন নেইমার। ম্যাচ শেষে অসহায় এক স্কুলবালকের মতো তাকে কাঁদতে দেখে দৌড়ে এসেছিলেন দানি আলভেস, হোক না তিনি প্রতিপক্ষের কেউ। আদতে তিনিও তো নেইমারের ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ। তাই সান্ত্বনার বুকটি আলভেসই পেতে দিয়েছিলেন নেইমারের চোখ মোছার জন্য! দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ায় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে আবারও বিদায় নিতে হলো বার্সাকে। কিন্তু মেসি-নেইমারদের এই বিদায়ে কোনো হীনম্মন্যতা ছিল না; বরং ন্যু ক্যাম্পের ভরা গ্যালারি 'আমরা তোমাদেরই সঙ্গে আছি...' গান গেয়ে মেসিদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিয়েছে। বার্সেলোনার দৈনিক মুন্ডো ডিপোর্তো শিরোনাম করেছে_ 'গুডবাই উইথ প্রাইড'।

নব্বই মিনিট রাজত্ব। বল পজিশনেও যোজন যোজন এগিয়ে। ১৩টি কর্নার। ১৯টি শট। বুধরাত রাতে ন্যু ক্যাম্পের সবুজ গালিচার সবখানেই ছিল লিওনেল মেসি-নেইমারদের বিচরণ। কিন্তু গোলটাই পেল না বার্সেলোনা, যেটাই ভীষণ প্রয়োজন ছিল। হলো না আরেকটি রূপকথা। মহাকাব্যের আরেকটি গল্পও লেখা হলো না। হয়নি জুভেন্তাসের রক্ষণ দেয়ালের কারণে। হয়নি মেসি-সুয়ারেজদের মিসের মহড়ায়। পিএসজি রূপকথার পুনরাবৃত্তির স্বপ্নদ্রষ্টা মহানায়ক নেইমারও যে পারেননি প্রিয় মঞ্চে ফুল হয়ে ফুটতে। তাই তো ঐতিহাসিক মাঠ ন্যু ক্যাম্পে আসা প্রায় এক লাখ সমর্থক দেখতে পারল না অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তন। তবুও শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগেই পতাকা উড়িয়ে, গান গেয়ে দলের প্রতি সমর্থনের কথা জানান দিয়ে গেল তারা। তাতে কী আর নুয়ে পড়া বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের কষ্ট কমে। কান্নায় ভেঙে পড়া নেইমারদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন জুভেন্তাসের খেলোয়াড়রা। ইতালিয়ান জায়ান্টদের উচ্ছ্বাসের দৃশ্য শিল হয়ে বিঁধেছে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা-জেরার্ড পিকেদের বুকে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় বার্সেলোনার। আর ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সপ্তমবারের মতো সেমিফাইনালে পেঁৗছা জুভেন্তাসের সঙ্গী স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের মোনাকো। আজ অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনালের ড্র।

সেই ড্রয়ে বার্সার নাম থাকবে না। এটা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না কাতালানরা। সেই বিশ্বাস তো তাদের এনে দিয়েছিলেন নেইমাররাই। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর ফিরতি লেগে ৬-১ গোলে জিতে ইতিহাসের সেরা প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এবারও সেই মিরাকলের সামনে ছিল লুইস এনরিকের দল। তুরিনে প্রথম লেগে জুভেন্তাসের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর বার্সেলোনার আকাশে-বাতাসে উঠেছিল আরেকটি রূপকথার গল্প। কিন্তু মহাকাব্য যে বারবার হয় না। সেটা প্রমাণিত হলো এদিন। সেই মহাকাব্য হতে দেয়নি জুভেন্তাস। বিখ্যাত 'এমএসএন' ত্রয়ী মেসি, সুয়ারেজ, নেইমারকে নিয়ে গড়া বার্সেলোনার আক্রমণভাগকে সুযোগই দেয়নি জুভরা। ২০১৫ সালের বার্লিনে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার যে জেদটা ছিল জিয়াইনলুইজি বাফনদের মনে সেটাই এবার বিস্ফোরণ হয়েছে। তুরিনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাটা ধরে রাখে বার্সার মাঠেও। প্রথম লেগে কেবল রক্ষণভাগই নয়, আক্রমণভাগের শিল্পীরাও জ্বলে উঠেছিলেন। বুধবার আন্দ্রে বারজাগলি, লিওনার্দো বুনোচ্চি ও জর্জ কিয়েলি্লনিকে নিয়ে গড়া রক্ষণের শিল্পীরা ধাঁধায় ফেলে দেন বার্সেলোনার আক্রমণভাগের তারকাদের।

জুভেন্তাসের গোলপোস্টের সামনে গেলেই খেই হারিয়ে ফেলেন মেসি-নেইমাররা। গোল করার মতো জায়গাও কাতালানদের দেয়নি ইতালিয়ান জায়ান্টরা। পিএসজি যে ভুলগুলো করেছিল, এদিন মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির দল সেগুলো এড়িয়েই করল বাজিমাত। তবে পুরো ম্যাচে দারুণ ফুটবল খেলে বার্সেলোনা। গোলের সুযোগও সৃষ্টি করেছিল তারা। তিন গোলের ঘাটতি মেটাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালে কী হবে, লক্ষ্যভ্রষ্ট সব শট নিয়ে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বাফনকে কোনো পরীক্ষায়ই ফেলতে পারেননি 'এমএসএন'ত্রয়ীরা। আর এদিন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার মেসি। ফ্রি কিক কিংবা শট কোনো কিছুই লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। যে পাঁচটি শট নিয়েছেন তিনি, সবগুলোই ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমার পর এ প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লীগে এক ম্যাচে মেসির পাঁচটি শটই ছিল লক্ষ্যহীন। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা শট নিয়েছিল ১৯টি; কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র ১টি। বিপরীতে ১২টি শট নিয়ে চারটিই লক্ষ্যে রেখেছে জুভেন্তাস। এদিক দিক এগিয়ে ছিল ইতালিয়ানরাই।

জুভেন্তাসের সাফল্য ছিল তারা বার্সেলোনাকে জায়গা করতে দেয়নি। বার্সেলোনার প্রতিটি গোলের প্রচেষ্টাই ছিল কিছুটা দুরূহ কোণ থেকে। তাই শেষের দিকে বার্সার সবাই ওপরে উঠে আক্রমণে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু জুভেন্তাসের রক্ষণ দেয়াল যে ভাঙতে পারেনি এনরিকের দল। তাই ১৮০ মিনিট গোল না পাওয়ার হতাশা নিয়েই শেষ হলো বার্সার এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved