শিরোনাম
 ঘূর্ণিঝড় 'মোরা': চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত  অস্ট্রিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ  দিনাজপুরে অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষের পর বাস খাদে, নিহত ৩  নতুন ভ্যাট আইনে সংকট তৈরি হবে
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০৩:৩৬

লেনদেন আবার পাঁচশ' কোটির ঘরে

সমকাল প্রতিবেদক
আজ পতন হয়েছে, কালই ঘুরে দাঁড়াবে শেয়ারবাজার_ দিনের লেনদেন শেষে এমন আশা নিয়ে প্রতিদিনই ঘরে ফিরছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তবে পরের দিনও হতাশ হয়েছেন তারা। দেশের শেয়ারবাজারের এ চিত্র গত এক মাসের। এ অবস্থায় ধৈর্য হারিয়ে অনেকে যেমন পোর্টফোলিওতে শেয়ারের মূল্য কমা ঠেকাতে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করছেন, তেমনি অনেকে নতুন করে বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। এতে ক্রমাগত কমছে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে। লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৫৮ কোটি টাকার শেয়ার, যা গত সাড়ে পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন। এর আগের সর্বনিম্ন প্রায় ৫৫৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল গত বছরের ৯ নভেম্বর।
শুধু লেনদেন নয়, দরপতনে বাজার সূচকও দ্রুত হারে কমছে। গত ৪ এপ্রিল লেনদেনের এক পর্যায়ে সূচকটি ৫৭৯৭ পয়েন্টে উঠেছিল। গতকাল এ বাজারে লেনদেন হওয়া ৬০ শতাংশেরও বেশি শেয়ারের দরপতন হওয়ায় সূচক কমেছে ৩৩ পয়েন্ট। লেনদেনের শেষে তা গত ১২ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন অবস্থান ৫৫২০ পয়েন্টে নামে। অর্থাৎ সর্বশেষ ১২ কার্যদিবসে সূচক কমেছে ২৭৬ পয়েন্ট বা পৌনে ৫ শতাংশ। এ অবস্থায় শেয়ারদর, সূচক ও লেনদেন হ্রাসের এ ধারা কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে, এটাই এখনকার প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের। অনেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, কমিশন বাজার নিয়ন্ত্রণ করে না। শেয়ারদর ওঠানামা চাহিদা-জোগানের ওপর নির্ভর করে শেয়ারদর বাড়ছে-কমছে। স্বাভাবিক এ ধারায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা হস্তক্ষেপ করতে চায় না বলেও জানান তিনি। ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ডিসেম্বর শেষেও ডিএসইএক্স সূচক ৫০০০ পয়েন্টের নিচে ছিল। জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে তা ৫৭০০ পয়েন্ট ছাড়ায়। বৃহস্পতিবারের হিসাবে গত কিছুদিনে সূচক কমেছে পৌনে দুইশ' পয়েন্ট। আগের হিসাব তুলনায় এটা খুব বেশি নয়। বিনিয়োগকারীদের এ অবস্থাও বোঝা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীরা নিজেদের বিচার-বুদ্ধিতে বিনিয়োগ করবেন। এটা করলে অচিরেই শেয়ারবাজারের টানা পতন থামবে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার এ বাজারে হস্তক্ষেপ করাটা ঠিক হবে না।
বাজার পরিস্থিতি :গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৯৬টিরই দর কমেছে, বেড়েছে ৮৩টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৪৫টির দর। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে ১৫৬ শেয়ার ও ফান্ডের দরপতনের বিপরীতে মাত্র ৫৬টির দর বেড়েছে। এতে এ বাজারের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৭৬ পয়েন্ট হারিয়ে ১০৩৬৮ পয়েন্টে নেমেছে। লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার।
ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং পাট খাত ছাড়া অন্য সব খাতেরই অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। ব্যাংক খাতের ১৯ শেয়ারের দরপতনের বিপরীতে মাত্র ৩টির দর বেড়েছে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ১৭টির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ৫টির দর। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ৩টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৩টির দর কমেছে। প্রকৌশল খাতের ৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ২১টির। ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ২০টির। বস্ত্র খাতের ১২টির দর বেড়েছে, কমেছে ২৯টির। টেলিযোগাযোগ খাতের দুই কোম্পানির উভয়টির অর্থাৎ গ্রামীণফোন ও বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলের দর কমেছে।
৯ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও স্ট্যান্ডার্ড ইন্সুরেন্স। ৫ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে ফিনিক্স ইন্সুরেন্স, মালেক স্পিনিং, রিজেন্ট টেক্সটাইল, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। এমন দরপতনের বিপরীতে শ্যামপুর সুগার ও ঝিলবাংলা সুগার মিলসের শেয়ার দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved