শিরোনাম
 লংগদুতে যৌথবাহিনীর অভিযানে একে-৪৭ রাইফেল-গুলি উদ্ধার  গাবতলীর পশুরহাটে ভয়াবহ আগুন  সিরাজগঞ্জে বাস- মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত ৪  নতুন ভ্যাট আইন ২ বছর স্থগিত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭

হাওরের কান্না...

গীতিআরা নাসরীন

বিশাল হাওরাঞ্চলের বছরের একমাত্র ফসল আগেই ডুবে গেছে দুর্নীতিতে দুর্বল বাঁধ-ভাঙা ঢলে। এখন মাছ মরে মরে ভেসে উঠছে। কী ভয়ানক অশনি!

অথচ কী নিরুদ্বেগ আমরা! কী নিশ্চুপ গণমাধ্যম!

কাজী মাহিদুল কাজী

আজ আমাদের হাওর গেছে। সরকার হাজার হাজার টাকা দিতে পারে ব্রিজের মধ্যে; কিন্তু আমাদের হাওরের মধ্যে যদি কিছু টাকা দিত! বাঁধ ছুটে গিয়ে সোনার ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। চেয়ে চেয়ে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কী করার আছে!

জে আবেদিন

দুঃখজনক! মাছ মরেছে ধানে ছিটানো কীটনাশক আর রাসায়নিক সার হাওরের পানিতে মিশে যাওয়ার কারণে। প্রতিনিয়ত আমরা ধান থেকে শুরু করে শাকসবজি, ফলমূল সবকিছুর মাধ্যমে রাসায়নিক পদার্থই গিলছি।

মোহাম্মদ রফিক

হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও করিমগঞ্জের অন্তত ৪৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে পাহাড়ি ঢলে। কৃষি বিভাগের দাবি, প্রায় ২৩ হাজার ৩শ' হেক্টর জমি পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে পাঁচ টন ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। আর বর্তমানে মণপ্রতি ধানের দাম এক হাজার টাকা। টাকার হিসাবে ক্ষতি হয়েছে ২৯১ কোটি টাকা। যদিও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

কৃষক ও বিভিন্ন সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা টাকার অঙ্কে ৬২৫ কোটি টাকা। এ বছর কিশোরগঞ্জের হাওরে বোরো আবাদ হয়েছে ৮৬ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে। করিমগঞ্জের সুতারপাড়া ইউনিয়নের বেড়াচাপড়া ও চংনোয়াগাঁও হাওরের কৃষকদের বেশিরভাগ জমির ধান তলিয়ে গেছে ডুবি নদীর উপচেপড়া পানিতে।

শেখ অনিন্দ্য মিন্টু

অবিলম্বে হাওর এলাকাকে দুর্যোগ ও উপদ্রুত এলাকা হিসেবে ঘোষণা প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শস্য ও মৎস্য ব্যাংক ভাটিবাংলা-হাওর এলাকার সব ফসল অকালে ডুবে গেছে। কতিপয় দুষ্কৃতকারী জনসেবক ও উন্নয়ন কর্মীদের চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সরকারি উন্নয়নের টাকা লুটপাট করার কারণে বেড়িবাঁধের অপর্যাপ্ততা ও সংস্কারের অভাবে ভাটিবাংলার মানুষের এখন মাথায় হাত।

এখন পর্যন্ত উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে সরকারি কোনো টিম সেখানে যায়নি। দুস্থ, অসহায় কৃষকদের দেওয়া হয়নি কোনো সাহায্যের প্রতিশ্রুতি। তবে কি ভাটিবাংলার মানুষ এ দেশের নাগরিক সুবিধা পাবে না?

অবিলম্বে হাওর এলাকাকে দুর্যোগ ও উপদ্রুত এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সাহায্য বরাদ্দের ব্যবস্থাসহ দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শামীম শাহরিয়ার

জেলার প্রায় ৪০ ভাগ ফসল তলিয়ে গেছে। এখনও ৬০ ভাগ ফসল রক্ষা করা যাবে যদি আর বৃষ্টি না হয়। তবে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতেই হবে। এ তথ্যটা জানিয়েছি সরকারের উচ্চ মহলে। জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের পাকনা হাওর, হালির হাওর, সুনামড়ল হাওর, কালিয়ানি, লুইংগার হাওর, ইয়ারন হাওর, বাইঞ্চাপড়া হাওর, গোরমা হাওরের হাজার হাজার মানুষের দাবি_ যতটুকু ফসল এখনও আছে তাই রক্ষা করার ব্যবস্থা নিন।

জনগণের দাবির সঙ্গে এক সুরে আমিও বলতে চাই, মাননীয় সাংসদগণ, আপনারা একসঙ্গে বসুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাস্তব অবস্থাটা বলুন। প্রশাসনকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে কাজে লাগান, প্লিজ।

শামস শামীম

গত ৩১ মার্চ থেকে শনির হাওর রক্ষায় যুদ্ধ করছেন হাজার হাজার কৃষক। সব তলিয়ে যাওয়ায় তারাও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

সোহেল রানা

বাঁধ ভেঙে হাওর ভাসছে

ফসল তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে।

নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জে কৃষক কাঁদছে

প্রতিকার নাই, উপায় নাই !
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved