শিরোনাম
 লংগদুতে যৌথবাহিনীর অভিযানে একে-৪৭ রাইফেল-গুলি উদ্ধার  গাবতলীর পশুরহাটে ভয়াবহ আগুন  সিরাজগঞ্জে বাস- মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত ৪  নতুন ভ্যাট আইন ২ বছর স্থগিত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭

বাংলাদেশ-ভুটান অকৃত্রিম বন্ধু

দেশো কিনলে দর্জি
ভুটানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন দিনের দ্বিতীয় সফরকে সবাই একটি সরকারপ্রধানের প্রটোকল ছাপিয়ে যাওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে অভিহিত করছেন। এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে। ১৯ এপ্রিল সকালে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার (এনডিডি) বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স যৌথভাবে উদ্বোধনে ভুটানের রানী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে আগে চলে আসেন, যা ছিল অপ্রত্যাশিত। পারুতে আসার পরই আন্তর্জাতিক অতিথিরা আয়েশ চাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশের ৭০ জন সফরকারীর মধ্যে ছিলেন শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা, তার উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, আমলা, কূটনীতিক, নিরাপত্তা কর্মী ও সাংবাদিক। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে তাদের স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবধর্না এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তাকে উপহার দেওয়া হয় ভুটানের ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয়। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা শেষে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে থিম্পুুর লো মেরিডিয়ান হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা সবাই বলেছেন, এ পর্যন্ত এ রকম উষ্ণ, আন্তরিক ও অর্থবহ সংবর্ধনা এর আগে কখনোই পাননি।

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিলের উপস্থিতিতে থিম্পুর হেজোতে শেখ হাসিনা চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। এটি বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস ভবন। উভয় দেশের কর্মকর্তারা এ উপলক্ষ বেশ উপভোগ করেন। ১৯৭৯ সালের পর এ এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। প্রথম যখন ১৯৭৯ সালে ভুটানে বাংলাদেশের দূতাবাস স্থাপিত হয় তখন সব কূটনৈতিক কর্মকর্তা ঢাকা থেকে বাসে থিম্পুতে এসেছিলেন। বাংলাদেশের আমলা ও সাধারণ মানুষ ভুটানকে সব সময় সাধুবাদ দিয়ে আসছে। কারণ ভুটান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে নানা ক্ষেত্রে পারস্পরিক আদান-প্রদান ও সম্পর্ক রয়েছে। যেমন বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। সংস্কৃতির দিক থেকে সম্পর্ক আরও ত্বরান্বিত করতে এ সফরে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যেখানে রয়েছে কলা ও দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের কর ব্যবস্থা। চারটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের পানিপথের যানবাহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের মধ্যে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসায়িক আদান-প্রদান।

ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দুটি বিষয়ে জোর দেয় :বাংলাদেশ, ভুটান ও ভারতের মধ্যকার হাইড্রো পাওয়ার বিষয়ক ত্রিদেশীয় চুক্তির অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যকার উপ-আঞ্চলিক পরিবহন যোগাযোগ চুক্তি। এ বিষয়গুলো জোরালো আলোচনায় রয়েছে। উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বিষয়েও কথাবার্তা চলছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে এবং অটিজম সম্মেলনের মাধ্যমে ভুটানে অটিজম ও ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। অটিস্টিক মানুষ সামাজিক সব কুসংস্কারের বেড়াজাল ছিন্ন করে নানা ক্ষেত্রে কাজ করছে; এটা উৎসাহব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অটিজম ও অন্যান্য ব্যাধির ব্যাপারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সোচ্চার। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনও কাজ করছেন। তিনি অটিজম বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিজিওনাল চ্যাম্পিয়ন। ভুটানের রানী গায়ালতসুয়েন জেতসুন পেমা ওয়াচুকের আগ্রহে অটিজমসহ অন্যান্য বিষয় ভুটানেও গুরুত্ব পাচ্ছে। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের অনুপ্রেরণায় সমাজেও বিষয়গুলো প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ভুটানের গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস বা জাতীয় সুখ ইন্ডেক্সের জন্য বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এটা আনন্দের বিষয় যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আসা সফরসঙ্গীরা তাদের অভিজ্ঞতা নানাভাবে ব্যক্ত করেছেন। যেমন এক দল সাংবাদিকের প্রত্যাশা ছিল, যদি এ সফর আরও দীর্ঘ হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ সফরে গেছেন এ রকম একজন বলছেন, তিনি কোথাও এ রকম আয়েশি সফর করেননি। বুধবার রাতে এক ডিনারে সফরকারী একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য বলছেন, এ সফর সত্যিই অনন্য। আর তা একমাত্র ভুটানেই প্রত্যাশিত।

ভুটানের সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ সচিব; ভুটানের জাতীয় দৈনিক কুয়েনসেল থেকে ভাষান্তরিত
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved