শিরোনাম
 ঘূর্ণিঝড় 'মোরা': চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত  অস্ট্রিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ  দিনাজপুরে অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষের পর বাস খাদে, নিহত ৩  নতুন ভ্যাট আইনে সংকট তৈরি হবে
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭

বাসনা, ঘোষণা, প্রেষণা

মানস চৌধুরী
আমার মা তখন থাকতেন মেহেরপুর। আমি পড়তাম জাহাঙ্গীরনগরে। তো, মায়ের কথা মনে করে আমার মাঝেমধ্যে প্রাণ আইঢাঁই করত। এতটাই যে, টাকার টানাটানির মধ্যেও আমি কখনো কখনো বুধবার বা বৃহস্পতিবার রাতের বাসের একটা টিকিট কেটে উঠে পড়তাম। দুই দিনই সই। দু'দিনের জন্য হলেও আমি তাকে কখনো কখনো দেখতে চলে যেতাম। তিন, চার বা পাঁচ মাস পরে। মা প্রথম দিন যেতে না যেতেই আমার পরদিন বা তার পরদিন চলে আসার সম্ভাবনায় মুহ্যমান হয়ে পড়তেন। মায়ের সঙ্গে বাবাও থাকতেন। তিনিও মুহ্যমান হয়ে পড়তেন। ফলে আগামী একদিনে আমাকে যা কিছু খাওয়ানো সম্ভব তার সম্ভাব্য যোগাড়যন্তর করতে মায়ের সঙ্গে বাবাও হাত লাগাতেন। এমনিতেই বাবা রান্নাঘর থেকে গোসলখানা- সকল জায়গাতেই এমন প্রচুর কাজ করতেন যেগুলো আর পাঁচটা পরিচিত পরিবারে 'নারীদের' বলে বিবেচিত। বাবার সেসব বর্গ নিয়ে কোনোদিনও মাথাব্যথা ছিল না। তারপরও রান্না ও খাবার প্রস্তুতকারী হিসেবে মায়ের মুখ্য ভূমিকার কারণে মায়ের প্রসঙ্গ দিয়েই শুরু করলাম।

তো ওই স্বল্প সময়ে মা সকল সম্ভাব্য খাবারদাবারের প্রস্তুতি বাবার গৃহশ্রম সমেত নিতেন। আর শেষ চবি্বশ বা আটচলি্লশ ঘণ্টায় লাগাতার খাবার-দাবার সামনে এনে রাখতেন। আমি প্রায়ই বিপুল পদের ভিড়ে আর তাল সামলাতে পারতাম না। আমার রুচিবৈকল্য ঘটত, ক্ষুুধামান্দ্য ঘটত। একটা পর্যায়ে এমনকি নিজের লোভ-লালসা (খাবার নিয়ে), রুচির থেকেও বড় হয়ে যেত মায়ের শ্রম ও প্রচেষ্টা। ওই পর্যায়ে আর আস্বাদন হতো না; গলাধঃকরণ হতো। প্রক্রিয়াটা চলত কমবেশি সেদিন সুবেহ-সাদিক পর্যন্ত, যেদিন ঢাকার বাসে সকালে চড়তাম। বাসগুলো কমবেশি সকাল সাড়ে ৬ বা ৭টাতেই ছাড়ত। বাবা পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় রাত্রি ৩টার সময়েই উঠে যেতেন। বা হয়তো বিচ্ছেদ সামলানোর জন্য ঘরকন্নার কাজ শুরু করে দিতেন। আমার মা বা আমাকে ডাকার আগেই চায়ের পানি চাপানো, ঘর ঝাড়ূ দেয়া ইত্যাদি সেরে ফেলতেন। মা উঠে গেলে প্রস্তুতকৃত সেসব খাদ্যের আরেক দফা সাধাসাধি চলত। রাতের বিরতিটুকুর কারণে আরো একটু খেতে আমি সমর্থ হতাম বলেই মনে পড়ে। কিন্তু যতবারই মা খাবার বেঁধে দিতে চেয়েছেন ততবারই পুত্রসুলভ স্মার্টনেসে প্রত্যাখ্যান করেছি। মা আর পুত্রের অহংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে যাননি। তবে হতো কী, যেই না বাস ঝিনাইদহ বা মাগুরা ডিঙোত, খিদে মাথাচাড়া দিতে শুরু করত। আগের দু'দিন যেসব খাবার খাওয়ানোর জন্য মা একনাগাড়ে অনুরোধ করে গেছেন, আর আমি মা- না, এমনকি যেসব খাবার কয়েক ঘণ্টা আগেও মা সাধাসাধি করেছেন সেসবের জন্য মন কেঁদে উঠত। খাবার সঙ্গে না-আনার কারণে আফসোস করতে করতে ঢাকার দিকে আসতে থাকতাম। পরেরবার আর ভুল করব না প্রতিজ্ঞা করতাম, যদিও পরেরবারও একই কাণ্ড ঘটত। ভরা পেটে আস্বাদনের লোভ-লালসা অসম্ভবপ্রায়।

অতৃপ্ত বাসনারাজি তাই কাঁঠালের আমসত্ত্বের মতো, কিংবা সোনার পাথরবাটি। তৃপ্ত হওয়ার পর বাসনার সমাধি ঘটে। অন্তত ওই মুহূর্তে ঘটে, বা ঘটার সম্ভাবনা।

'আপনার হবি কী'- প্রশ্নটা করা হয়নি মধ্যবিত্ত অঞ্চলে; এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই প্রশ্নের উত্তর চিরকালই আমার কাছে খুব জটিল ঠেকেছে। অবশ্য এ কথাও ঠিক, এই প্রশ্ন আপনাকে আমাকে করার থেকে অনেক জরুরি বিখ্যাতদের বা তারকাদের করা। লোকজন তা করেও থাকেন। সেসব তারকা বা বিখ্যাত জনব্যক্তিত্ব একদম ঠিকঠাক সেগুলোর উত্তর দিতে জানেন। তারা বলেন কার ব্যায়ামাগারে যাওয়ার শখ, কার ছুটির দিনে রান্নার শখ কিংবা কার নানান দেশের সিরামিকের বাসন-কোসন সংগ্রহ করার শখ তারা সেগুলো বলতে থাকেন। কেউ কেউ হয়তো বলেন, মধ্যরাত্তিরে উঠে ছাদে বসে কবিতা পড়া, কিংবা অতিপ্রত্যুষে উঠে সেতার বাদন ইত্যাদি। মোটের ওপর তারা যা-ই বলেন না কেন, তাই যেন ঠিক মনে হয়। মনে হয়, 'আহা, আমিও নই কেন!' 'আহা, কাল থেকেই কেন না আমিও এ রকম হবিদার হয়ে যাই!' এভাবেই আদর্শমান তৈরি হয়, আমরা কিতাবে বলি নর্ম বা ভ্যালুস। এ জন্যই তারা জনব্যক্তিত্ব। তারা যা-ই নৈমিত্তিক করুন বা নাই করুন, এই যে বলতে পারা, এটার গুরুত্ব অসীম। ঘোষণামণ্ডলী সমাজের চালিকাশক্তি।

মুশকিল হলো, আমরা গড়ে সকলেই প্রায় আমব্যক্তিত্ব। আমাদের ঠিক ভেবে ভেবে ওই কাজগুলো আর করা হয়ে ওঠে না। তা সে আলসেমির কারণেই হোক, আর আরেকজনের ব্যক্ত তালিকা এসে মাথায় জুড়ে বসার কারণেই হোক। আমরা আম হলেও প্রশ্নটারও একটা প্রচলিত আমচরিত্র আছে। সবাই সবাইকে করতে থাকে। স্কুলে যাতায়াতকারী, 'বড়' হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশু-কিশোরীদের মধ্যে মহামারীর মতো এর প্রচলন। বিশেষত, যারা পরীক্ষা-টরীক্ষাতে খানিক ভালো করেন তারা বিশেষ পরিত্রাণ পান না। একটা সময়ে তো বোর্ডে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্থানওয়ালাদের 'হবি-সকল' পুরো জাতিকেই জানান দেওয়ার অভ্যাস দৈনিকগুলো অর্জন করেছিল। তো সে মোতাবেক স্থানিক পরিমণ্ডলে, স্থানে-অস্থানে, নিজ নিজ মানবকুল এই প্রশ্ন করার অভ্যাসও রপ্ত করেছিল। আমার যে সমস্যাটা হতো তা হলো, 'হবি' বলার উদ্যোগ নিয়েই বলতে শুরু করতাম আসলে সেইসব বাসনা, যা আমি গুপ্ত-সুপ্ত লালন করতে থাকি। এক কথায়, আমি গুলিয়ে ফেলতাম। আর কিছুতেই খুঁজে পেতাম না আমি 'কী করতে পছন্দ করি'। বরং বলতে শুরু করতাম বা ভাবতে বসতাম সেইসব অসম্ভবপ্রায় কাজকর্ম, যা আমার দ্বারা কৃত হওয়ার আশু কোনো লক্ষণ নেই।

শখ/হবি'র সঙ্গে বাসনার এই পর্যাপ্ত গুলানি কেবল আমার সমস্যা হিসেবে আমি আর উত্তরকালে দেখিনি। শখ বা হবি যতটা প্রকাশিত বা ঘোষিত হওয়ার জন্য উচ্চারিত, ততটাই এর অস্তিত্ব। আপনার শখ অন্যের জ্ঞাত হওয়া ও তার সঙ্গে সংমিশ্রিত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদের সঙ্গে তুল্যবিচার ছাড়া শখের তোলার আধা আনিও নাই। বাসনার ঘোষণা ঐচ্ছিক বিষয়। বহু মানুষ আছেন যারা বরং গহীন মনে পুষে রাখাই বাসনার প্রতি সবচেয়ে সঠিক বিচার মনে করেন। শখ অভ্যাস বা অভ্যাসের কল্পনা, কল্পনার ঘোষণা। বাসনা হলো লালন, অভ্যাসের অতিক্রমণ, এমনকি বাস্তবতারও। নিরন্তর সীমানা ডিঙানির এই তৎপরতায় তৃপ্তি আর অতৃপ্তির যোগাযোগ বাস্তবতার একটা প্রগাঢ় পাঠের মধ্যে যেমন নিহিত, তেমনি তৎপর হতে পারার সামর্থ্যের মধ্যেও।

প্রেষণাসম্পন্ন বাসনাও ভেতরে যেতে পারে বাস্তবতার অভিঘাতে, তবে প্রেষণাহীন বাসনা অবধারিতভাবে অতৃপ্ত। এখন বাসনা যদি অতৃপ্তিতেই মহৎ হয়ে থাকে, এমনকি সার্বভৌম, তাহলে বিস্ময়ের নয় যে বহু মানুষের বাসনাসংক্রান্ত প্রেষণা থাকবে না। অপ্রেষিত থেকেই তারা বাসনার বলয়ে থাকতে সুখ পাবেন। সে জন্যই সফলরা বিফলদের গালমন্দ করতে থাকেন তাদের মোটিভেশন নেই বলে।

কীভাবে কখন বাসনা বলতে কেবল যৌনাত্মক ভঙ্গিমা বোঝানো শুরু হয়েছে, তা আসলেই গবেষণার বিষয়। তবে বাসস্টপের দোকানগুলোতে সাহিত্যসম্ভারের যে দুনিয়া সাজানো তাতে বাসনা কেবলই যৌনভঙ্গি। কেবল ভঙ্গিই নয়, প্রায় হুড়োহুড়ি একগাদা কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিতবহ সেখানে বাসনা। আরো সহজ করে যদি আমরা দৃশ্যকল্পনা করি তাহলে এই পরিমণ্ডলে 'অতৃপ্ত বাসনা' কথামালাটি বড় জোর যৌনক্ষুুধাতুর কোনো মানুষের মরিয়া পরিস্থিতির ইঙ্গিতবহ হবে। বাসস্টপের ওই দোকানগুলোর বাইরের ভাবনা-পরিবেশ যে বিশেষ কিছু ভিন্ন, তা বলা যাবে না। বরং সাধারণভাবে বাসনা বা কামনার মতো শব্দমণ্ডলী কমবেশি বনেদি সাহিত্য-বলয়েও নিষিদ্ধপ্রায়। একই সঙ্গে মধ্যবিত্ত সাধারণ আলাপমালাতেও। শব্দগুলোর থেকে ইংরেজি 'ডিজেয়ের'ও ভালো চলতি অবস্থায় আছে। এটা বেশ ভাবার মতো বিষয়। তৃপ্তি-অতৃপ্তি নির্বিশেষেই এই ব্যবস্থা। হালের কবি-সাহিত্যিকদের জন্য এমনিতেও এই শব্দগুলো হয়তো সেকেলে, বা বহুল ব্যবহারের জন্য পছন্দনীয় নয়। কিন্তু ব্যবহার করলেও তা কমবেশি যৌনার্থেই প্রয়োগকৃত।

যৌন পরিমণ্ডলের অতৃপ্তির প্রসঙ্গটি বরং বেশ পরিহাসমূলক, মধ্যবিত্ত বলয়ে। এখানে অতৃপ্তি পরিণতি ভাবা যেতে পারে, বরং আরো বেশি আকাঙ্ক্ষিত। যৌন পরিতৃপ্তির প্রশ্ন, যদি আদৌ এই ভাষা দিয়েই বুঝতে চাই আমরা, নারীকে তো কুৎসিত পরিগণিত করে ছাড়েই, পুরুষের জন্যও 'ভদ্র' পরিসরে বিশেষ কোনো মানমর্যাদা প্রদান করে না। প্রকাশ্য-আলোচ্য-স্বীকৃত দুনিয়ায় এই প্রশ্নটি অভব্য। গুপ্ত-সুপ্ত-ধামাচাপা পদ্ধতিতে অনুশীলিত হওয়ার ব্যবস্থা ও মান্যতা দুই-ই রয়েছে। নারী যদি ডাইনি হন তৃপ্তি প্রসঙ্গ উত্থাপনে, পুরুষকেও রাক্ষস ধরনের উপাধি গ্রহণ করা লাগতে পারে তা বিশেষ হামলা-টামলা না করলেও। ফলত মধ্যবিত্ত বাঙালি ভাবনা-দুনিয়া কমবেশি যৌনতৃপ্তির প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলতে অভ্যস্ত, অতৃপ্তিকে গ্রহণ করতে নয় কিন্তু। অতৃপ্তিকে গ্রহণ করতে চাইবেন ভার্চু বা অধ্যাত্মবোধের এক দল ধারক। আর অতৃপ্ত বাসনাকে অনুসন্ধান ও উদ্ঘাটন করার জগৎ হলো ওই শুরুর কালে বলা সাহিত্যধারা। কেবল বাংলা মুলুক আর মধ্যবিত্তর কথা বলাও সরলীকরণই হলো। বিশেষত, নিখিল বিশ্বে পর্ন কারখানার এ রকম বেশুমার বিকাশের পর এই 'অতৃপ্ত বাসনা'র আলোচ্য এই বিশেষ প্রসঙ্গকে বাংলায় বন্দি রাখা অন্যায় হবে বটে।

আদুভাইয়ের কথাই ধরুন। বাংলা সাহিত্যে এত পরিচিত চরিত্র খুব বেশি তো নেই। তিনি পরিচিত কেন? যদি একটা কারণ হয় তার লাগাতার ফেল করতে থাকা, তো আরেকটা কারণ নিশ্চয়ই তার নিষ্ঠা বা সঠিক করে বললে নিষ্ঠার কমিকত্ব। কিন্তু তাতেও তার ব্যক্তিত্বের পুরোটা প্রকাশিত হয় না। আপনাদের হয়তো মনে হবে, লোকটা মরে যাওয়ার কারণে এতটা প্রতিপত্তি তার, সাহিত্য-চরিত্র হিসেবে। কিন্তু আমি প্রস্তাব করি, লোকটা কেবল মরে যাওয়ার কারণেই আপনি তাকে মনে রাখেননি। তার এপিটাফটার কথা মনে আছে তো? সেখানে লেখা আছে- এই কবরে শুয়ে আছেন আদুভাই যিনি কিনা সপ্তম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছিলেন। মনে আছে না আপনাদের?

আদুভাইকে এবং তার অশ্রুতপূর্ব কাহিনীকে লোকজন মনে রাখেন; তবে রাখেন খুবই ভুলভাল পরিপ্রেক্ষিতে। লোকজন আদুভাইয়ের প্রতি যে মমত্ব ও বাৎসল্য বজায় রাখেন সেটা আদুভাই অর্জন করেছেন অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে। আদুভাইয়ের মৃত্যুতেও মূল বার্তাটি হলো, তিনি বাসনা পূরণ করে মরেছেন। বাসনাটি তৃপ্ত হওয়ার কারণে আদুভাইয়ের মৃত্যুখানা যথাযথ মর্যাদা পেয়েছে বলেই মনে হয়। আর তো আপনি ভাবেন না, 'আহা, লোকটার বাসনাটা! আহা, লোকটা চলে গেল, অথচ বায়ূমণ্ডলীতে তার বাসনাখানি ভেসে বেড়ায়! আহা বাসনা, তুমি মৃত্যুকেও তুচ্ছ করে বিরাজো!' ভেবে দেখুন, যদি কোনোভাবে লোকটা অতৃপ্তি সমেতই চলে যেতেন, তখন হয়তো তার বিদায়ের চেয়েও বাসনার ভার গুরুতর হয়ে পড়ত। সেই গুরুভার বাসনা খোদ মৃত্যুরই জীবনলিপি নির্ধারণ করতে পারত। বাসনা সার্বভৌম থেকে যেত। মৃত্যুর ছায়াতলে থাকতে হতো না।

হতে পারে সবচেয়ে প্রগাঢ় বাসনা মানুষের অনন্ত জীবনযাপন। আর তা পরিতৃপ্ত হওয়ার কোনো রাস্তাই আবিষ্কার করেনি মানুষ। অনন্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষা চির-অতৃপ্ত থাকার এক বন্দোবস্ত। তাই সবচেয়ে দুর্দম বাসনাও হয়তো সেটাই। আদুভাইও এপিটাফকে তার অনন্ত অধরা জীবনের মনুমেন্ট হিসেবে নির্মাণ করেছিলেন। জীবদ্দশাতেই, অতৃপ্ত কালে নয়, তৃপ্তকালে। এটুকুু লেখার পর মনে হলো, মৃত্যু নিয়ে যাদের দুর্দম আকাঙ্ক্ষা তাদের প্রতি অবিচার করা হয়ে যাচ্ছে হয়তো। তবে আমার বিবেচনায় অনন্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষা আর পরম মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা খুব বড় বিপরীত সাংঘর্ষিক কিছু নয়। অতৃপ্ত মহাজীবনের বাসনাই হয়তো পরম মৃত্যুর পথ বাৎলে দেয়। হয়তো। সেই মহাজীবন যার রচনাকার কখনোই আমরা নই। বরং পরম মৃত্যু তার সকল মায়াবী অর্থ সমেতই একবার রচনাকৃত পারে। একবার এবং অনন্তকালের জন্য।

মৃত্যুর রচনাকার যদি তার অতৃপ্ত বাসনারও একটা পত্র রেখে যান সাথে? অনন্ত মৃত্যুর থেকেও সেই বাসনা বড় হয়ে গ্রাস করবে আপনাকে। আপনি যিনি এই মাত্র তার মৃত্যু সংবাদ পেলেন।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved