শিরোনাম
 ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ  এমপি রানাকে বিচারিক আদালতে হাজির করার নির্দেশ  অন্তিম শয়ানে নায়করাজ
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭
স ঙ্গ নিঃ স ঙ্গ তা র গ ল্প

পুতুলবাজি

মাহবুব আজীজ
- গত সংখ্যার পর

মঞ্জুর কাছে বিস্ময়কর মনে হয়, অন্তত ১৫ দিন হয়ে গেল মুনার সাথে তার দেখা হয় না- অথচ ২/৪ দিন দেখা না হলেই কোন না কোন ছুতোয় রোকেয়া হলের সামনে গিয়ে হাজির হওয়া তার জন্যে নিয়মিত ঘটনা...

'কী ব্যাপার! চুপ হয়ে গেলেন কেন? জিগাতলার বাসায় আপনি নাই? সাবলেট ছেড়ে দিছেন? কোথায় গেছেন?' ফেসবুক চ্যাটবক্সে বলতে থাকে মুনা।

'খান অ্যাসোসিয়েটসে জয়েন করেছি। কনসালটেন্ট টু দা অনারেবল চেয়ারম্যান।' মঞ্জু জানে, মুনাকে না বলে সে ছাড়া পাবে না এখন, তাই সে ফেসবুক চ্যাটবক্সে লিখতে থাকে, 'এটা একটু ফুলটাইম জব। কোম্পানির নিয়ম, ফুলটাইমারদের কয়েকজনকে বারিধারার ডরমিটরিতে থাকতে হবে। দিন পাঁচেক হলো এখানে উঠেছি। জয়েন করার দিন থেকেই আমি ডরমিটরিতে। বুঝলে মুনা, আমি কোম্পানির এ ক্যাটাগরি এমপ্লয়ি; তাই এখানে থাকা মাস্ট।'

'বা-বা!... আপনি একটা চাকরি করছেন; ডরমিটরিতে থাকছেন আর আমাকে জানানোর প্রয়োজনটা পর্যন্ত বোধ করলেন না! ভালো, খুব ভালো!'- আসলেই কাজটা খারাপ হয়েছে; মঞ্জু ও'প্রান্তে ভাবে আর চুপ থাকে, মঞ্জু ভেবেছিল, ফুল হাতে রোকেয়া হলের গেটে গিয়ে ডাক দিবে- রুম নম্বর ১০৩-এর শারমিন হাসান মুনা কি আছেন? তারপর মুনা বেরিয়ে আসতেই সকল উৎসুক চোখকে উপেক্ষা করে নাটকীয় ভঙ্গিতে নত হয়ে মঞ্জু বলবে- 'চাকরিটা সত্যিই পেয়ে গেছি। চলি্লশ হাজার টাকা বেতন! এই টাকায় দু'জনের সংসার চলবে না- মাননীয়া-'

'চুপ করে আছেন কেন? আমাকে জানানোর প্রয়োজনটা পর্যন্ত বোধ করলেন না কেন?' মুনা চ্যাটবক্সে অস্থির লিখতে থাকে।

ও'প্রান্তে মঞ্জু কথার উত্তর দেয় না। নিঃশব্দ থাকে। রাত দুইটা পেরিয়ে যায়; মুনা তখনও হলের ছাদে যাবার সিঁড়িতে ঠায় বসে মোবাইল হাতে চ্যাটবক্সে লিখছে- 'আপনার অদ্ভুত সব কাণ্ড-কারখানা! অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দিয়েছে? নাকি মুখের কথায় কাথাবালিশ নিয়ে ডরমিটরিতে উঠে গেছেন!'

'উফ্রে...আমার সম্পর্কে এ'কি ধারণা তোমার ...মুনা! মুখের কথায় আমি ডরমিটরিতে থাকতে শুরু করব?' মঞ্জু বলে।

'তার মানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পেয়েছেন? আর সেটা নিয়ে চুপ করে ১০ দিন ধরে বসে আছেন? আমাকে দেখান নাই!'

'আরে...বাবা...১০ দিন কোথায় পেলে তুমি? ৫ দিন হইছে কেবল! কাল বিকালেই আমি তোমার কাছে ফুল হাতে পেঁৗছে যাচ্ছি! নতজানু হয়ে বলবো- এবার ফেরা্ও মোরে!'

'আহ্লাদ! তামশা আর কত করবেন? আপনার ফুলের দরকার নাই আমার। আপনাকে এদিকে যেন আমি আর না দেখি। খবরদার!'

'আহা! এমনভাবে বলে না; আমি সরাসরি দেখা করে স-ব বলবো বলেই ফোনে শুধু তোমাকে জানিয়েছিলাম, চাকরি পেয়েছি...ডিটেইল সাক্ষাতে বলবো।'

'আর সাক্ষাতের প্রয়োজন নাই। এইদিকে এলে সত্যি আপনার ঠ্যাং ভেঙে দেব।'

'হা-হা-হা! আচ্ছা ভেঙে দিও। তারপর তোমার কাঁধে ভর করে আমি হেঁটে বেড়াবো। তুমি ছাড়া আর কে আমাকে বহন করে ঘুরবে; বলো!'

'হইছে! আহ্লাদের ডিব্বা একটা! কাল আসবেন কখন?'

'লাঞ্চের পরপর চলে আসি। মনে করো, তিনটার মধ্যে। সোজা তোমার হলগেটে।'

'কেন? লাঞ্চের পর কেন? আপনার সেই বিখ্যাত ইউ অ্যান্ড মিতে লাঞ্চ করান আমাকে কাল। এতো বড় সুখবর।' মুনা চ্যাটবক্সে লিখতে থাকে।

'আর বলো না মুনা...লাঞ্চের সময় মিস্টার আইআর খানের আশেপাশে থাকতে হয়; ইভেন লাঞ্চে তিনি বাইরে গেলেও সাথে যেতে হয়। বিরাট রেসপনসিবিলিটি!..তবে কাল স্যারের লাঞ্চ অফিসেই। আড়াইটার মধ্যে তার লাঞ্চ শেষে তিনি রেস্টে যান। আমি তখন টুপ করে তোমার কাছে চলে আসবো।' মঞ্জু জানাতে থাকে মুনাকে- 'অতোক্ষণ না খেয়ে থাকার তোমার দরকার নেই। আর আমি যদি লাঞ্চ বাইরে করি এটাও মার্কড হবে; কেন? কী ব্যাপার? হেনতেন...তাই খেয়েই আসছি।'

মুনা বুঝতে পারে না, মঞ্জুর চাকরির ধরনটা কী; মঞ্জুকে কোন বিশ্বাস নেই, তার কাণ্ডজ্ঞানও অদ্ভুত-কখন কী করে বসছে, আগে থেকে বুঝে ওঠা খুবই মুশকিল; হয়তো এ'সব মঞ্জু করে থাকে এক ধরনের সারল্য থেকে; আর মঞ্জুর এই সারল্যকে মুনার কাছে মাঝে মাঝে চরম বোকামি বলেই মনে হয়; মুনা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে মঞ্জুকে জিজ্ঞেস করে- 'আপনি কি আইআর খানের বডিগার্ডের চাকরি করেন নাকি! সারাক্ষণ কেন তার পাশে ঘুরঘুর করতে হবে?'

মঞ্জু নিজের মনে হাসে; অদ্ভুত যুক্তিবোধ এই মেয়ের; তাকে সে কীভাবে বোঝাবে করপোরেট দুনিয়ার বাস্তবতা! এখানে চেয়ারম্যান মানে দুনিয়ার বাদশা। সেই বাদশা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন তার পরামর্শক হিসেবে- এটি যে কতো বড় ঘটনা, সেটি মুনা বুঝবে না; মঞ্জু তাই হাল্কাভাবে বলে, 'মুনা...নাউ আই অ্যাম ইন করপোরেট ওয়ার্ল্ড! ডিরেক্ট চেয়ারম্যানের সাথে আমার কায়-কারবার। এটা এমন এক জব, যার রকম-সকমই আলাদা।' বলে আর 'হুহুহু' বলে হাসির বারতা লিখে মুনাকে পাঠায় মঞ্জু।

'তা এই কায়-কারবারে আপনার বেতন কতো?'

'হা-হা-হা! দ্যাটস দ্য পয়েন্ট। বিয়োন্ড ইউর ইমাজিনেশন...থাকা-খাওয়া ফ্যাসিলিটিজ ফোর্টি থাউজেন্ড, আর টেক হোম স্যালারি অ্যানাদার ফোর্টি থাউজেন্ড। সব মিলিয়ে এইটি থাউজেন্ড।'

'সহজ করে বলেন, প্যাঁচাচ্ছেন কেন? থাকা-খাওয়ার খোরাকি আর বেতন এক নাকি কখনও?'

'এতো রুক্ষভাবে বলে না! সেইভাবে বেতন যদি বলতেই হয়, তো চলি্লশ হাজার টাকা!.. দুইজনের সংসার হেসে-খেলে চলে যাবে ..কী বলো!'

'অসহ্য। এখন আমি যাবো।' মুনা মোবাইলে তাকিয়ে দেখে ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে তিনটা অতিক্রম করেছে।

'আরেকটু কথা বলি না! বেশ তো লাগছে। সামনাসামনি কথা বলার মতোই একটা আমেজ পাচ্ছি।' মঞ্জু বলে।

'আর আমেজ পেতে হবে না! কয়টা বাজে খেয়াল আছে? রাত সাড়ে তিনটা। সকালে আমার ক্লাস আছে। আপনার অফিস কয়টায়?'

'ও মাই গড! সাড়ে তিনটা...এতোক্ষণ ধরে আমরা কী কথা বললাম....আমার কী হবে!'

'কেন? কী হলো আবার?'

'না..মানে সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হতে হয়। ৮টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এ কারণেই তো গত কয়েকদিন রাতে ফেসবুকে দেখো নাই আমাকে। রাত চারটায় ঘুমায়ে এতো সকালে উঠবো কী করে?' চ্যাটবক্সে নিজের উদ্বেগের কথা জানায় মঞ্জু।

'আচ্ছা...আমি ফোন করে ডেকে দেব। ক'টায় ডাকবো? জাস্ট ৮টায়, না আরও আগে?' মুনা জানতে চায় মঞ্জুর কাছে।

'৮টায়। জাস্ট ৮টায়। প্লিজ ...মুনা ডাক দিয়ে দিও।' বলে মঞ্জু আবার ভাবে, মুনাও তো তারই মতো রাত চারটায় ঘুমিয়ে অতো সকালে উঠবে। সে বলে, 'আচ্ছা থাক। লাগবে না। তোমারও তো একই অবস্থা। তুমি এতো রাতে ঘুমায়ে সকালে উঠতে পারলে আমিও পারবো। তুমি বরং ঘুম দাও বেশি করে! আরাম করো!'

'বাপরে! আমার জন্যে দেখি খুব চিন্তা! আমার এতো আরাম লাগবে না।'

'কাল কি তোমার ক্লাস আছে সকালে?'

'অতো সকালে নাই। ১২টার পরে। সামনে পরীক্ষা। ক্লাস শেষের দিকে।'

'তাইলে আর কষ্ট করো না। আমি উঠে যাবো। তুমি ঘুমাও।'

'কী ঘুমাও ঘুমাও করছেন...এতো ভ্যাজর-ভ্যাজর করেন কেন আপনি? আমি সকালে আপনাকে ডেকে দেব...ঠিক ৮টায়। এখন ঘুমান, আর একটাও কথা বলবেন না!'

মঞ্জু বুঝতে পারে না, এতো কঠিন কথার উত্তরে কী বলা যায়; মুনার কথা এ রকমই- অনেক ঝাঁঝ, মঞ্জু জানে- মুনার বাইরের আবরণটাই এ রকম, ভেতরটা একেবারে উল্টো। এতো নরম আর কোমল যে মনে হয়, এই মেয়েটার জন্য যখন তখন জীবন দিয়ে দেয়া যায়!

ও'প্রান্তে মুনাও স্থির চোখে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে- এ'সব কী লিখেছে সে- 'কী ঘুমাও ঘুমাও করছেন...এতো ভ্যাজর-ভ্যাজর করেন কেন আপনি?'...সত্যিই সে এতো রূঢ় কথা লিখতে চায়নি, আসলে মাঝে মাঝে মঞ্জুর আচরণ মুনার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। মনে হতে থাকে যে কারণ ছাড়াই মঞ্জু অনেক সময় কথা বলে-রাত বাজে চারটা, সকালে অফিস-কোথায় নিজে ঘুমাবে; না- মুনা তুমি ঘুমাও! মুনা তুমি ঘুমাও... করছেন তিনি! অসহ্য! অসহ্য বোধ হয় মুনার; আবার খারাপও লাগে-এতোটা রূঢ় তো সে হতে চায় না কখনোই।

'জনাব, মনে হয় মন খারাপ করছেন?' মঞ্জুকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে ও'প্রান্ত থেকে মুনা লিখে পাঠায়।

'না, মন খারাপ আর কী করবো? আমার আবার মন!'

'আচ্ছা, রাগও করতে পারেন তাইলে আপনি। ঠিক আছে রাগু সাহেব; আর এভাবে বলবো না। আচ্ছা?'

'হুমম।' মঞ্জু বলে।

'এখন তাইলে ঘুমান।' মুনা বলে।

'তুমিও ঘুমাও। আমি তো একলা ঘুমাবো না।'

'আবার!...ঘুমান তো। আমিও ঘুমাচ্ছি।' বলে 'গুড নাইট' জানিয়ে চ্যাটবক্স বন্ধ করে তিন তলার সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে মুনা; ভোর হতে আর দেরি নেই, নীলচে-কালো একটা আকাশ...কেমন ফিকে সাদা হতে শুরু করেছে আবছাভাবে, ধীরে ধীরে এই ফিকে সাদা আরও ফর্সা হবে; এখন কেমন কালো কালো নীল, মাঝে পেজা তুলোর মতো হালকা মেঘ- দোতলা হয়ে একতলায় নির্জন বারান্দা ধরে একেবারে একপ্রান্তে নিজের কক্ষের দিকে এগোতে এগোতে মুনার মনে হতে থাকে; শেষরাত না দেখলে জীবনের শুদ্ধ ও পবিত্র কিছুই আসলে দেখা হয় না; কেমন চূড়ান্ত শান্ত আর সি্নগ্ধ চারপাশ; কোথাও এতটুকু শব্দ পর্যন্ত নেই; গাছের পাতাগুলো পর্যন্ত ঘুমাচ্ছে; এতোটুকু নড়াচড়া নেই; ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যায়, গাছের প্রতিটি পাতা নিচের দিকে ঝুঁকে আছে খানিকটা-সম্ভবত গাছের ঘুমের কৌশলই এ'রকম- নিচের দিকে ঝুঁকে থাকে সব...আর থাকে আপাত স্থির, আবার বাতাসে অল্প অল্প কাঁপে।

মুনা হলের ছাদের সিঁড়ি বেয়ে নামে শেষরাতের আকাশ দেখতে দেখতে, আর একতলায় নিজের কক্ষের দিকে এগোয়, বিছানায় নিজেকে সমর্পণ করে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করে- মঞ্জু তখন ডরমিটরির বারান্দায় দাঁড়িয়ে সামনের লেক আর সবুজ গাছপালার দিকে তাকিয়ে বড় একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে; ঢাকা শহরের মধ্যে এতো সুন্দর লেক আর বিন্যস্ত বনানী আছে- মঞ্জুর ধারণাতেই ছিল না; বারিধারা পার্ক ঘেঁষে এই অ্যাপার্টমেন্ট, শেষরাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে মঞ্জুর মনে হয়, সত্যিই মিস্টার আইআর খানের রুচির তুলনা হয় না; সুন্দর জায়গায় সুপরিসর অ্যাপার্টমেন্টে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকলে এমনিই কাজে মনোযোগ বেড়ে যায় বহুগুণ- আর এ'রকম নিঃশব্দ-সবুজ প্রকৃতি, - মুনা কতো যে খুশি হতো এই অ্যাপার্টমেন্টে এলে; এতোটাই সুন্দর এর চারপাশ; কিন্তু মঞ্জুর মন খারাপ হয়ে যায়; প্রথম দিনেই খান অ্যাসোসিয়েটসের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান স্পষ্ট ভাষায় মঞ্জুকে জানিয়ে দিয়েছেন; ডরমিটরিতে কোন অতিথি, হোক তা পুরুষ বা নারী- আসতে পারবে না। বড় জোর রিসেপশন পর্যন্ত- কোন অবস্থাতেই তাদেরকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে আসা যাবে না!

মুনার জন্যে গাছপালা ঘেরা লেকমুখী এ রকম একটা অ্যাপার্টমেন্টই ভাড়া করে নেব- মঞ্জু ভাবতে থাকে; মুনার যা উন্নত আর মার্জিত রুচি ও মর্যাদাবোধ- সে কোনভাবেই মঞ্জুর ডরমিটরিতে আসবে না, যেমন জিগাতলায় মঞ্জুর সাবলেট রুমেও কখনও আসেনি সে; লেক অভিমুখী এ রকম একটা ফ্ল্যাটের ভাড়া কতো? ২৫ হাজার, নাকি ৩০ হাজার? এতো টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে দিলে বাকি ১০ হাজার টাকায় দু'জনের সংসার কীভাবে চলবে- চিন্তায় পড়ে যায় মঞ্জু। নাহ্, লেকমুখী বাসা তাহলে আরও পরে নিতে হবে- আগে তো সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হবে; তারপর না লেক, গাছপালা; মঞ্জুর কানে ফজরের আজান ভেসে আসে; সে দ্রুত বিছানার দিকে যায়; একটু ঘুমানো দরকার- আটটায় উঠতেই হবে; মঞ্জু জানে, দুনিয়া অন্যদিকে গেলেও সকাল ঠিক আটটার সময় মুনা ফোন করে তাকে জাগিয়ে তুলবে। সে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে- ঘুমন্ত মঞ্জুর মুখ বড় নিষ্পাপ দেখায়; প্রত্যেক ঘুমন্ত মানুষের মুখই নিষ্পাপ দেখায়; সম্ভবত ঘুমন্ত মানুষ চিন্তা করার শক্তি রাখে না বলেই তাদের এই অপাপবিদ্ধ রূপের দেখা মেলে।

[ক্রমশ]
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved