শিরোনাম
 লংগদুতে যৌথবাহিনীর অভিযানে একে-৪৭ রাইফেল-গুলি উদ্ধার  গাবতলীর পশুরহাটে ভয়াবহ আগুন  সিরাজগঞ্জে বাস- মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত ৪  নতুন ভ্যাট আইন ২ বছর স্থগিত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭

সাগরের ঢেউয়ের মতো

সৈয়দ ইকবাল
মনুষ্যজীবনে সাগরের ঢেউয়ের মতো বাসনা ক্রমাগত এসে আছড়ে পড়ে। জীবন্ত মানুষের বাসনা থেকে রক্ষা নেই। আবার বাসনা জিনিস এমন যে, পূর্ণতা পায় শতকরা দুই-এক ভাগ। বাকিটা উদয় হয় বুদবুদের মতো আবার পূরণের আগেই ফুট্টুস করে ফুটে উধাও। তবে এটাও ঠিক, অতৃপ্ত বাসনা না থাকলে জীবন আমাদের একটা গরুর মতো বোরিং হতো! ক্ষমা করবেন, আমি সঠিক কিন্তু জানি না গরুর জীবন আসলেই বোরিং কি-না? মানুষ গরুদের সঙ্গে ভাবসাব আদান-প্রদান যাও কিছুটা হয়, কখনও সত্যিকার গরুর সঙ্গে এখনও হয়ে ওঠেনি। তবে যাই হোক, আমার কিন্তু অতৃপ্ত বাসনা পুষে রাখতে ভীষণ ভালো লাগে। লাল বাসনা, নীল বাসনা, সবুজ বাসনা, কালো বাসনা ঠাঁই করতে চায়, তবে জোর করে এন্ট্রি দিনা! কালো বাসনা চান্স পেলেই বীভৎস আকার ধারণ করে আমাকে অধঃপতনে ঠেলে দেবে। সেই ভয়ে দূরে রাখি। তবু যে সব সময় পারি তাও না। নানা রঙের বাসনাগুলো আমার অন্তর পিঞ্জরে পাখির মতো ডানা ঝাপটায়, খেলা করে। তাদের দানা-পানি দিয়ে বাঁচিয়ে রাখি। আমি নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ মনে করি না। যাদের কপালে সুখ নেই তারা সাধারণ হয় না। অনেক চেষ্টা করেও সাধারণ হতে পারিনি। আবার নিজেকে অসাধারণ একটা পিসও মনে করি না। সাধারণরা ছকে বাঁধা জীবনে সুখে-শান্তিতে খায়-দায় সন্তান উৎপাদন করে, যত সম্ভব বিত্তবৈভবের পাহাড় গড়ে, তারপর একদিন পটল উত্তোলন করে। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ফ্রন্ট পেজে কালো বর্ডার দিয়ে টাকার বিনিময়ে তাদের কুলখানির ছবি বের হয়। সাধারণের বাইরে অল্প কিছু জন যারা কল্পনাবাজ তাদের জীবনকাল কষ্টময় হলেও মজার। কল্পনা করা স্বপ্ন জন্ম দেওয়া, তাকে শাসন করা নিজের বসে রাখা তো খেলা কথা নয়। এই কল্পনাবাজদের গুরু রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, শিল্পী সেগাল, পিকাসো, সুলতান, কামরুল থেকে আজকের শাহাবুদ্দিন, মনিরুল ইসলাম কিংবা লেখক রাহাত খান, কবি নির্মলেন্দু গুণ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ। কল্পনাবাজ হলেই পুষতে হবে নানা বর্ণের বাসনা। পাখির মতো বাসনারা অন্তর জগতে খেলা করবে। অহরহ নিয়ে যাবে এক অদ্ভুত কল্পনার জগতে। বাসনা পূর্ণ হলে কিন্তু শেষ। বাসনার মৃত্যু হয়! আসলে এত প্যাঁচাল না পেড়ে একটা ঘটনা বলি তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। আমার পরিচিত এক প্রতিপত্তিধারক নারী (বিজনেস ওমেন) ঠিক বন্ধু নন, তবে একধরনের সম্মান করেন আমাকে। ভালো রেস্টুরেন্টে খাইয়ে গল্প লেখার জন্য নানা ঘটনা শোনান। সুন্দরী স্মার্ট নারী দামি গাড়িতে চড়েন, তার হাতের ইশারায় চলে তার গুলশানের সাজানো অফিস। একবার গ্গ্নোরিয়াতে কফি পানে ডাকলেন। আমি শ্রদ্ধাবর বি. কে. জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে বেরিয়ে ঠিক বাক্সের দোকান স্যামসোনাইটের সামনে তখন, তাই বললাম ঠিক আছে। গুলশানেই আছি। কফিতে চুমুক দিতে দিতে তিনি বললেন- জানেন লেখক ভাই, আমাদের একটি অতৃপ্ত বাসনা আছে।

আমি একটু অবাক হলাম। ক্ষমতাময়ী সুন্দরী নারীর বাসনা অনেক রকম থাকতেই পারে। যেমন আদিকালে ম্যাডাম ক্লিওপেট্রার ছিল। তারপর তিনি আবার সিঙ্গেল। এখনও ডিভোর্স পুরোপুরি হয়নি, তবে সেপারেশন চলছে। স্বামী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে এক-দুই-তিনের পরে চার আসনে কাজ করেন। ক্লাবে যান, জিমে যান, স্পোর্টস মডেল টয়োটা সালিকা চালান। ইদানীং নিজের ফ্ল্যাটে গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে থাকেন। গার্লফ্রেন্ড সুন্দরী, স্লিম ও তার স্ত্রীর চেয়ে বয়স কিছুটা কম। স্বপ্নে সে বিভোর মেয়েটি, ভদ্রলোকের সম্ভাব্য স্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি। প্রথমার সঙ্গে ডিভোর্স হলেই তিনি হবেন দ্বিতীয়া। এসব কথা আমি জানি আরেক দিন পরিচিত নারী আমাকে গুলশানের লেকের পাড়ে এক বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের সামনে গাড়িতে বসে দেখিয়ে বলেছিলেন, ঐ যে বাতি জ্বলছে- আটতলায় আমার স্বামীর ফ্ল্যাট। এখানেই তিন বছর একসঙ্গে সংসার করেছি আমি। এখনও একটি ছোট্ট রুমে আর তিন ক্লোজেট ভর্তি আমার কাপড়চোপড় আর অন্য জিনিসপত্র ওখানে রাখা আছে।

বলেছিলাম, ডিভোর্স করে সম্পর্ক শেষ করে দিতে পারেন।

তিনি বললেন, ওরই কেমন ইচ্ছা ধীরে-সুস্থে দেরি করছে আর এর মধ্যে গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে রীতিমতো সংসার করছে, এক ঘরে একই বিছানায় থাকছে।

-তাই নাকি?

হ্যাঁ! বলছি কী তাহলে। সাহস আছে গার্লফ্রেন্ডের, আমাকে একদিন ফোন করে বলে, সালাম আপা। আমি আপনার এক্স হাজবেন্ডের প্রেজেন্ট লাইফমেট। আপনার ঘর সাজানো, পর্দার রঙ সব দেখে মুগ্ধ আপা।

তিনি বলেন, আমারও কেমন কিউরিসিটি হলো তাই জানতে চাইলাম- এতই যখন মুগ্ধ, আসো একদিন লাঞ্চ করো বাইরে কোথাও আমার সঙ্গে।

ভেবেছিলাম রাজি হবে না। ভয়ে আর ফোনই করবে না। আজব মেয়ে কিন্তু! বলল- ঠিক আছে আপা, যখন বলবেন চলে আসব।

-তারপর? এসেছিল?

-হ্যাঁ। নিরিবিলি কোরিয়ান রেস্টুরেন্টে খেয়ে অনেকক্ষণ কথা বললাম আমরা। কতভাবে বোঝাতে চাইলাম এই পুংলিঙ্গ বড়ই সেয়ানা, মেয়েদের ঠাণ্ডা বিয়ারের মতো ধীরে-সুস্থে পান করে খালি ক্যানের মতো ছুড়ে ফেলে দেয়। সে বলল যথারীতি_ আমি বিশ্বাস করি না!

বললাম, আমাকে সময়মতো সহযোগিতা করো। তোমাকে বিশ্বাস করিয়ে ছাড়ব সে কত বড় ছোটলোক। মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে কতটা সে লোভী, বাস্তবে তোমাকে না দেখালে বিশ্বাস করবে না।

আমার স্বামী (এখনও যখন ডিভোর্স হয়নি) তার মুখোশ উন্মোচন করে তাকে একটা চরম শাস্তি দেওয়ার অতৃপ্ত বাসনা মগজে ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে দিনের পর দিন। তবে জুতসইভাবে ধরাই যায় না।

ধরা মানে হাতে মবিল মেখে বাইন মাছ ধরার মতো। আবার বেশ কিছুদিন গ্যাপ। মাঝে আমি বাইরে থেকে ঘুরে আবার ঢাকা ফিরলাম। আচমকা দুপুর বেলা ম্যাডামের ফোন।

-দেশে ছিলেন না বোধহয়! মাঝে একবার ফোন করেছিলাম।

-হ্যাঁ, টরন্টো ছিলাম।

-যাক এখন আছেন, দারুণ! যদি সময় থাকে আগামীকাল আমাদের সঙ্গে খান।

-আমাদের? মানে আপনার সঙ্গে আরও কেউ?

-হ্যাঁ, আরও দু'জন নারী। তার মধ্যে একজন আমার স্বামীর গার্লফ্রেন্ড। অন্যজনও আমার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের অতৃপ্ত বাসনা পূরণের একটা সেলিব্রেশন তো দরকার। আমরা তিনজনই যথেষ্ট ছিলাম। আপনাকে আমি ডাকছি ওদের অনুমতি নিয়ে। আমার কথায় ওরা বিশ্বাস করছে আপনি বিশ্বস্ত। আপনাকে ডাকা মানে যদি মনে করেন এই অতৃপ্ত বাসনা পূরণের নামধাম বদলে গল্প চাইলে লিখতে পারেন।

- আপনার স্বামী কেমন আছেন?

_-খনও হয়তো একটু কষ্ট হচ্ছে, অ্যাপোলে হাসপাতালে আছে। তবে সহসা ঠিক হয়ে যাবে।

-তার মানে? আপনারা সম্মিলিতভাবে ছুরি-টুরি মেরে ঘায়েল করেছেন নাকি?

-ছুরি মারার চেয়েও জঘন্য। তবে প্রাণনাশী নয়। আর ফোনে নয়। কাল সামনাসামনি বলব।

-অবশ্যই আমি আসছি। কৌতূহলে পেট ফাটার উপক্রম কী করেছে তিন নারী। ছুরি-টুরি মারেনি! তাহলে কি এসিড মেরেছে, কে জানে এসিড হলে খারাপ না। এত নারী-পুরুষ দ্বারা এসিডে ঝলসে গেছে যে ক'টা পুরুষ, ঝলসে যাক এবার ক্ষতি কি!

পরদিন বনানী ১৮ নম্বর রাস্তার শেষ মাথায় খুবই নিরিবিলি এক রেস্টুরেন্টে গিয়ে পেলাম আমার পরিচিতজনের সঙ্গে আরও দু'জন। একজন তো স্বামীর গার্লফ্রেন্ড, অন্যজন কে?

জিজ্ঞেস করলাম- আর কৌতূহল ধরে রাখতে পারছি না! বলেন তো আপনারা কী করেছেন স্বামীটির সঙ্গে?

-ধীরে লেখক ভাই ধীরে। ড্রিংকস শেষ করেন। অ্যাপিটাইজার খান হজম ভালো হবে। বলছি, বলার জন্যই তো ডাকলাম। আমার স্বামীর গার্লফ্রেন্ড বিয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। স্বামী ইচ্ছে করে ডিভোর্স দেরি করাচ্ছিল। সুন্দরী নারী করপোরেট একজনের ঘরে একসঙ্গে থাকছে, ঘর সামলাচ্ছে, রান্নাবান্নার খেয়াল রাখছে আবার রাতে সক্রিয় হচ্ছে সঙ্গদানে। এই সম্পর্কে কোনো লেখাজোখা কাগজপত্র নেই। তবে একটা স্বপ্ন মুলার মতো ঝুলন্ত আছে। দিন যাচ্ছে মাস যাচ্ছে, এমনি করে। বদলের সময় হবে-হচ্ছে করছিল হয়তো। তাই গার্লফ্রেন্ড পল্লবীতে চার দিনের জন্য ছোটবেলার সই বেস্টফ্রেন্ডের বিয়ের সব দায়িত্ব নিয়ে রাত-দিন সেখানেই থাকতে গেল। আমার স্বামীর বারবার তাকে ফোন- মিস ইউ মাই লাভ। অন্যদিকে এই চার দিনের জন্য নিজের অফিসের নতুন এমবিএ শেষ করা ইন্টার্নি কচি সুন্দরীকে বাসায় এনে তুলেছেন। গার্লফ্রেন্ডের অস্তিত্ব লোপাট করে তাকে বলেছেন, তার স্ত্রী ছেড়ে যাচ্ছে। একা জীবন দুর্বিষহ, তোমাকে পেয়ে নতুন করে যেন আলোকিত হয়ে উঠছে সব। ক'টা দিন বাড়িতে বান্ধবীর বাসায় থাকছো বলে থাকো, একসঙ্গে ভালো লাগলেই সরাসরি বিয়ে। বেচারি ইন্টার্ন জীবনের অভিজ্ঞতা কম, স্বপ্নের জোয়ারে প্রায় ভাসমান।

খবর পেয়ে রাত ১২টায় রোমান্টিক ডিনার সেরে বেডরুমে যাবার ক্ষণে দরজায় বেল বাজিয়ে আমি হাজির। নিচে সিকিউরিটি গার্ড চেনে বলে নিঃশব্দে আটতলার দরোজায় হাজির। স্বামী তো ভূত দেখেও এমন চমকাতো না! করপোরেট ওয়ার্ল্ডের মানুষ, পরিস্থিতি সামাল দিতে ওস্তাদ।

-এত রাতে কী ব্যাপার? দরকারি প্রয়োজন কিছু?

-আমার দরকারি কিছু কাপড় নেব, কিছু কাগজপত্র নেব। রাতে থাকব, সকালে যাবো।

-এখনও সবই তো তোমার ক্লোজেটে, খুলে নাও, যা নেবার। গেস্টরুমটির সব রেডি, থাকতেও অসুবিধা নেই।

-আর বেডরুমে কি তোমার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে তুমি থাকবে?

-দেখো এসব বিষয়ে তো সব জানা হয়ে গেছে। রাত হয়েছে আমি শুতে যাচ্ছি। সকালে আমার বিগ ডে!

ঠিক তখনই বেডরুম থেকে বেরিয়ে এলো ইন্টার্নি সুন্দরী।

-এ আবার কে? এ তো তোমার সেই গার্লফ্রেন্ড নয়।

স্বামী কুঁকড়ে কাঁদা হয়ে বললেন- উফ্! সরি, এ অন্যজন। আমার অফিসের, একসঙ্গে কাজ করে। ভালো বন্ধু।

-তা তোমার গার্লফ্রেন্ড তো বান্ধবীর বিয়েতে গেছে মাত্র ক'টা দিনের জন্য। এরই মধ্যে! তুমি কি মানুষ নাকি জন্তু?

-উফ, হানি বোঝার চেষ্টা করো। ওর সামনে এতকিছু বলার কী দরকার?

আছে। ইন্টার্নি সুন্দরী জেনে রুদ্রমূর্তি ধারণ করল।

-কী বলছেন আপা! আমি ছাড়া সঙ্গে ঘরে কি আরও একজন গার্লফ্রেন্ড ছিল?

স্বামী টেনেহিঁচড়ে ইন্টার্নি সুন্দরীকে গেস্টরুমে ঢুকিয়ে দরজা লক করে দিল। হাতজোড় করে মাফ চাইতে লাগল। গার্লফ্রেন্ডকে কিচ্ছু না জানানোর জন্য। মিনতি করতে লাগল বারবার।

বললাম শান্তভাবে- ঠিক আছে, কিচ্ছু বলব না। মাথা ধরে গেছে একটু কফি বানাই। স্বামী ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল- আনছি, এখনই বানিয়ে আনছি।

-না অনেকদিন পর এই পরিচিত কিচেনে আমি আমার মতো বানাই।

- ওকে, ওকে। তুমি বানাও।

আমার ভেতরে আমার অতৃপ্ত বাসনা তখন প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়তে শুরু করেছে। কফি বানিয়ে ফ্রিজের উপরের ডানের ক্লোজেট ডালা খুলতেই সব মেডিসিন। হালকা, কড়া ঘুমের বড়ি সবসময় থাকে। দুই মগের যেটিতে ঘুমের বড়ি দিলাম, সেটি স্বামীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম_ চলো আজ অনেক দিন পর বেডরুমে খাটের দু'দিকে দু'জন হেলান দিয়ে কফিটা খাই!

- চলো, বাহ্ তোমার মনে আছে আগে এভাবে কফি খেয়ে গল্প করতাম।

-এত সহজে ভোলা কি সম্ভব?

- ছি, কে বলেছে ভুলতে তোমাকে। এসব হচ্ছে সারাজীবনের সুখস্মৃতি। স্বামীটি হাইপার হয়েছিল আচমকা ঘটনার ঘনঘটায়। তাই মাঝারি ডোজের ঘুমের বড়ি মেশানো কফি পানে অল্পক্ষণেই কাত হয়ে ঘুমিয়ে নাক ডাকাতে লাগল। টেনেহিঁচড়ে তাকে খাটের মাঝে চিৎ করে শুইয়ে বের হলাম রুম থেকে।

গেস্টরুমে বন্দি ইন্টার্নি সুন্দরীকে বের করলাম। ঘ্যানঘ্যান করে কাঁদছিল মেয়েটি, জোরে ঝাঁকি দিতে শক্ত হয়ে বলল, আপা এখন কী করব আমি? বাসায় বলে এসেছি বান্ধবীর বাসায় থাকতেছি ক'দিন।

-যা আমি বলি তাই করো। থাকা নিয়ে চিন্তা করো না। আমার সঙ্গে থেকো। ফোন করে সব বুঝিয়ে বলতে স্বামীর গার্লফ্রেন্ড বিয়েবাড়ির ভাড়ার গাড়িতে এসে হাজির। ইন্টার্নি সুন্দরীর সঙ্গে কথা বলে সব বুঝে নিল।

-আপা এখন আপনাকে হান্ড্রেড পার্সেন্ট বিশ্বাস করছি। আসলেই এই পুঙ্গব মহাবজ্জাত।

-চলো তাহলে আমাদের অতৃপ্ত বাসনা পূর্ণ করি।

-অতৃপ্ত বাসনা? দু'জনই কোরাস কণ্ঠে উচ্চারণ করল।

-সময় কম যা করার দ্রুত করতে হবে। খাটের চার মাথায় উঁচু হয়ে থাকা কাঠের পিলারের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে ফেললাম তাকে তিনজন মিলে। স্লিপিং স্যুটের পায়জামা টেনে হাঁটু পর্যন্ত নামিয়ে দিয়ে তিনজনের হাতে অতিকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে গরম তপ্ত মোমের ফোঁটা স্বামী পুরুষাঙ্গে ফেলতে লাগলাম তিনজনই। কিছুক্ষণেই ঘুম ভেঙে চৌচির, চিৎকারও সম্ভব নয়- মুখে টিস্যু পেপার ঠাসা। যন্ত্রণায় কাতরাতে লাগল স্বামী। ভোরের আলো ফোটা পর্যন্ত চলল। টুপ টুপ গরম মোমের ফোঁটা ঝরলো। আজানের পর স্টপ। কফি বানিয়ে তিনজন আটতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কফি মগের সঙ্গে মগের ঠোকাঠুকি। কী সুন্দর এক নতুন সকাল ভুবনে। বিয়েবাড়ির ভাড়ার গাড়ি নিচে দাঁড়িয়েছিল। তিনজন জানালার কাচ নামিয়ে হু হু করে বাতাস কেটে এগোচ্ছি যে যার বাসায় ড্রপ নেব। ম্যাডামের কণ্ঠ অপার্থিব শোনাল- তোমরা ভয় পেয় না। ও একটা ভিতুর বাচ্চা, কিচ্ছু করবে না। ট্রিটমেন্ট করে সোজা হলে হবে! না হলে না! কোনো পুলিশি ঝামেলায় যাবে না। আমার পুলিশি কানেকশন ওর চেয়ে বেশি। তাছাড়া আমরা তিনজন একসঙ্গে এফআইআর করলে ব্যাটার চাকরি-বাকরি সব শেষ।

লাঞ্চ শেষে লিফটে তিনজন সাহসী নারীর সঙ্গে নিচে নামতে নামতে ভাবলাম 'ত্রিভুজ' নামে একটা গল্প লিখতেই পারি এই ঘটনা নিয়ে। ম্যাডামের কথায় চমকে উঠলাম- লেখক ভাই, অতৃপ্ত বাসনা শেষ হতে খারাপ লাগছে। বাসনা অতৃপ্ত হলেই ভালো গাছের মতো শাখা-প্রশাখা বাড়ে, পাতা-ফুল ফোটে। অতৃপ্তভাবে ভেতরে পুষে রাখতে ভালো লাগে। এখন কেমন শূন্য শূন্য লাগছে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved