শিরোনাম
 ১১ মে পবিত্র শবে বরাত  শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা থেকে আবুসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার  লোডশেডিং কমাতে বিশ্বব্যাংকের ৪৭২ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন  শুধু ব্যক্তি নয়, উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়তে হবে: ক্যামেরন
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৭

সেনেকাদের সালুবিরার গল্প

সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
অনেক আগে আকাশের পৃথিবী ছিল। সেখানে গাছগুলো বাতাসে জন্মানো। ছিল এক দম্পতি। নারীটি মা হতে যাচ্ছে, প্রতিদিন সে নতুন কিছুর জন্য বায়না ধরে। স্বামী বেচারাকে নিত্যনতুন জিনিসের জন্য এখানে-সেখানে যেতে হয়। আকাশে আর কোথায় পাবে অত কিছু। একদিন শখ হলো গাছের গুঁড়ির নিচটা দেখার। গাছগুলোর শিকড়ও ছিল বাতাসেরই ভেতর। অদেখা বলেই কিনা নারীর মনে হলো, গুঁড়ির ভেতর রহস্য টানছে। নারীর আবদারে পুরুষ বিশাল এক গাছ ভাঙল। নারী দেখল গুঁড়ির ভেতর দিয়ে তো আকাশ দেখা যায় না! হাত বাড়াল, তারপর কী এক আকর্ষণে পা। সামলাতে না পেরে চলে গেল ভেতরে। বাতাসের ভেতর জন্মানো গাছের জন্মমূল দিয়ে পিছলে যেতে যেতে সেই নারী অনেক বছর ধরে নিচে নামতে নামতে হঠাৎ দেখে সামান্য আলো। তার পরই পড়ল অন্য এক জায়গায়। এখানে নীল জল, গাছের পাতা সবুজ। গড়িয়ে প্রায় পানির ভেতর যাওয়ার পর টের পেল, ভাসছে শক্ত খোলসের উল্টো পিঠে। এটা ছিল কচ্ছপ। পৃথিবীতে মানুষের জন্ম নিয়ে এটা নাকি সেনেকাদের মিথ। সেনেকা হলো নেটিভ আমেরিকানদের এক গোত্রের নাম। যাদের রেড ইন্ডিয়ান নাম দিয়েছিলেন কলম্বাস।

গল্প শুনতে শুনতে ট্রেইলের ভেতরে প্রায় এক মাইল হেঁটে এসেছি আমি আর 'কাইওনতাকো'। সেনেকা বংশোদ্ভূত তাকোর নামটা আমেরিকান উচ্চারণে 'কর্নপ্লান্টার'। তাকোর সাথে আমার পরিচয়ের দৈর্ঘ্য এই পথটুকুর সমান লম্বা। এই গল্পটা যেখান দিয়ে যেতে যেতে বলেছে, সেই পথে রোদের চেয়ে ছায়া বেশি। তাকো ট্যুরের সুপারভাইজার 'কেন'-এর বন্ধু। এ অঞ্চলে এসে 'কেন' তাকে ফোন করে খবর দিয়েছে ট্রেইল হাইকিংয়ে গাইড করতে। তাকো এখানকার সামান্য ক'জন রেড ইন্ডিয়ানের একজন। সে আঙ্গুরের ক্ষেত করে আর ফলানো আঙ্গুর দিয়ে ওয়াইন বানায়। এই গ্রুপে চীন, ইন্ডিয়া আর আমেরিকার পর্যটক বেশি। কেউ বন্ধু কেউ পরিবার নিয়ে এসেছে। আমি বাংলাদেশ থেকে আসা একাই নিজের সঙ্গী। সবাই যখন পাশের প্রিয় মানুষটিকে দেখিয়ে বলছে, দ্যাখো দ্যাখো, কী অদ্ভুত রাতের নায়াগ্রা। আমি দু'চোখের সীমায় আপন মুখ দেখি না। একা হলে যে অনেক সময় পথের বন্ধু হয়, তা অবশ্য ভাবিনি। তাকোর গায়ের রঙ লালচে আর চোখ দুটো ছোট।

ও সাথে হাঁটতে হাঁটতে সেনেকাদের গল্প বলছে খটমটে ইংরেজি উচ্চারণে। ঠিক পাশাপাশি সম্ভব হয়নি, আগে-পরে হাঁটছি। অনেকেই এগিয়েছে সামনে। ট্রেইল এত সরু, একজনই ভালো করে যাওয়া কঠিন মাঝে মাঝে। তার ওপর ক্রমাগত ওপর থেকে ঝর্ণার গ্যালন গ্যালন পানি আসছে। কোনো ঝর্ণা পাহাড়ের মাথারও ওপাশ দিয়ে আসছে, তো পরেরটা পাথরের গা ফেটেই চুইয়ে নামছে। হাঁটতে হাঁটতে ভিজতে হচ্ছে, আবার বাতাসে খানিকটা শুকাচ্ছে। বলে রাখি, মাত্র কয়েক পা আগে যে পার্কের ভেতর দিয়ে এলাম, সেখানে স্বল্প বসনারা গাছতলায় বসে বই পড়ছে। বুঝতেই পারছেন, পুরো গ্রীষ্মকাল। অথচ এই ঝর্ণাজলের দুই পাহাড়সারির মাঝখানের পথে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। সবাই শীতের কাপড় পরেছে মাত্র মাইল দুই-এর জন্য।

আদিবাসী আমেরিকানদের এই পথে কেমন করে নিত্য যাতায়াত ছিল, ভেবে পাই না। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের একটা প্যাকেজ ট্যুরে এসেছিলাম। বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান দর্শনের পর এলাম এখানে। মূল পার্কটার দু'পাশের হাইওয়ে ধরে এখন ইন্টারন্যাশনাল কার রেস হয়। পার্কের ভেতরে গাছতলায় বসে মানুষ ধ্যান করে। আর এসব ফেলে ট্রেইলে ঢুকলে তারপর পাবেন এই অদ্ভুত আঁধার। দুই মাইলের ভেতর ১৯টি ঝর্ণা। তখন আপনি বাইরের জগৎ থেকে পুরো বিচ্ছিন্ন। নিচে শিলাখণ্ডের মাথা গলে, পাশ দিয়ে কোথাও ভাসিয়ে নিয়ে বয়ে যাচ্ছে স্রোতের ধারা। সেই পানি মিশছে ফিঙ্গার লেকে। ফিঙ্গার লেকের কথা একটু বলার লোভ সামলানো যাচ্ছে না। স্যাটেলাইট থেকে নেওয়া ছবিতে তাকালে দেখা যাবে, পুরো এলাকার ভেতর দিয়ে শিরা-উপশিরার মতো লেক বয়ে গেছে। মজার বিষয় হচ্ছে, লেক বলতে আমরা যেমন একটা বিশাল দীঘির মতো বুঝি, এ তা নয়। আমাদের দেশের নদীর মতো একেকটা হ্রদ। সেই ধারা দেখতে হুবহু মানুষের হাতের পাঞ্জার মতো। লেকের আধারেই ঝর্ণাগুলোর শেষ পরিণতি। আর সেই হাজার বছর আগের ঝর্ণা দেখতেই আমাদের এই হাইকিং। ট্রেইলটা সহজ নয়। ওপর থেকে দেখলে অজগর সাপের মতো। প্রতিটি পদক্ষেপ দিচ্ছি দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে। ঝর্ণার পানিতে ক্যামেরার লেন্স নষ্ট হচ্ছে কি-না খেয়াল করতে হচ্ছে। পায়ের তলায় এক মুহূর্তের অসতর্কতায় 'ফিঙ্গার' লেকের গভীর জলের তলায় পেঁৗছে যাওয়ার আশঙ্ক। এত কিছু লক্ষ্য করা যেত যদি পথটা কম সুন্দর হতো, কিন্তু এই পথ কি শুধুই আকর্ষণীয়! এই পথের সাথে হাজার হাজার বছর আগের মানুষের জীবনের গল্প রয়েছে। দু'পাশে যে কালো পাথরের পর্বত খাঁজে খাঁজে উঠে গেছে তার গায়ে বুনো গাছগুলোও দেখলে মনে হয় শত শত বছর ধরে আটকে রয়েছে। হঠাৎ মাথার ওপর ঝুলছে দড়ির সেতু। দুই পাহাড়ের সংযোগ। এখন আর কেউ ওভাবে যায় না যদিও। মাঝখান দিয়ে খরস্রোতা জলের ধারা, তার নিচে পাথরের উঁচু-নিচু চাঁই। সবচেয়ে অবাক করে অন্ধকার। পথ শুরুর কিছুক্ষণ পরই এমন আঁধার; মনে হয় রাত নেমেছে। কয়েক পা যেতেই ঝকঝকে রোদ। এই অন্ধকারকে 'সেনেকারা' বলে রহস্যময় আলো।

ট্রেইলটার ট্রেড মার্ক ৮৩২। এই স্টেপ দিয়ে ভয়াবহ পিচ্ছিল পথটা পাড়ি দিতে হবে। এসেছি নিউইয়র্কের আপ স্টেটের ওয়াটকিন গ্গ্নেন পার্কের ট্রেইলে। এখানে আসতেই নিউইয়র্ক থেকে বাসে সময় লাগে ঝাড়া সাড়ে ৪ ঘণ্টা। বরং নায়াগ্রার দূরত্ব কম। মাত্র পৌনে তিন ঘণ্টা আগে নায়াগ্রা ফল্স দেখে ওয়াটকিন গ্গ্নেনে আসার প্রস্তাবে দ্বিধা ছিল। কিন্তু 'রেড ইন্ডিয়ান ট্রেইল লুপ' শুনে উঠে বসেছি বাসের সামনের সিটে। যেন ওই সিটে বসলে সবার আগে আরও এক ঝলক বেশি দেখা যাবে। ইউরোপীয়রা এদেশে আসার আগেই মূলত বেশ কয়েকটি উপজাতি যারা হাজার বছর ধরে ছিল, তাদের মধ্যে এদিকে সেনেকারা ছিল প্রভাবশালী। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত 'ফিঙ্গার লেক'-এর বরফ গলে জন্মানো ১১টি লেকের মধ্যে সবচেয়ে বড়টির নাম 'সেনেকা'। বরফ যুগের শেষে অন্তত ১৫ হাজার বছর আগে তার জন্ম। সেই সেনেকা লেকের পাশে ওয়াটকিন গ্গ্নেন। এখানে পাশাপাশি ৩টি ট্রেইল :গর্জ, ইন্ডিয়ান আর সাউথ রিম। বা পাশে সাউথ রিম আর ডানদিকে ইন্ডিয়ান-এর মাঝখান দিয়ে গর্জ ট্রেইল। তিনটির শুরু ও শেষ একই জায়গায়।

প্রবেশমুখে এন্ট্র্রেন্স টানেল। ১৮ শতকের মাঝামাঝিতে পাথরগুলো হাতে কেটে তৈরি করা হয়েছে প্রবেশপথ। প্রথমেই ৫২ ফুট নামতে হয়। প্রথম ১০ মিনিট হাইকিংয়ের পরই পাবেন সাসপেনশন ব্রিজ আর হুইসপারিং ফল্স। ঝর্ণাটা পার হয়েই বুঝবেন নামকরণের সার্থকতা। কালো পাথরের ওপর থেকে পানি নামছে আর গড়িয়ে যাচ্ছে যে পথ দিয়ে, তা সবুজ গাছের ভেতর দিয়ে কেটে কেটে; পড়ছে নিচের হ্রদে। তবে নামটা বোধহয় এর শব্দ থেকে। অনেক রকম পথ পার হতে হতে ঝর্ণার শব্দ পাথর, মাটির সাথে মিশে ঠিক পানির প্রবাহের শব্দ নয়, মনে হয় ফিসফিস করে কানের কাছে কেউ মুখ এনে কিছু বলছে। এখান থেকে ইচ্ছে হলে পথ বদলে সাউথ রিম বা ইন্ডিয়ান ট্রেইলে উঠে যাওয়া যায়। এই ব্রিজ তিনটি ট্রেইলের ওপর দিয়েই টানা হয়েছে। আরেকটু এগিয়ে স্পাইরাল গর্জ পার হয়েই আরেকটি আশ্চর্য ঝর্ণা নামছে প্রাগৈতিহাসিক পাহাড়ের গা বেয়ে। তার নাম রেইনবো ফল্স। গ্রীষ্মে দুপুরের পরপরই এখানে কালো পাথরের প্রতিরক্ষা বূ্যহ ভেদ করে ওপর থেকে রোদ এসে পড়ে তখন পানি থেকে রঙধনু ওঠে। একটা কথা বলে রাখি, দু'পাশের এই উঁচু পর্বত পেরিয়ে সামান্য বাতাসও আসার পথ নেই। যতটুকু আলো-হাওয়া মেলে তা সব দুইশ' ফুট উঁচু দু'পাশের কালো পাহাড়ের সারির মাঝে ওপরের সেই এক চিলতে আকাশের পৃথিবী থেকে। সেনেকারা যে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবত, ওখান থেকেই পৃথিবীর শুরু। ট্রেইলের ঠিক এখান থেকে পথ ভয়ানক সরু। পাথরের গায়ে ফুল ফুটেছে, বুনো গাছ আর জলের গন্ধ মিলে এক বুনো বাতাস। বাতাসের শব্দের সাথে ঝর্ণা আর ধবল রঙের পাখির শব্দ। এখানে প্রতিধ্বনি ওঠে। তাকো তথ্যটা জানানোর পর একবার চিৎকার করে দেখি, হেনরি ওয়ার্ডসওয়াথের 'অ্যারো অ্যান্ড দ্য সং'-এর মতো শব্দটা ফিরে আসছে। জানাতে সংকোচ নেই, আমি তাকো বলেই ডেকেছিলাম।

তাকো দ্রুত আগাতে বলল, এমনিতেই অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছি। ভেজা কালো পাথরের ওপর সাবধানে পা ফেলে আগাতে শরীর ছমছম করে। খানিকটা গিয়ে আশ্চর্য এক জলাধার হৃদয়াকৃতির। পাথরের ভেতর পানি জমে জমে তৈরি। পাশ কাটিয়েই লাভারস লাইন। পাথরের চাঁই তৈরি হয়ে ওপরে উঠে বেঁকেছে যেমন, তেমনি গুহার মতো তৈরি হয়েছে নিচের দিকে, সেখানে অন্ধকার ঘর। ঘর দেখতে হবে

১০০ ফুট নেমে। পার হয়ে যে জায়গা তার নাম সেন্ট্রাল কাসকেড অ্যান্ড গ্গ্নেন পুল। ৬০ ফুট উঠতে হবে আবার 'স্কেনিক' ব্রিজটায় গেলে। ওখান থেকেই পুরো পুলটা দেখা যায়। কষ্ট করে এ জায়গাটায় না উঠলে ঠিক বোঝা যায় না ট্রেইলের গঠন প্রকৃতি। নিশ্চয় এতক্ষণে বুঝেছেন, মোটে দুই মাইল পথের ভেতরও চড়াই-উতরাইটা কেমন!

দেড়শ' বছর আগে দর্শনার্থীদের জন্য জায়গাটা উন্মুক্ত হলেও গর্জ ট্রেইলের জন্ম ১২ হাজার বছর আগে। বরফ যুগের বরফ গলে মাটি পাথর হয়ে হাজার হাজার বছর সময় লেগেছে এর ফর্মেশন হতে। তখন থেকেই এই স্রোত বইছে। এখান দিয়ে শিকার করতে যেত রেড ইন্ডিয়ানরা। এই স্ট্রোতে মাছ ধরতে আসত, আবার গোত্রের ভেতর যুদ্ধ হলে এখানে ছিল তাদের লুকিয়ে থাকার জায়গা। নেটিভ আমেরিকানরা বাস করত আশেপাশে। এর নামই আগে ছিল 'সালুবিরা'। ইতিহাসের নানা রকমফেরে সেই সালুবিরা হয়েছে জেফারসন, তারপর ওয়াটকিন এবং বর্তমানে ওয়াটকিন গ্গ্নেন। ১৭৭৮ সালের আগ পর্যন্তও এটা ছিল পুরোপুরি নেটিভ আমেরিকানদের অঞ্চল। 'সুলিভিয়া মিলিশিয়া' আর 'ইরোকিউস'দের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে অধিকাংশ নেটিভ তাদের জমি বিক্রি করে চলে যায় অন্যান্য অঞ্চলে। ১৮২৮ সালে ওয়াটকিন ব্রাদাররা এখানে শুরু করে বাণিজ্য। তার আগের মানুষরা ছিল আধুনিক সংস্কৃতি বর্জিত। অসুখ হলে মুখোশ পরে রোগীর চারপাশে নেচে প্রার্থনা করত। বাস করত হাতে তৈরি বড় বড় বাড়িতে। সেসব বাড়ির দেয়াল আর ছাদ তৈরি হতো বন্য প্রাণীর চামড়া থেকে। ঘরগুলো এত বিশাল আকৃতির ছিল বলেই এ অঞ্চলের আদিবাসীদের ইরোকয়-এর পাশাপাশি ডাকা হতো 'হয়ডেইনেসসেইনি' বলে। এর অর্থ হলো লং হাউজের মানুষেরা।

এ অঞ্চলে আঙুর বাগান করে ওয়াইন তৈরির প্রচলন আদিবাসীদের সময় থেকে। বর্তমানে নিউইয়র্কের ওয়াইন কাউন্টি নামেই ডাকা হয় ফিঙ্গার লেক অঞ্চলকে। এখানে মাইলের পর মাইল আঙুর চাষ হয়। তার পাশেই কারখানা। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ওয়াইন উৎসবে যোগ দিতে আসে পর্যটকরা। স্বল্প আয়ের পর্যটকদের জন্য রয়েছে মাথাপ্রতি ১০ ডলারে নানা রকম ওয়াইন চেখে দেখার সুযোগ। গর্জ ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে আমার সফরসঙ্গীরা সেই স্বাদ গ্রহণের পরিকল্পনা করে ফেলেছে। তবে কোনো মাদকতাই ইতিহাসের চেয়ে বেশি মাতাল করতে পারে না। ফিঙ্গার লেক, সেনেকা দেখে এখানে এসেছি। সেসব জলাধারের উৎপত্তি বহু শতক আগে। যার পাশে ছিল আমেরিকার আদিবাসীদের স্বাধীন জীবন-যাপন। আমার পাশে হাঁটছে আদিবাসী পুরুষ তাকো। তাকো আমাকে গল্প করছে পাখির পালক থেকে কেমন করে ইরোকয়রা পোশাক বানাত, তার সাথে গেঁথে নিত মাদুলি। মুখোশ তৈরির রঙ সংগ্রহ করা হতো বন্য ফুল ও ফল নিঙড়ে। এসব ট্রেইলের সাথে তার পূর্বপুরুষের সখ্য কতটা ছিল, আর এ অঞ্চলের জল, পাখির ডাক, বাতাসের শব্দ তাদের সাথে কতটা মিশে আছে সেসব কথা। তাকোর কয়েক পুরুষ আগে সেসব দিন পার করে এসেছে। এখন পুরোদস্তুর আঙুর বাগানের মালিক আবার গাইডের ট্যুর। রক্তে তো সে বহন করছে এক প্রাগৈতিহাসিক জীবন। সেই জীবনের স্মৃতিতে রয়েছে সভ্যতার কাছে অনেক কিছু হারিয়ে যাওয়ার গভীর এক ক্ষত। সেসব স্বপ্ন ও যন্ত্রণা এই ওয়াটকিন গ্গ্নেনের সাথেই মিশে ইতিহাস হয়ে আছে। প্রায় ৮৩২ স্টেপ দিয়ে পার হয়ে এলাম ওয়াটকিন গ্গ্নেনের গর্জ ট্রেইলে, এর প্রতিটি জায়গা জানে সেই সময়ের গল্প। তাকোরা হয়তো পরাজিত হয়েও শেষ স্বপ্ন দেখে হাঁটুভাঙ্গার বাঁকে নিজের কবরের।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved