শিরোনাম
 ১১ মে পবিত্র শবে বরাত  শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা থেকে আবুসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার  লোডশেডিং কমাতে বিশ্বব্যাংকের ৪৭২ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন  শুধু ব্যক্তি নয়, উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়তে হবে: ক্যামেরন
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ২১:৫২:৪৬ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ২১:৫৭:৪৩

ফিরেছে সিটিং সার্ভিস, ইচ্ছামাফিক ভাড়া আদায়

সমকাল প্রতিবেদক
চার দিন বন্ধ থাকার পর, 'সাময়িক বৈধতা' নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার রাস্তায় আবারও ফিরেছে সিটিং সার্ভিস। তবে সরকার নির্ধারিত তালিকায় নয়, আগের মতোই মালিকের ইচ্ছামাফিক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এসব বাসে।

বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অভিযানে অ্যাঙ্গেল, বাম্পারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে তারা ছিল নীরব। স্বস্তির বিষয় ছিল, বাস চলাচল প্রায় স্বাভাবিক থাকায় যাত্রী দুর্ভোগ ছিল না আগের চার দিনের মতো।

পরিবহন মালিকদের সিদ্ধান্তে সিটিং সার্ভিস বন্ধে গত রোববার অভিযানে নামে বিআরটিএ। আইন অনুযায়ী অবৈধ হলেও, গত দুই যুগ ধরে চলা সিটিং সার্ভিসে অভ্যস্ত যাত্রীরা পড়েন চরম বিপাকে। সব বাস লোকালে রূপান্তরিত হওয়ায় নারী, শিশুসহ সব যাত্রীকেই গত চারদিন গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়েছে। অভিযানের কারণে অনেক বাস রাস্তায় না নামায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। যান সংকটে নাকাল হতে হয় যাত্রীদের।

চার দিনের এ তিক্ত অভিজ্ঞতায় বুধবার সিটিং সার্ভিস-বিরোধী অভিযান ১৫ দিন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বিআরটিএ। সিটিং বাসকে কীভাবে আইনি বৈধতা দেওয়া যায়, এ সময়ের মধ্যে সে পথ খোঁজা হবে বলেও জানিয়েছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান। অভিযোগ রয়েছে, এ বৈধতা আদায়েই মালিকরা সিটিং সার্ভিস বন্ধ করেছিলেন, যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তা ঠেকাতে সরকার বেশি ভাড়ায় সিটিং সার্ভিসকে বৈধতা দিতে বাধ্য হয়।

এ ঘোষণায় আপাতত বৈধতা পাওয়া সিটিং সার্ভিস বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবার চলাচল শুরু করে। এতে যান সংকট কাটলেও, বাসে ভাড়া ছিল আগের মতোই মালিকের ইচ্ছামাফিক। সরকার নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া মিনিবাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা হলেও, কোনো কোনো সিটিং সার্ভিসে এর দ্বিগুণ আদায় করা হয়েছে। সরেজমিন এ চিত্র দেখা যায়।

'ইন্টারসিটি' (বাস নম্বর : ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯৬৩৭) পরিবহনের যাত্রী আশরাফুল গণি জানান, তার কাছ থেকে শাহবাগ থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হয় ১৫ টাকা। অথচ এ পথের ভাড়া ৫ টাকা। তিনি প্রতিবাদ করলে বাসের চালকের সহকারী জানান, তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা মানেন না। নিজেদের নির্ধারিত ভাড়া আদায় করেন। উঠলেই ১৫ টাকা ভাড়া দিতে হবে।

জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, 'মালঞ্চ' পরিবহনের সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ টাকা। জিগাতলা থেকে এক কিলোমিটার দূরের সায়েন্স ল্যাব মোড়ে নামলেও ১৫ টাকা ভাড়া দিতে হবে যাত্রীকে। আড়াই কিলোমিটার দূরের শাহবাগের ভাড়াও ১৫ টাকা। অথচ সরকার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী এ পথের ভাড়া মাত্র ৭ টাকা। স্বল্প দূরত্বে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে 'মালঞ্চ' পরিবহনে। এ পরিবহনে জিগাতলা থেকে গুলিস্তানের ভাড়া ২৫ টাকা। সরকার নির্ধারিত তালিকায় এ পথের ভাড়া মাত্র ৯ টাকা।

'মালঞ্চ'র কাউন্টার ম্যানেজার মো. রাসেলের ভাষ্য, ভাড়ার বিষয়ে তার করণীয় কিছুই নেই। মালিক টিকিটের যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সে দামেই তাকে বিক্রি করতে হবে। কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রী সাইদুর রহমান সমকালকে বলেন, আজ তারা বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও বাস পাচ্ছেন। এর আগের চার দিন এই ভাড়া দিয়েও বাস পাননি। বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকে সময় মতো অফিসে পৌঁছতে পারেননি।

একই অভিযোগ 'ভিআইপি' পরিবহনের বিরুদ্ধে। আজিমপুর থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকা। এ পথে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩৮ টাকা। যে যাত্রী শেষ গন্তব্যের আগেই নেমে যাচ্ছেন, তাদের ঠকতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। আজিমপুর থেকে যে যাত্রী বাসে উঠছেন তিনি বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর যেখানেই নামুক, ভাড়ার পুরো টাকাই দিতে হচ্ছে। অথচ আজিমপুর থেকে বিমানবন্দরের ভাড়া ৩০ টাকারও কম। গত রোববার অভিযান শুরুর আগেও একই ভাড়া নেওয়া হতো 'ভিআইপি' পরিবহনে। অভিযানের সময় এ পরিবহনের অধিকাংশ বাস রাস্তায় নামেনি। এতে পথের যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

মিরপুর থেকে গুলশান-২-এর দূরত্ব ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। বড় বাসে এ পথে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ভাড়া ১৫ টাকা। 'হিমাচল' পরিবহনে বৃহস্পতিবারও নেওয়া হয় ৩০ টাকা। 'হিমাচল' পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, তার বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা হয় না। নারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন। অন্য যাত্রীরাও বসে আরামদায়ক পরিবেশে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন। এ সেবার তুলনায় ৩০ টাকা ভাড়া বেশি নয়। যাত্রীরা স্বেচ্ছায় এ ভাড়া দিচ্ছেন।

ভাড়ায় আবার অরাজকতা শুরু হলেও, তা নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর তৎপরতা ছিল না। সংস্থাটির একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমকালকে বলেন, 'আজকের (বৃহস্পতিবার) মূল উদ্দেশ্য ছিল অ্যাঙ্গেল, বাম্পার অপসারণ। সিটিং সার্ভিস বা অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।'

অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে না— এ কথা মানতে নারাজ বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান। তিনি বলেন, 'সিটিং সার্ভিস চলতে বাধা দেওয়া না হলেও, আজ (বৃহস্পতিবার) পাঁচটি

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়েছে। তবে মামলার সংখ্যা আগের চার দিনের তুলনায় কম। পাঁচটি আদালতে ৫৬টি মামলা হয়েছে। ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয়ে পাঁচ দালালকে সাজা দেওয়া হয়েছে। ২৫টি ট্রাকের বাম্পার অপসারণ করা হয়েছে।'

সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে গত মঙ্গলবার ১৪০টি মামলা দায়ের হয়েছিল। জরিমানা আদায় করা হয়েছিল তিন লাখ ৩৮ হাজার টাকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরিমানা আদায় করা হয় অতিরিক্ত ভাড়া আদয় ও বাসে ভাড়ার তালিকা না থাকার দায়ে। অভিযান বন্ধের পর, এ দুই ব্যাপারে জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হচ্ছে না বাস মালিক এবং চালকদের।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved