শিরোনাম
 ঈদযাত্রার ট্রাক উল্টে রংপুরে নিহত ১৬  মহাসড়কে ধীরগতি  চীনে ভূমিধস, শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ২০:১১:১৫ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ২০:১১:২৪

পূর্বধলায় হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার নামে অর্থ হাতাচ্ছে এনজিও

মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে 'চেয়ারম্যানদের যোগসাজশে' হোল্ডিং নম্বর প্রদানের নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে 'নউফ হেলথ এন্ড এডুকেশন ফাউন্ডেশন' নামের একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)।

উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এনজিওটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে— সরকারের অনুমতি নিয়েই তারা এ কাজ করছেন। তবে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের এক স্মারকে উল্লেখিত এনজিওসহ দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট ও নম্বর প্লেট প্রদানের কোনো সুযোগ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, 'নউফ হেলথ এন্ড এডুকেশন ফাউন্ডেশনে'র প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোল্ডিং নম্বর দিয়ে ১০০ টাকা করে আদায় করেছে। তারা ওই কাজের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে হোল্ডিং নম্বর প্রদানের কাজ করছে বলে দাবি করছে। এছাড়া তাদের দেওয়া হোল্ডিং নম্বর ছাড়া ইউনিয়নের কোনো বাসিন্দা জমি রেজিস্ট্রি, ছেলেমেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানো, সরকারি সেবাসহ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেনা বলেও দাবি করছে তারা।

উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মাইকিং করে তিনদিনের মধ্যে হোল্ডিং নম্বর বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে পাঁচশত টাকা জরিমানা দিয়ে হোল্ডিং নম্বর নিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে ১০০ টাকা দিয়ে হোল্ডিং নম্বর নিয়েছি।'

বিশকাকুনি ইউনিয়নের বিশকাকুনি গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'এক বছর আগে সাবেক চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৭০ টাকা দিয়ে হোল্ডিং নম্বর লাগিয়েছিলাম। এখন আগের নম্বর বাতিল করে আবার নতুন করে একশত টাকা দিয়ে হোল্ডিং নম্বর নিতে হচ্ছে। আমাদের বলা হয়েছে, কেউ যদি হোল্ডিং নম্বর না নেয় তবে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করা, জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ কোনো নাগরিক সেবা পাবো না।'

জারিয়া ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, তাদেরকেও ১০০ টাকা করে দিয়ে হোল্ডিং নম্বর নিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে লিফলেট ও মাইকিং করে হোল্ডিং নম্বর লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হোল্ডিং নম্বর না নিলে পাঁচশত টাকা জরিমানা দিতে হবে বলেও মাইকিংয়ে জানানো হয়।

এ বিষয়ে জারিয়া ইউনিয়নে এনজিওটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে আমাদের অনুমতির কাগজপত্র দেখিয়ে চেয়ারম্যানের মাধ্যমেই হোল্ডিং নম্বর বসানোর কাজ করছি।'

সুমন জাননা, তাদের প্রধান কার্যালয় ঢাকার গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের সপ্তম তলায়। এ প্রতিবেদককে প্রয়োজনে সেখানে খোঁজ নিতে বলেন তিনি। সরকারি অনুমোদনের কাগজ চাইলে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরে দেখাবেন বলে জানান।

পরে এক ব্যক্তি নিজেকে ওই এনজির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এ প্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, 'বর্তমানে আমরা ঘাগড়া ইউনিয়নে কাজ করছি। ক্ষমতা থাকলে আসেন।'

অনুমোদনের বিষয়ে জানতে জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজেদা আক্তারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে বিশকাকুনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'এনজিওর লোকেরা বলেছে, তারা সরকারের অনুমোদন নিয়ে কাজটি করছে। তবে আমি অনুমোদনের কাগজ দেখিনি।'

এ ব্যাপারে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নমিতা দে বলেন, 'বিষয়টি আমিও শুনেছি। ইউনিয়ন পরিষদ বা এনজিও কর্তৃক হোল্ডিং নম্বর লাগানোর কোনো নির্দেশনা সরকারিভাবে নেই। আমার মনে হয় তারা মানুষকে মিথ্যা বলে প্রতারিত করছে। আমি পূর্বধলা সদর ইউপি চেয়ারম্যানকে হোল্ডিং নম্বর প্লেট বসাতে নিষেধ করেছি।'

পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, 'বিষয়টি আমিও শুনেছি। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved