শিরোনাম
 ত্রিশালে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩  গণভবনের বাইরে গুলিবিদ্ধ এসপিবিএন সদস্য মারা গেছেন  সাতক্ষীরায় দাদার হাতে নাতি খুন
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:১৫:৫৮ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:২৩:৪৯

রাউধার হোস্টেলের ফ্যান ও সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ

রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ও মালদ্বীপের মডেল রাউধা আথিফ যে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে বলা হচ্ছে, সেটি পরীক্ষার জন্য খুলে নিয়ে গেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পাশাপাশি পুরো হোস্টেলের সিসিটিভির ফুটেজও জব্দ করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার সকালে সিআইডির একটি দল নগরীর নওদাপাড়ায় ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে যায়। এ সময় রাউধার কক্ষের ফ্যান ও সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। সিআইডি কর্মকর্তারা হোস্টেলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা হোস্টেল থেকে বের হয়ে যান।
 
এ সময় সিআইডির রাজশাহী বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, 'বলা হচ্ছে- এই ফ্যানটিতে ঝুলেই রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তাই ফ্যানটি পরীক্ষা করে দেখবো। এ জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।'
 
তিনি বলেন, ‘ফ্যানে যদি ৫০-৫৫ কেজির কিছু ঝোলে, তবে সেখানে একটি চাপ পড়বে। যারা চাপ মাপেন, আমরা তাদের কাছে ফ্যানটি নিয়ে যাব। তারা পরীক্ষা করে দেখবেন ফ্যানটিতে আদৌ এই চাপ পড়েছে কী না। ফ্যানে কিছু ঝুললে কিছু দাগও থাকবে। পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত হতে চাই।’
 
এখন পর্যন্ত রাউধাকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে সিআইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাকে হত্যার বিষয়টি আমরা এখনো কোনোভাবে নিশ্চিত হতে পারিনি। চিকিৎসক বলছেন- আত্মহত্যা, বাবা বলছেন- হত্যা। চিকিৎসকের মতো আমরা সরাসরি আত্মহত্যা বলছি না। ঘটনা যাই হোক, আমরা নিশ্চিত হয়েই বলবো।’
 
সিআইডির ২০-২৫ জনের ওই দলে ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আসমাউল হক। তিনি বলেন, ‘ফ্যানের পাশাপাশি আমরা হোস্টেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করেছি। ঘটনার আগে ও পরের সিসিটিভির ফুটেজ আছে। কিন্তু ঘটনার দিনের কেন নেই! আমরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। ফুটেজের হার্ডডিস্ক নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা এটিও পরীক্ষা করবো। এতে জানা যাবে, ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে, নাকি রেকর্ড হয়নি।’
 
সিআইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোস্টেলের ভেতর সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে তাদের সঙ্গে ছিলেন রাউধা আথিফের বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ। হোস্টেল থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘রাউধার ঘরের দরজা আটকে সিআইডি কর্মকর্তারা বার বার সজোরে ধাক্কা দিয়ে সেটি খোলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দরজা খোলেনি, ভেঙেও যায়নি। তাহলে ঘটনার দিন কীভাবে খুলল? এটা একটা বড় প্রশ্ন।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘সিআইডি কর্মকর্তারা হোস্টেলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউ দেখেনি, রাউধা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। মালদ্বীপের ছাত্রীরা সিআইডিকে বলেছে, লাশ বিছানায় ছিল। পুলিশ আসার আগে কেন লাশ নামানো হলো? এটাও একটা বড় প্রশ্ন। পরীক্ষার আগের রাতে রাউধাকে জুসের সঙ্গে কেন ট্যাবলেট মিশিয়ে খেতে দেওয়া হয়েছিল? কেউ তাকে আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।’
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ ওই হোস্টেল থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাউধা এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাউধা ছিলেন মালদ্বীপের মডেল। মাত্র একুশ বছরের রাউধার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। লাশ উদ্ধারের দিন কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, রাউধা ভেতর থেকে দরজা আটকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শিক্ষার্থীরা দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ নামিয়েছেন।
 
এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের তিন সদস্যর দুজনই ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক। তাদের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই প্রতিবেদন মানতে নারাজ রাউধার বাবা।
 
গত ১০ এপ্রিল রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাউধার সহপাঠি সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved