শিরোনাম
 রাজধানী ও কুষ্টিয়ায় 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৪  'রাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা এএসপি মিজান হত্যায় জড়িত'
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০১:৩২:৫০ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১০:১২:০৪

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এসব কী হচ্ছে

রাজবংশী রায়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) যে দ্বন্দ্ব এত দিন ছিল কিছুটা অন্তরালে, তা এখন মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। এ দ্বন্দ্বের সঙ্গে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় যুক্ত শীর্ষ ব্যক্তিরা। কেন এই দ্বন্দ্ব? এর কারণ খুঁজতে গিয়ে সমকাল জানতে পেরেছে, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি এই দ্বন্দ্বের মূল কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যক্তিগত রেষারেষি, স্বাচিপ-বিএমএ দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত প্রভাববলয় সৃষ্টি। সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে উপাচার্য-উপউপাচার্য বিরোধ, মতদ্বৈধতা। এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অব কমান্ড হুমকির মুখে পড়েছে। প্রবীণ চিকিৎসাবিদরা এই পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সমকালকে বলেছেন, সকলের সঙ্গে কথা বলে তিনি এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবেন। জনবল নিয়োগ, কেনাকাটা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। উপাচার্য একটি সিদ্ধান্ত নিলে উপ-উপাচার্য তার বিরোধিতা করেন। আবার উপ-উপাচার্য কোনো কিছুর পক্ষে মতামত দিলে উপাচার্য তা আটকে দেন। সর্বশেষ নার্স নিয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এ ব্যাপারে শিক্ষক-চিকিৎসকরাও বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে দলাদলিতে জড়িয়ে পড়েছেন। চিকিৎসক নেতারাও নেপথ্যে

থেকে বিভিন্ন গ্রুপকে মদদ দিচ্ছেন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের আর কখনও প্রকাশ্যে এভাবে দ্বন্দ্বে জড়াতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসএমএমইউর সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব সমকালকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে যারা রয়েছেন, তারা শিক্ষকও। তারা জুনিয়রদের কাছে অনুকরণীয়। তাদের মধ্যে নীতিগত কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়াই বাঞ্ছনীয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা চলছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

যে কারণে দ্বন্দ্ব :একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়োগ, পদোন্নতি, উচ্চশিক্ষার কোর্সে ভর্তি, কেনাকাটা নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত বছরের মাঝামাঝিতে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি লিনিয়ার অ্যাক্সেলেটর মেশিন ক্রয় নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। অভিযোগে প্রকাশ, একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে লিনিয়ার অ্যাক্সেলেটর মেশিনের সর্বাধুনিক মডেলের পরিবর্তে পুরনো মডেলের মেশিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মেশিনের দামও আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় পাঁচ কোটি টাকা বেশি। ওই মেশিন ক্রয় কমিটির প্রধান ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়া। অভিযোগ রয়েছে, ডা. জাকারিয়া পুরনো মডেলের ওই মেশিন ক্রয়ের পক্ষে ছিলেন। বাজারদর কমিটির কঠোর অবস্থানের কারণে ওই মেশিন ক্রয় সম্ভব হয়নি। বাজারদর কমিটির এক সদস্য জানান, লিনিয়ার অ্যাক্সেলেটর মেশিন ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রায় সব সদস্যই সেটি ক্রয়ের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু পুরনো মডেলের ওই মেশিনটি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ক্রয় করা তাদের কাছে যথাযথ মনে হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়া সমকালকে বলেন, পিপিআর অনুসারে টেকনিক্যাল ও স্পেসিফিকেশন কমিটির পরামর্শ মেনেই লিনিয়ার অ্যাক্সেলেটর মেশিনের দরপত্র ও ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। মেশিন ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি খুবই প্রয়োজন। কিন্তু এই মেশিন না থাকায় রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী মেশিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সমকালকে বলেন, ওই মেশিন ক্রয়ে অনিয়মের ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে তা স্থগিত করা হয়েছে। পাঁচ কোটি টাকা বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ২০০ নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। সাড়ে ছয় হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। ২৯ ডিসেম্বর তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৭৯৮ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বাছাই করে ওই ফলাফল ২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এতে টাঙ্গাইল জেলা ও ঘাটাইল উপজেলার ৭৬ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। এসব প্রার্থী প্রত্যেকে লিখিত পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের ওপরে পান। উপাচার্যের নিজ এলাকা টাঙ্গাইলের এতসংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উপ-উপাচার্য ডা. জাকারিয়া। বিষয়টি সুরাহা করতে ১৯ জানুয়ারি উপাচার্যের সভাকক্ষে আলোচনায় বসে কর্তৃপক্ষ। ওই সভায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। সভা শেষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া নার্স নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেন। উপাচার্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপর দ্রুত সিন্ডিকেট সভা করে ওই ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের পাশাপাশি নার্স নিয়োগ বাতিল করা হয়। সিন্ডিকেট চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য কিছুসংখ্যক নার্স অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উপ-উপাচার্যের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে উপ-উপাচার্য তা পুনর্তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পরে ৭১৯ জন নার্স অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগে নার্সপ্রতি তিন লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান সমকালকে বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর সময় কিছুসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রায় আড়াইশ' জনবল নেওয়া হয়েছিল। পরে ওই নিয়োগের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলার পর তা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে উপাচার্য একক ক্ষমতাবলে কোনো নিয়োগ দিতে পারবেন না_ এই মর্মে আদালত রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু উপাচার্য প্রায় সাড়ে সাতশ' নার্স অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে উচ্চ আদালতের আদশের অবমাননা করেছেন। তিনি আরও বলেন, ২০০ নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনিয়মের অভিযোগের পর সিন্ডিকেট সভায় জরুরি কাজ চালানোর জন্য কিছুসংখ্যক নার্স নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। প্রায় চার গুণ নার্স অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই নিয়োগের আগে পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি। বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কীভাবে এতসংখ্যক নার্স চাকরির জন্য আবেদন করলেন এবং চাকরিও পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সব অনিয়মের মাত্রা ছাড়িয়েছে এই নার্স নিয়োগে।

ডা. ইকবাল আর্সলানের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে উপ-উপচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আদালতের ওই নির্দেশ কর্মচারী ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে তদন্ত কমিটি নার্স নিয়োগে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ২০০ নার্সের স্থায়ী নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও প্রায় ৫০০ নার্সের পদ শূন্য থাকায় অ্যাডহক ভিত্তিতে নার্স নিয়োগ করা হয়েছে।

তবে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়া সমকালকে বলেন, গত বছরের ২৫ জুন থেকে কার্যকর নিয়োগবিধি অনুযায়ী যেকোনো নিয়োগে ১০ সদস্যের নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হবে। এই বোর্ডের প্রধান হবেন উপাচার্য। রেজিস্ট্রার সদস্য সচিব, তিন সহউপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ সদস্য হবেন। এ ছাড়া বাকি চারজনকে উপাচার্য মনোনয়ন দেবেন। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার আগে কোনো বোর্ড গঠিত হয়নি। উপ-উপাচার্য হিসেবে আমাকেও জানানো হয়নি। বড় ধরনের দুর্নীতি না হলে এমনটি হতো না বলে মনে করেন তিনি।

বিএসএমএমইউ সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়া সমকালকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় নজরে আসার পর তা উপাচার্যকে অবহিত করেছি। সর্বশেষ অ্যাডহক ভিত্তিতে নার্স নিয়োগে বাণিজ্য হয়েছে_ এমন গুঞ্জন শোনার পর তাও উপাচার্যের নজরে আনা হয়েছিল। কিন্তু অনিয়মের বিষয়ে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সমকালকে বলেন, 'একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমার আগে যিনি উপাচার্য ছিলেন, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এখন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মহলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা চায় না। ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা চিন্তা করে তারা সার্বক্ষণিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে যতসংখ্যক নার্স নিয়োগের প্রয়োজন ছিল, ততসংখ্যক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এ নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারলে যে কোনো শাস্তি তিনি মাথা পেতে নেবেন।

বিভক্ত চিকিৎসক নেতারা :জানা গেছে, এ দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএমএমইউ চিকিৎসক ও শিক্ষকরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। বিএসএমএমইউ শাখা স্বাচিপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়া, বেসিক সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়া সহসভাপতি, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সংগঠনটির অজীবন সদস্য। এই পাঁচজনের প্রত্যেকের বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক গ্রুপ রয়েছে। তাদের কেন্দ্র করেই কর্মীরা বিভিন্ন উপগ্রুপে বিভক্ত। বিএমএ ও স্বাচিপের নেতা এবং বিএসএমএমইউর একাধিক শিক্ষক জানান, নার্স নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার পর স্বাচিপ সভাপতি ইকবাল আর্সলান, কনক কান্তি বড়ূয়া, ডা. জাকারিয়ার পক্ষে এবং ডা. শারফুদ্দিন উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেন। আরেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আলী আসগর মোড়ল উপাচার্যের পক্ষে রয়েছেন। বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজও উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেন। বিএমএ এবং স্বাচিপের শীর্ষ নেতাদের অনুসারীরা পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসে কয়েক দফা শোডাউনও করেন। স্বাচিপের এক নেতা বিএসএমএমইউতে কোরীয় অর্থায়নে নির্মিতব্য সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক হতে ইচ্ছুক। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে তিনি লবিং-তদবিরও করছেন। উপাচার্যও তাকে ওই পদে চাইছেন। কিন্তু স্বাচিপের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একটি বড় গ্রুপ তাকে ওই পদে চায় না। এ নিয়েও দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার দ্বন্দ্ব-গ্রুপিংয়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য দু'জনেই তার অনুজপ্রতিম। তাদের কারও পক্ষে অবস্থান নিয়ে তার গ্রুপিং করার কিছু নেই। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অবস্থা চলছে, তার নিরসন হওয়া প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণভাবে কীভাবে চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়টি সব পক্ষকে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সমকালকে বলেন, চলমান সমস্যার বিষয় নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। সবার সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তবুও সেরা : বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণায় বিএসএমএমইউ দেশসেরা প্রতিষ্ঠান। দুই হাজার শয্যার বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী সেবা গ্রহণ করেন। অটিজম চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি একনেকে এক হাজার শয্যার সেন্টার বেইসড সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এটি চালু হলে দেশ স্বাস্থ্যসেবায় আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বিকেল ৩টা থেকে বৈকালিক সেবা চালু আছে। শিশু কিডনি বিভাগে অত্যাধুনিক আলট্রাসনোগ্রাফি ও রেনাল বায়োপসি মেশিন চালু করা হয়েছে। ১০০ শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুকে সার্জারির মাধ্যমে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন টিএসসিসহ নতুন নতুন বিভাগ চালু এবং জটিল রোগের চিকিৎসায় অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। থেরাপি নেওয়ার জন্য এ হাসপাতালে আগত রোগীরা স্বল্পমূল্যে যথাযথ সেবা পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। নব্বইটিরও বেশি উচ্চ শিক্ষার কোর্স চালু আছে। শিক্ষা, গবেষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved