শিরোনাম
 রাজধানী ও কুষ্টিয়ায় 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৪  'রাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা এএসপি মিজান হত্যায় জড়িত'
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০১:৩০:৩৯

তারেকের সমর্থনপুষ্ট কমিটি, আব্বাস খোকা মনঃক্ষুণ্ন

লোটন একরাম

ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনে লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রভাবই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে তার প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করলেও ঢাকা মহানগরে তার সমর্থিত দু'জনকেই সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এতে ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার দীর্ঘদিনের প্রভাব-প্রতিপত্তি কিছুটা হলেও খর্ব হবে বলে মনে করেন অনেকে। নতুন কমিটিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম দু'জনই তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে সুপরিচিত। আগামীদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তারেক রহমানের পরামর্শেই পথ চলবেন তারা। বিগত দিনের আন্দোলনে আব্বাস-খোকা নগরীর নেতাকর্মীদের রাজপথে নামাতে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকায় এবার তারেকের পছন্দের নেতাদের নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নগর বিএনপির দুই কাণ্ডারি মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার

একচ্ছত্র আধিপত্য নেই। তবে অন্যান্য পদে তুলনামূলকভাবে মির্জা আব্বাসের অনুসারীদের আধিক্য রয়েছে। মির্জা আব্বাসের বোন ইসরাত মির্জা কমিটিতে স্থান পেলেও ছোট ভাই মির্জা খোকনের নাম বাদ পড়ায় নাখোশ আব্বাস। খোকাপন্থিদের তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির দীর্ঘ সময়ের সভাপতি খোকা যুক্তরাষ্ট্রে থাকাবস্থায় তার অনুসারীদের এবারও হতাশ হতে হলো।

মঙ্গলবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে নতুন কমিটি চূড়ান্ত করেন। পরে ওই রাতেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কমিটি অনুমোদন করেন। ঢাকায় আগে একটি কমিটিই ছিল বিএনপির। সিটি করপোরেশন ভাগ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও দুই ভাগের জন্য দুটি কমিটি করল।

সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরে বিগত কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হিসেবে সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বা কাজী আবুল বাসারকে সভাপতি এবং ইউনূস মৃধা বা হাবিবুর রশীদ হাবিবকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম প্রস্তাব করেছিলেন। অন্যদিকে, সাদেক হোসেন খোকা দক্ষিণে সভাপতি হিসেবে আবদুস সালাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নবী উল্লাহ নবীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন।

উত্তরে মির্জা আব্বাস সভাপতি হিসেবে আবদুস সালাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাবিথ আউয়ালের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আহ্বায়ক কমিটির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তরে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ভবিষ্যতেও নগরীর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে তাকে রাখতে চেয়েছিলেন মিন্টু। তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাবিথ আউয়ালকে দলের আন্তর্জাতিক উইংসহ দেশে-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাতে আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ তার শুভাকাঙ্ক্ষী মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খুশি হননি। উত্তরে সভাপতি কাইয়ুম এবং সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান দু'জনই আব্বাসবিরোধী। এমএ কাইয়ুম দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুসারী হলেও সাদেক হোসেন খোকারও অপছন্দ নয়। এমএ কাইয়ুম ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যা মামলায় আসামি হয়ে পলাতক রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানও ভেতরে ভেতরে খোকার অনুসারী।

এদিকে দীর্ঘদিন পর ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী ঢাকায় সবাইকে খুশি রেখে দলের কমিটি গঠনে বিএনপির হাইকমান্ডের আপ্রাণ চেষ্টায়ও সন্তুষ্ট নন অনেকেই। নগরীর অনেক সিনিয়র নেতা ও একাধিকবারের ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে কমিটিতে স্থান না দেওয়া, অনেক সিনিয়র নেতার নাম জুনিয়রের নিচে রাখা এবং অচেনা মুখ ও নবীনদের তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেকে।

মির্জা আব্বাসের অনুসারী একজন নেতা বলেন, মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার উভয়ের প্রস্তাবিত তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। এককভাবে যে নামগুলো দেওয়া হয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে খোকার অনুসারী বা অন্য কারও পছন্দের নেতার নাম দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের নামও ইঙ্গিত করেন তিনি। অন্যদিকে, খোকার অনুসারী একজন নেতা বলেন, মির্জা আব্বাসের অনুসারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও রিজভী আহমদের সমর্থকরাও প্রাধান্য পেয়েছেন কমিটিতে।

ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটিতে 'প্রবীণ-নবীন'দের সমন্বয় ঘটলেও জ্যেষ্ঠতা ডিঙানোর নানা অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচিত 'মির্জা আব্বাস-গয়েশ্বর চন্দ্র রায়' এবং 'সাদেক হোসেন খোকা'র পরিচিত গ্রুপের নেতাদের মধ্যে কমিটিতে পদ পাওয়া নিয়ে ব্যবধান বেড়েছে। নেতা-নেত্রীদের স্ত্রী-সন্তানরাও নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। নগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের বোন ইসরাত মির্জাকে সহসভাপতি, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানভীর আহমেদ রবিনকে দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আখতার কল্পনাকে সহসভাপতি, পিন্টুর বোন ও সাবেক কমিশনার ছায়েদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী ফেরদৌসী আখতার মিষ্টিকে উত্তরের সহসভাপতি করা হয়েছে।

পদবঞ্চিত অনেক সিনিয়র যোগ্য নেতা, ক্ষোভ-হতাশা :নতুন কমিটিতে দলের অনেক সিনিয়র, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে রাখা হয়নি। তাদের মধ্যে সাদেক হোসেন খোকার অনুসারী বেশি। দক্ষিণের কমিটিতে খোকার অনুসারী সিনিয়র নেতাদের কমিটির বাইরে রাখায় খোকা কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন। মির্জা আব্বাসের অনুসারী কিছু সিনিয়র নেতাও কমিটিতে স্থান পাননি বলে দাবি করছেন তার অনুসারী ইউনূস মৃধা।

পদবঞ্চিত সিনিয়র নেতাদের মধ্যে রয়েছেন_ সাবেক কমিশনার মোজাম্মেল হক মুক্তা (গোপীবাগ), মাণ্ডার চেয়ারম্যান আল মাসুদ, সাবেক কমিশনার হাজি লিয়াকত আলী (দক্ষিণ মৈশুণ্ডি), বর্তমান কাউন্সিল বাদল সরকার, সাবেক কমিশনার এমএ সামাদ (কোতোয়ালি), সাবেক কমিশনার হাজি মোজাম্মেল হোসেন শিকদার (পোস্তগোলা), বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল কাদের (গেণ্ডারিয়া), এম শাহেদ মন্টু (সূত্রাপুর), দলের শ্যামপুর থানা সভাপতি মজিবুর রহমান খান, রমনার সাধারণ সম্পাদক শেখ আমির হোসেন, কোতোয়ালির মোশাররফ হোসেন রিপন, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ওয়ারীর সাবেক আহ্বায়ক তারিক হোসেন, শাহবাগের শামসুল আলম চিনু, রফিকুল ইসলাম স্বপন, পল্টনের এসএম আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম চৌধুরী মিলন প্রমুখ। এসব নেতারা দীর্ঘদিন মহানগর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এবার ঘোষিত নগরীর দক্ষিণ কমিটিতে স্থান পাননি।

আবার সিনিয়র নেতা ও বর্তমান কাউন্সিল মকবুল ইসলাম খান টিপুকে (গেণ্ডারিয়া) অনেক জুনিয়রের নিচে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। দক্ষিণের ১৯টি যুগ্ম সম্পাদক পদের তালিকায় কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম টিপুর স্থান ১০ নম্বরে। তার ওপরে ৯ জনই মহানগরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার কনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। অনেক সিনিয়রের ওপরে নাম দেওয়া হয়েছে গেণ্ডারিয়া যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তারেক জামানের। কামরাঙ্গীরচর থানার সভাপতি মনির হোসেন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক হাজি রফিকুল ইসলামকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। অথচ কামরাঙ্গীরচর যুবদলের সভাপতি মো. নাঈমকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

দক্ষিণের সহসভাপতি পদেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের একই অভিযোগ। নবী উল্লাহ নবীর ওপরে ইউনূস মৃধা, সাজ্জাদ জহিরের ওপরে ফরিদ উদ্দিন, নাসিমা আখতার কল্পনা, আবু মোতালেব, আরিফুর রহমান আরিফের ওপরে তানভীর আদেল খান বাবু, মোশাররফ হোসেন খোকনের ওপরে ইশরাত মির্জা ও নিতাই চন্দ্র ঘোষের নাম তালিকায় স্থান পেয়েছে।

দক্ষিণে নবীউল্লাহ নবী ও ইউনূস মৃধা দু'জনই সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন। কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে দু'জনই ক্ষুব্ধ। অবশ্য ইউনূস মৃধা সমকালকে বলেন, দলের চেয়ারপারসন যাদের যোগ্য মনে করেছেন, তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। দলের সঙ্গে আছি এবং থাকব।

উত্তরের কমিটিতে দলের সিনিয়র নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ, জালালউদ্দিন (এয়ারপোর্ট), জালাল আহমেদ ও আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার (তেজগাঁও), প্রিন্সিপাল লিয়াকত হোসেন (ক্যান্টনমেন্ট), উত্তরা অবিভক্ত থানার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন ও উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক সভাপতি কুদরত এলাহী লিটন, সালাম সরকার (উত্তরা), সাবেক কাউন্সিলর হাজি রহমান (দারুস সালাম), আফজাল হোসেন প্রধান প্রমুখ মহানগর নেতাও স্থান পাননি। সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার উত্তরে সাধারণ সম্পাদক পদে জোর তদ্বির-লবিংও করেছিলেন। অবশ্য দুটি যুগ্ম সম্পাদকের পদ শূন্য রাখা হয়েছে। একটি পদ তাকে দেওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে।

পরীক্ষিতরাই স্থান পেয়েছেন :ফখরুল

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকালে নয়াপল্টন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, নতুন কমিটিতে পরীক্ষিত সৈনিকদের স্থান দেওয়া হয়েছে। কমিটির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তরুণরা অগ্রাধিকার পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, যেসব পদ এখনও শূন্য আছে, সেখানেও কাউকে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

খালেদা জিয়ার হাতে ফুল তুলে দিলেন নবাগতরা :নতুন কমিটি উপহার দেওয়ার জন্য রাতে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা মহানগরের নবাগত নেতারা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে গুলশানের কার্যালয়ে এসে পেঁৗছলে মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান, সহসভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আনজুসহ নেতৃবৃন্দ বিএনপি চেয়ারপারসনের হাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে অভিনন্দন জানায়। কয়েকশ' নেতাকর্মী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নেত্রীকে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।

এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অঙ্গ সংগঠনের সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, আকরামুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved