শিরোনাম
 সুজানগরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা  ফের গণমাধ্যমের ওপর চড়াও ট্রাম্প  এসপানিওলকে হারিয়ে শীর্ষে বার্সা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০১:২৬:৫১

চট্টগ্রামে কাউকে পরোয়া করছে না ছাত্রলীগ

সুইমিংপুল নিয়ে সংঘর্ষে দুই মামলা
তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে কাউকেই পরোয়া করছে না ছাত্রলীগ। একের পর এক সংঘর্ষ হচ্ছে নিজেদের মধ্যে। পুলিশের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে সংঘর্ষে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সুইমিং পুল নির্মাণকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগের দু'পক্ষে। এর জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখোমুখি হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ। এ নিয়ে চট্টগ্রামজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে ছাত্রলীগের বেপরোয়া নেতাকর্মীদের থামানো যাচ্ছে না। তাদের কারণে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলেও কেউ তাদের লাগাম টেনে ধরতে এগিয়ে আসছে না।



এদিকে মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনায় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আসামি করে থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া 'পুলিশি হামলার' প্রতিবাদে গতকাল বুধবার নগরীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হলেও পরে তা বাতিল করে ছাত্রলীগ।



চট্টগ্রাম মহানগরে ছাত্রলীগ দুই ভাগে বিভক্ত। এক গ্রুপ নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক; অন্য গ্রুপটি সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের সমর্থক। তবে নগর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিসহ বেশিরভাগ সদস্যই মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। গত ১৭ এপ্রিল দলের একটি কর্মসূচিতে দীর্ঘ দিনের বিরোধ ভুলে মহিউদ্দিন-নাছির ঘোষণা দিয়ে একে অপরের সঙ্গে মিলে গেলেও 'মিল-মিশ' হচ্ছে না ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী ও নাছির না চাইলে ছাত্রলীগের বিদ্যমান সমস্যা সহজে সমাধান হবে না।

এ প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরী সমকালকে বলেন, 'আমি সব সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের কথা বলি। কিন্তু কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলের জন্য মাঝেমধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আউটার স্টেডিয়ামে খেলার মাঠে সুইমিং পুল নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার তারা সেখানে মানববন্ধন করছিল। তাদের কর্মসূচিতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।'



এদিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চুয়েটেও যখন-তখন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপগুলো। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রাম হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজে প্রায় সময়ই ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ হামলা-পাল্টা হামলা করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। শুধু চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ সামাল দিতেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে নগরীর চকবাজার থানা ও চকবাজার পুলিশ ফাঁড়িকে। মহানগর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চুয়েটে আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন ও নাছিরের সমর্থকরা সক্রিয়। তবে কলেজ দুটিতে মহিউদ্দিন অনুসারী নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ লাগছে 'যুবলীগ নেতা' নুরুল মোস্তফা টিনু গ্রুপের। টিনু নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। মন্ত্রী বিএসসির ছবির সঙ্গে টিনুর ছবি সংবলিত পোস্টার শোভা পাচ্ছে চকবাজারসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে। টিনু নিজেকে 'যুবলীগ নেতা' দাবি করলেও সম্প্রতি নগর যুবলীগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে টিনু যুবলীগের কেউ নন বলে জানানো হয়। মূলত চকবাজার এলাকায় নিজেদের নিরঙ্কুুশ আধিপত্য ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রাখতেই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। নগরীর জিইসি মোড় এলাকায়ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে ঘিরে প্রায় সময় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুটি গ্রুপ।



মঙ্গলবার আউটার স্টেডিয়ামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষের পর ওই ঘটনার জেরে নগরীর ওয়াসা মোড়, জিইসি মোড় এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়ায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও। যে কোনো সময় সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে_ এ আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপু মেয়র নাছির গ্রুপ এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।



এ ব্যাপারে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি সমকালকে বলেন, 'ছাত্রলীগ বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু ছাত্রলীগ নামধারী প্রশাসনের ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। আমরা কেবল এসব অপকর্মের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে রোষানলে পড়ছি।'

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আসামি করে দুই মামলা : মঙ্গলবারের ঘটনায় দুই মামলায় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ৬৫ নেতাকর্মীসহ ৪৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। সুইমিংপুল প্রকল্প এলাকায় ভাংচুরের ঘটনায় ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম স্বপন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন রতন বাদী হয়ে গতকাল বুধবার কোতোয়ালি থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন। গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, 'মামলায় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পদক নুরুল আজিম রনিকে আসামি করা হয়েছে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved