শিরোনাম
 ঘূর্ণিঝড় 'মোরা': চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত  অস্ট্রিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ  দিনাজপুরে অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষের পর বাস খাদে, নিহত ৩  নতুন ভ্যাট আইনে সংকট তৈরি হবে
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০১:২২:৪০

নতুন ২৮ এসিল্যান্ড অফিস হচ্ছে ঢাকায়

হকিকত জাহান হকি

ঢাকা মহানগরে উন্নত ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে নতুন ২৮টি এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) অফিস এবং ৩৩টি তহসিল অফিস স্থাপন করা হচ্ছে। মানুষ ও বাসাবাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মহানগরের ১২৪টি ওয়ার্ডের প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য উন্নত ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।



সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরের ১৯১টি মৌজায় ১১টি রাজস্ব সার্কেলভুক্ত এলাকায় ২৬টি তহসিল অফিস রয়েছে। বিস্তৃত আয়তনের এ এলাকার জন্য এসব অফিস থেকে সহজে উন্নত সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। জনগণের কাছাকাছি থেকে স্বল্প সময়ে উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নতুন এসি ল্যান্ড অফিস ও তহসিল অফিস স্থাপন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসক সম্প্রতি একটি প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা এরই মধ্যে একাধিক সভা করে জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন। মহানগরে ভূমি সংক্রান্ত কাজ তদারকির জন্য জেলা প্রশাসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব),



অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি অধিগ্রহণ) ও একজন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরের (আরডিসি) নতুন পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবটিও গ্রহণ করেছে।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সমকালকে বলেন, জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে। শিগগির নতুন এসি ল্যান্ড ও তহসিল অফিস স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় নতুন তিনটি পদ সৃষ্টির ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরে জনসংখ্যা, বাসা-বাড়ি বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। একই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত নানা কাজও বেড়েছে। তাই জনগণের কাছাকাছি অবস্থান করে দ্রুত উন্নত সেবা দিতে নতুন এসি ল্যান্ড অফিস ও তহসিল অফিস স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভূমি সংস্কার বোর্ড এসি ল্যান্ড ও তহসিল অফিস স্থাপনে আর্থিক বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান সমকালকে বলেন, মানুষ যাতে ঘরে বসে স্বল্প সময়ে ভূমি সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা পায়, তার জন্য এ খাতে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন করা হবে।



ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন সমকালকে বলেন, এই শহরে এক সময়ের একতলা বাড়ি এখন ছয় তলা হয়েছে। একেকটি তলায় দুটি ইউনিট ধরলে ১২টি পরিবার ১২টি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছে। এক সময় একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ওই প্লটের খাজনা আদায় করা হলেও বর্তমানে ১২ জনের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এই হিসাবে ভূমি অফিসের কাজ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২৮টি নতুন অফিস স্থাপন করা হলে আগের ১১টিসহ ঢাকা মহানগরে মোট এসি ল্যান্ড অফিস হবে ৩৯টি। একইভাবে নতুন ৩৩টি নিয়ে তহসিল অফিস হবে ৫৯টি। এসি ল্যান্ড অফিসের মাধ্যমে ভূমি জরিপ কাজে সহায়তা, নাম জারি, খতিয়ান সৃজন, রেকর্ড সংশোধনসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। আর তহসিল অফিসের মাধ্যমে আদায় করা হয় ভূমির খাজনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরে বিদ্যমান ১১টি অফিসও অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করায় স্থানীয় মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এরই মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ১১ অফিস সার্কেলভুক্ত এলাকার কেন্দ্রস্থলে স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।



ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা জেলা প্রশাসক সম্প্রতি ১১টি সার্কেলভুক্ত এলাকা ভাগ করে ২৮টি নতুন সার্কেল সৃজনের প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে লালবাগ সার্কেল দুই ভাগ করে লালবাগ, হাজারীবাগ; গুলশান সার্কেলকে পাঁচ ভাগ করে গুলশান, ভাটারা, ডুমনী, কাঁঠালিয়া, গোবিন্দপুর; ডেমরা সার্কেলকে চার ভাগ করে ডেমরা, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, নন্দীপাড়া; ধানমণ্ডি সার্কেলকে দুই ভাগ করে ধানমণ্ডি, আদাবর; মিরপুর সার্কেলকে চার ভাগ করে মিরপুর, দ্বিগুণ, বাউনিয়া, দিয়াবাড়ি; মোহাম্মদপুর সার্কেলকে তিন ভাগ করে মোহাম্মদপুর, সেনপাড়া পর্বতা, পাইকপাড়া; তেজগাঁও সার্কেলকে আট ভাগ করে তেজগাঁও, মগবাজার, ফার্মগেট, বাড্ডা, রামপুরা, মেরাদিয়া, সাঁতারকুল, বেরাইদ; মতিঝিল সার্কেলকে তিন ভাগ করে মতিঝিল, দনিয়া, রাজারবাগ; কোতোয়ালি সার্কেলকে দুই ভাগ করে কোতোয়ালি, সূত্রাপুর এবং ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলকে পাঁচ ভাগ করে ক্যান্টনমেন্ট, ইব্রাহীমপুর, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান রাজস্ব সার্কেলের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবে শুধু রমনা সার্কেল ভাগ না করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবে বলা হয়, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে একজন এসি ল্যান্ডকে গড়ে ১৬ লাখের বেশি মানুষকে সেবা প্রদান করতে হচ্ছে। এতে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। এই পর্যায়ে দেওয়ানি মামলা ব্যবস্থাপনা হ্রাসে জরিপ কাজে সহায়তা, নাম জারি মোকদ্দমা, খতিয়ান সৃজন, রেকর্ড সংশোধনে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ও অনলাইনে খাজনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে মহানগরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।



ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক হিসাব থেকে জানা যায়, ১৯৮০-৮১ সালে ঢাকা মহানগরে হোল্ডিং সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩শ'। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ১৩৭-এ। একই বছরে ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহীতার হোল্ডিং সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ গুণ, যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই হারে হোল্ডিং সংখ্যা বাড়তে থাকলে আগামী ১০ বছরে তা কয়েক গুণ বেড়ে প্রায় এক কোটিতে ঠেকবে। এই হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ভূমি উন্নয়ন কর প্রায় ১শ' কোটিতে উন্নীত হবে।



সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ সহস্রাধিকে। একইভাবে রাজস্ব আদালতে মিস আপিলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দেড় সহস্রাধিক। এ ছাড়া অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা ১৭ এবং এসি ল্যান্ড অফিসগুলোতে বর্তমানে মিস কেসের সংখ্যা ২০ সহস্রাধিক।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি থানা থেকে ৪৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের এলাকাভিত্তিক বিভাগের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩১টি। উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে আরও নতুন থানা ও বিভাগের অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ভূমি খাতের সেবার মান উন্নয়নে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved