শিরোনাম
 বিচারকদের চাকরি বিধিমালার খসড়া প্রধান বিচারপতির কাছে  বাড়ল স্বর্ণের দাম  মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাজেহাল করছে সরকার: ফখরুল  দোষারোপ করে জলাবদ্ধতার সমাধান হবে না: ওয়াসার এমডি
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০১:২০:১৯

জুয়ার আসরে ডিবির 'অভিযান' নাটক

সাসপেন্ড ৭ পুলিশ
সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর কাফরুলে জুয়ার আসরে র‌্যাব পরিচয়ে 'অভিযান' নাটক করতে গিয়ে ধরা পড়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। অভিযোগ উঠেছে, গত মঙ্গলবার রাতে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে অভিযানের নামে জুয়ার আসর থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে গিয়েছিল দলটি। এর আগে গত মাসেও একইভাবে টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন ডিবির সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা দিনভর বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করেন।

এদিকে কাফরুলের ঘটনায় জড়িত সাত পুলিশ সদস্যকে গতকালই সাসপেন্ড করা হয়েছে। অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) জামিল আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও মিরপুর বিভাগের ডিসি মাসুদ আহম্মেদ। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্তের নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, ব্যক্তির দায় কখনো পুলিশ বাহিনী নেবে না। শৃঙ্খলা পরিপন্থী যে কোনো কাজে জড়ালে তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কাফরুলের ঘটনায় সাত পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিবির ডিসি (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম সমকালকে বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, 'এ ধরনের অভিযোগ তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।'

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাফরুলের কচুক্ষেতের ব্যায়ামাগার এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মাইক্রোবাস নিয়ে 'অভিযান' চালাতে যায় ডিবির পূর্ব বিভাগের একটি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন সহকারী কমিশনার রুহুল আমিন। তিনি ব্যায়ামাগার এলাকার একটি অবৈধ জুয়ার আসরে গিয়ে নিজেকে র‌্যাব-৪'র মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সবাইকে গ্রেফতার করারও হুমকি দেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরও ৭-৮ জন পুলিশ সদস্য। এরই মধ্যে ডিবির ওই কর্মকর্তা জুয়ার আসর থেকে চারজনকে আটক করে গাড়িতে উঠিয়ে সেনানিবাস এলাকায় ঢুকে পড়েন। কেউ কাফরুল থানা পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কাফরুল থানার ওসি সিকদার মো. শামীম হোসেন। তিনি বিষয়টি মিলিটারি পুলিশকে জানান। এরপর মিলিটারি পুলিশ ওই গাড়ি শনাক্ত করে তা আটক করে। ডিবির দলটিকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা জানায়, র‌্যাব নয়, প্রকৃতপক্ষে তারা ডিবির পূর্ব বিভাগের সদস্য।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল কয়েক দফায় ডিবির পূর্ব বিভাগের উপ-কমিশনার খন্দকার নূরুন্নবীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। কাফরুল থানার ওসি গতকাল সকাল থেকে এ বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহম্মেদ সমকালকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে চেকপোস্টে ডিবি পুলিশের সঙ্গে মিলিটারি পুলিশের ঝামেলার কথা শুনে কাফরুল থানার ওসি ঘটনাস্থলে যান। এর পর সেখান থেকে ডিবির সদস্যদের থানায় আনা হয়। কেন কী কারণে তারা সেখানে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ আছে, কচুক্ষেতের অবৈধ জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন স্থানীয় পুলিশের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা। এর মধ্যে পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা আছেন। গত মাসে ডিবির পরিচয়ে একটি দল সেখানে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নিয়ে আসে। মঙ্গলবার রাতে ডিবির অভিযানের সময় পুলিশকে ডেকে নেয় জুয়াড়িরা। আটকের পর ডিবির দলটির কাছে কিছু জাল মুদ্রা ও ইয়াবা পাওয়া যায়। ওই জাল মুদ্রা ও ইয়াবা দিয়ে হয়ত আটককৃতদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হতো।

সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল উত্তরায় রাজলক্ষ্মী মার্কেটের পাশে মো. ইলিয়াস নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৮ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধরা পড়ে উত্তরা-পূর্ব থানার সহকারী-উপপরিদর্শক (এসআই)। নিজের প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন আলমগীর। এরই মধ্যে পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তির প্রায় ৩৭ হাজার ডলার ছিনিয়ে নেওয়ায় তার জড়িত থাকার প্রমাণও মিলেছে। এ ছাড়া গত বছরের ১৮ নভেম্বর কারওয়ান বাজার এলাকার সোনারগাঁও হোটেল মোড়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন এক কনস্টেবল। এর আগে ১৩ নভেম্বর পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালাতে সহায়তার ঘটনায় বাড্ডা থানার এসআই ইমরান উল হাসানসহ দু'জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved