শিরোনাম
 বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী  এমপি লিটন হত্যা: কাদের খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল  প্রধানমন্ত্রী হাওরের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেননি: খালেদা জিয়া
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০১:১৮:২৬

মিরসরাইয়ের মহামায়ায় হচ্ছে আধুনিক পর্যটন জোন

আবু সাঈম, চট্টগ্রাম ব্যুরো

পর্যটনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মহামায়া লেক এলাকা ঘিরে নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকার এ প্রকল্পের আওতায় মহামায়ায় আনা হবে দেশি-বিদেশি পাখি, রোপণ করা হবে বিলুপ্ত প্রজাতির নানা উদ্ভিদ, নির্মাণ করা হবে ঝুলন্ত সেতু। দর্শনার্থীদের জন্য লেকের পানিতে থাকবে ভাসমান বোট, গড়ে তোলা হবে পর্যটক টাওয়ার, সংস্কার করা হবে প্রাকৃতিক ঝর্ণাগুলোও। ফলে সংরক্ষিত হবে বিলুপ্ত প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী। বাড়বে কর্মসংস্থান ও ইকো-ট্যুরিজমের সুবিধা। এর আওতায় মিরসাইয়ের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রায় দুই হাজার একর এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক ও সমন্বিত পর্যটন জোন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আ ন ম আবদুল ওয়াদুদ সমকালকে বলেন, 'মহামায়াকে ঘিরে আধুনিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনজন মন্ত্রী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগসহ সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। বিকশিত হবে ইকো-ট্যুরিজমও।'

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার রামগড়-সীতাকুণ্ড ফরেস্টের দুই হাজার একর এলাকা নিয়ে এ আধুনিক পর্যটন জোন গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির উদ্ভিদের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন ঘটানো হবে। বিলুপ্ত প্রজাতির উদ্ভিদের সংরক্ষণ, ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়ন, পরিবেশের উন্নয়নসহ স্বচ্ছ পানির উৎস পুনরুদ্ধার,

দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিনোদনের সুবিধা বৃদ্ধি ইত্যাদি তো থাককেই। ২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার এ প্রকল্পের অধীনে ২০০ হেক্টর এলাকায় দুষ্প্রাপ্য ও বিলুপ্ত দেশীয় প্রজাতির বনায়ন, ২০০ হেক্টর দেশীয় প্রজাতির ফলদ বৃক্ষের বনায়ন, ৫০ হেক্টর ঔষধি বৃক্ষের বনায়ন, ৫০ হেক্টর শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের বনায়ন, ৭০০ মিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ২৫০ মিটার দীর্ঘ দুটি ঝুলন্ত সেতু, তিনতলা বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ, ২০০ মিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, ১০০ জনের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ফ্লটিং ভেসেল, কচ্ছপ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি, জলজ পক্ষিশালা নির্মাণ, কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ, পর্যটকদের জন্য শেডসহ খাবার পানি সরবরাহ ও প্রবেশমুখে আরসিসি গাইড ম্যাপ করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৩০ মার্চ প্রকল্প এলাকা পরির্দশন করেন গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ সময় তারা ইঞ্জিনচালিত বোটে মহামায়া লেক এলাকা ঘুরে দেখেন। পরির্দশনকালে বন ও পরিবেশমন্ত্রী মহামায়া এলাকায় পর্যটকদের জন্য কেবলকার ও টাওয়ার নির্মাণেরও ঘোষণা দেন। প্রায় ২০০ হেক্টর আয়তনের জলাশয়, মহামায়া গুহা, মনোমুগ্ধকর ঝর্ণা, বিভিন্ন প্রজাতির বিরল জলজ পাখি, বিরল ও শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদসহ মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসছেন মহামায়া লেক এলাকায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘি বাজারের এক কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এ প্র্রকল্প এলাকা। এর মাধ্যমে মিরসরাইয়ের ১২০০ হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। ২০১০ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved