শিরোনাম
 ঘূর্ণিঝড় 'মোরা': চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত  অস্ট্রিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ  দিনাজপুরে অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষের পর বাস খাদে, নিহত ৩  নতুন ভ্যাট আইনে সংকট তৈরি হবে
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:৫৭:৪৯ | আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:০৬:২৭
বিশ্ব নেতাদের প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় সম্পৃক্তে নীতি গ্রহণ করুন

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবন্ধী ও অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য কার্যকর নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
তিনি বলেন, 'আসুন, আমরা এদের বহুমুখি প্রতিভাকে স্বীকৃতি প্রদানে সংকল্পবদ্ধ হই, যাদের এই অসামঞ্জস্যতার কোন চিকিৎসা নেই তাদের মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ করে দিই। যাতে করে তারা সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে পারে।'
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে ভুটানের থিম্পুতে অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে তিন দিনের এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। খবর বাসসের
 
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে থিম্পুর রয়্যাল ব্যাংকুয়েট হলে 'ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার' শীর্ষক এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সূচনা ফাউন্ডেশন (সাবেক গ্লোবাল অটিজম), অ্যাবিলিটি ভুটান সোসাইটি (এবিএস) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় এতে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে।
 
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে—'এএসডি ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য কার্যকর ও টেকসই বহুমুখী কর্মসূচি'। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেসারিং তোবগে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তৃতা করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ডা. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। ভুটানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী লিয়নপো তানদিন ওয়াংচুক সম্মেলনে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
 
এই সেশনের প্যারেন্ট স্পিকার ছিলেন চিম্মি লাদেন। সেন্ট্রোল অ্যান সুলেভান দেল পেরুর প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যনির্বাহী পরিচালক ডা. ইয়োল্যান্ডা মায়া ওর্তেগা 'দুটি পরিবারের সদস্য ও পেশাজীবীদের সম্মিলিতভাবে কার্য সম্পাদনে অটিজম আক্রান্তরা কিভাবে স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী এবং সুখী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে' শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সূচনা ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশের অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার সম্পর্কিত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ও ভুটানের রাণী জেটসান পেমা। ভুটানের ঐতিহ্যবাহী মার্চাঙ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয়।
 
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, 'ঝুঁকির মুখে থাকা নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করা সকল দেশের জন্যই প্রয়োজনীয় এবং সরকারগুলোর উচিত এজন্য নীতি এবং কর্মসূচি প্রণয়ন করা। যাতে করে কোন নাগরিকই যেন অবহেলার স্বীকার না হয়।'
 
শেখ হাসিনা বলেন, 'তারা (অটিজম আক্রান্তরা) দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার সুযোগের দাবিদার। এটা আমাদেরই কর্তব্য তাদের জন্য জীবনের প্রতিটি স্তরে শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সামাজিক এবং মেডিকেল সাহায্য প্রদান করা।'
 
প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় সম্পৃক্তে নীতি গ্রহণ করুন
থিম্পুর রয়্যাল ব্যাংকুয়েট হলে 'ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার' শীর্ষক সম্মেলনে দর্শকদের একাংশ—পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) বিষয়ে অর্থনৈতিক এবং কারিগরিভাবে সীমাবদ্ধ দেশগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কাঠামোগত পদ্ধতি নির্ধারণের সচেতনতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তাদেরকে দিক-নির্দেশনা প্রদানের মতো কোন মডেল বা নির্দেশিকা এতদিনেও তৈরি হয়নি।'
 
তিনি বলেন, 'যেসব কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে সেগুলোর সঙ্গে আন্তঃদেশীয় বা অন্তঃদেশীয় কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করাটা খুব জরুরি। আর এটার ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সকল দেশ।'
 
শেখ হাসিনা বলেন, 'বর্তমান বিশ্বে অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া সার্ভিস ডেলিভারি মডেল কখনও কার্যকর হতে পারে না। অর্থনৈতিকভাবে পর্যাপ্ত এবং অদূর ভবিষ্যতের জন্য ও টেকসই-মজবুত হতে পারে না।'
 
তিনি আরও বলেন, 'এক্ষেত্রে ডাটার স্বল্পতা, সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন, প্রমাণভিত্তিক ইন্টারভেনশন কর্মসূচি এবং বিদ্যমান থাকা কর্মসূচি এবং সেবার বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ উল্লেখযোগ্য। এজন্য কখনও কখনও মানসম্পন্ন কর্মসূচিও বড় বড় শহর কেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর বাইরে পৌঁছতে পারে না কিংবা তাদের আয়ত্তের মধ্যে থাকে না।'
 
শেখ হাসিনা বলেন, "২০১৩ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে গৃহীত সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্য অ্যাকশন প্লান ২০১৩-২০২০-তে পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে যে, এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মানসিক এবং মনস্তাত্ত্বিক অসাঞ্জস্য দূর করতে হলে 'গ্যাপ' চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও জোরালো করতে হবে।"
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এক্ষেত্রে দেশগুলোর জন্য করণীয় ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং এজন্য বিভিন্ন টুল গ্রহণ এবং বর্জন করার সক্ষমতা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতা এবং সার্ভিস উন্নয়নের স্বল্পতা আমাদের কর্মপ্রয়াসকে অর্থনৈতিকভাবে এবং নৈতিকভাবে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে বিঘ্নিত করছে।'
আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved