শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ০২:০৬:১৬
ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি

দক্ষিণের নেতৃত্বে সোহেল-বাসার উত্তরে কাইয়ুম ও হাসান

সমকাল প্রতিবেদক
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ঢাকা সিটি করপোরেশনের আদলে মহানগর বিএনপিকে ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল সভাপতি ও কাজী আবুল বাসারকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরে এমএ কাইয়ুম সভাপতি ও আহসানউল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল মঙ্গলবার রাতে কমিটি অনুমোদন করেন। নতুন আংশিক কমিটিতে দক্ষিণে ৭০ জন এবং উত্তরে ৬৬ জনের নাম গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

নতুন কমিটিকে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। অবশ্য নতুন কমিটির দুই সভাপতি সোহেল ও কাইয়ুম দু'জনই দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তবে এই কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নগর বিএনপির দুই কাণ্ডারি মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার একচ্ছত্র আধিপত্য নেই। তবে অন্যান্য পদে তুলনামূলভাবে মির্জা আব্বাসের অনুসারীদের আধিক্য রয়েছে। খোকাপন্থিদের তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাতে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে নতুন কমিটি চূড়ান্ত করেন। ওই বৈঠকে ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু, তৃণমূল পুনর্গঠনের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

নতুন আংশিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ২৬ জন সহসভাপতি, ১৯ জন যুগ্ম সম্পাদক, ১৮ জন সহ সাধারণ সম্পাদক, ৩ জন সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করা হয়। উত্তরে ২৩ সহসভাপতি, ১৫ জন যুগ্ম সম্পাদক,

১৯ সহ সাধারণ সম্পাদক, ৩ সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। অবশ্য উত্তরে যুগ্ম সম্পাদকের দুটি পদ শূন্য রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, নতুন কমিটিতে এবার রাজধানীর বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা কারও একচ্ছত্র আধিপত্য নেই। দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সঙ্গে মির্জা আব্বাসের কিছুটা দূরত্ব ছিল। মির্জা আব্বাস সদস্য সচিব হিসেবে তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবুল বাসার একসময়ে খোকার ঘনিষ্ঠ থাকলেও বর্তমানে আব্বাসের ঘনিষ্ঠ নেতা বনে গেছেন। আব্বাসের পছন্দেই তাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দক্ষিণে ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম সভাপতি হতে জোর তদ্বির ও লবিং করেছিলেন। দলের হাইকমান্ড তাকে সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তরুণ নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল সভাপতি হলে তিনি সাধারণ সম্পাদক হতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ পরিস্থিতিতে কাজী আবুল বাসারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী ইউনুস মৃধাকে দ্বিতীয় সহসভাপতি এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রশীদ হাবিবকে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে।

অন্যদিকে উত্তরের সভাপতি হয়েছেন ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমএ কাইয়ুম। তিনি সাদেক হোসেন খোকার অনুসারী নেতা। একই সঙ্গে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দের নেতা। বহুল আলোচিত ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যা মামলার পলাতক অন্যতম আসামিও কাইয়ুম। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহসান উল্লাহ হাসান। তিনি সাদেক হোসেন খোকার অনুসারী। উত্তরে দু'জন খোকার অনুসারী হলেও তার নির্বাচনী এলাকা নগরীর দক্ষিণের সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি এলাকায়। দক্ষিণের সভাপতি সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক বাসার দু'জনের কেউ খোকাপন্থি নন।

২০১৪ সালের ১৮ জুলাই মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে বিএনপি। এই আহ্বায়ক কমিটিকে এক মাসের মধ্যে ওয়ার্ড-থানা কমিটি গঠন করে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে সম্মেলন করে মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময়সীমা বেঁধে দেয় কেন্দ্র। কোন্দলের কারণে ঢাকা মহানগরে অধিকাংশ থানা এবং ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ নির্বাহী কমিটির (আংশিক) :সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহসভাপতি শামছুল হুদা, ইউনুস মৃধা, নবী উল্লাহ নবী, মীর হোসেন মিরু, মো. আবু মোতালেব, নাসিমা আক্তার কল্পনা, ফরিদ উদ্দিন, মো. সাজ্জাদ জহির, মোস্তাফিজুর রহমান হিরু, গোলাম হোসেন, আনবীর আদেল খান বাবু, আরিফুর রহমান আরিফ, ইশরাত মির্জা, মোশারফ হোসেন খোকন, আতিক উল্যাহ আতিক, মীর আশরাফ আলী আজম, মো. মোহন, জয়নাল আবেদীন রতন, মো. আবদুল লতিফ, সিরাজুল ইসলাম, হাজী দেলোয়ার হোসেন, আবুল হাসান ননি তালুকদার, হামিদুর রহমান হামিদ, এসকে সেকান্দার কাদির, সাবি্বর হোসেন আরিফ ও নিতাই চন্দ্র ঘোষ। সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার। যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, আ ন ম সাইফুল ইসলাম, শেখ রবিউল আলম রবি, হারুনুর রশিদ হারুন (কমিশনার), আলী রেজাউল রহমান রিপন, অ্যাডভোকেট ফারুকুল ইসলাম, আরিফুর রহমান নাদিম, লতিফ উল্লাহ জাফরু, আব্দুস সাত্তার, মকবুল হোসেন টিপু, আলমগীর হোসেন, খতিবুর রহমান খোকন, আবুল খায়ের বাবলু, আনোয়ার পারভেজ বাদল, আব্দুল হান্নান, আনোয়ার হোসেন টিপু, শাহীন লাল শাহীন, কে এম জুবায়ের এজাজ ও ফরহাদ হোসেন। সহ সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম, মোয়াজ্জেম হোসেন খান, তারেক জামাল, জাফর সাদেক টুটুল, আলী আহম্মেদ, জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, মারুফ তালহা মনি, হামিদুল হক, জামিলুর রহমান নয়ন, শেখ মোহাম্মদ আলী চায়না, সাইদুর রহমান সাঈদ, রফিকউল্লাহ রফিক, আকবর হোসেন নান্টু, শাহেদা মোরশেদ, জাফর আহমেদ, হাজী লিটন, হাজী নাজিম ও ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কিবরিয়া। সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন, সাইফুল ইসলাম পটু ও রফিকুল ইসলাম রাসেল। দপ্তর সম্পাদক-সাঈদুর রহমান মিন্টু, আব্দুল হাই পল্লব।

ঢাকা মহানগর উত্তর নির্বাহী কমিটির (আংশিক) :সভাপতি আবদুল কাইয়ুম, সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, আবদুল আলী নকী, মো. সাহাব উদ্দিন, আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন, মতিউর রহমান মশু, আতিকুল ইসলাম মতিন, আলী ইমাম আসাদ, মাসুদ খান, ফয়েজ আহমেদ ফরু, কাজী হযরত আলী, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, নবী সোলায়মান, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এএলএম কাওসার আহমেদ, রবিউল আউয়ার, আলতাফ উদ্দিন মোল্লা, আলহাজ শামছুল হক, এসএম আনোয়ার হোসেন, আবুল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আলহাজ আবুল হাসেম, শাহিনুর আলম মারফত ও আক্কেল আলী। সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান। প্রথম দুটি যুগ্ম সম্পাদকের নামের ঘর শূন্য রাখা হয়েছে। যুগ্ম সম্পাদক-কফির উদ্দিন, শামীম পারভেজ, আবুল মেসের, নাসির আহমদ, আশরাফ হোসেন, সাইফুল রহমান মিহির, মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, গোলাম সাবের চৌধুরী কিরণ, মো. আতিক, গাজী মো. রেজাওয়ান উল হোসেন, গোলাম রব্বানি, মাহফুজুর রহমান, বেলাল চেয়ারম্যান, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান। সহসাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, নুরুল হক, আশরাফুজ্জামান জাহান, ডিএম নজরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন নান্টু, হেলাল তালুকদার, তারিকুল আলম ট্যানজিং, খন্দকার ইব্রাহিম খলিল, দেওয়ান গিয়াস উদ্দিন, মনিরুল আলম রাহীমি, মাহাবুবুল করিম জাফরু, আব্দুল্লা হিল বাকী, রেজাউর রহমান তপন, আলাউদ্দিন সরকার টিপু, হাফিজুর রহমান ছাগির, রেজাউর রহমান ফাহিম, কেএমএইচ নজরুল ইসলাম, তুহিনুল ইসলাম তুহিন, শেখ ইকবাল হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক-আক্তার হোসেন, সৈয়দ মনজুর হোসেন মঞ্জু ও সোহেল রহমান। দপ্তর সম্পাদক-এবিএম আব্দুর রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক-ভিপি হানিফ, প্রকাশনা সম্পদক-মশিউর রহমান বাবু।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ বান্দরবান জেলা বিএনপি নেতাদের

এদিকে সদ্য ঘোষিত বান্দরবান জেলা বিএনপি কমিটি বাতিলের দাবিতে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আগের কমিটির নেতারা। গতকাল রাতে তারা গুলশান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। সদ্য ঘোষিত বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি ম্যামা চিং মারমা ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজার নেতৃত্বাধীন এ কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, এ কমিটি বাতিলের ঘোষণা না দিলে অবিলম্বে বান্দরবান জেলা বিএনপি আন্দোলন গড়ে তুলবে। নেতাদের অভিযোগ, অর্থ-বাণিজ্যের মাধ্যমে সদ্য ঘোষিত নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খালেদা জিয়াকে অবহিত করার পর তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved