শিরোনাম
 লংগদুতে যৌথবাহিনীর অভিযানে একে-৪৭ রাইফেল-গুলি উদ্ধার  গাবতলীর পশুরহাটে ভয়াবহ আগুন  সিরাজগঞ্জে বাস- মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত ৪  নতুন ভ্যাট আইন ২ বছর স্থগিত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ০১:১৫:২৩ | আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ১২:২১:১৫

যাত্রী জিম্মি করে 'বৈধতা' নিচ্ছে সিটিং সার্ভিস

পরিবহন মালিকরা অনেক প্রভাবশালী : ওবায়দুল কাদের
সমকাল প্রতিবেদক

আইনি বৈধতা নিয়ে সিটিং সার্ভিস আবারও চালু হতে পারে রাজধানীতে। আজ বুধবার বিকেলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসবে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দুই যুগ ধরে চললেও মোটরযান আইন অনুযায়ী এ সার্ভিস অবৈধ। বৈধতা না থাকার কারণ দেখিয়ে গত রোববার স্বল্প সময়ের ঘোষণায় এ সেবা বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিকরা। সব বাস 'লোকালে' পরিণত হলেও কথিত সিটিং সার্ভিসের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। নারী যাত্রীরা উঠতে পারছেন না এসব বাসে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন সিটিং সার্ভিসে অভ্যস্ত যাত্রীরা। এরই মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, 'জনদুর্ভোগ নিরসনে সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে।'

পরিবহনমন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করে বলেননি, সিটিং সার্ভিসকে বৈধতা দেওয়া হবে কি-না। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'বিআরটিএর চেয়ারম্যানকে ডেকে এনেছি, মালিক সমিতির দু-তিনজনের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের বলেছি, বিষয়টি রিভিউ করতে। তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযান করছে, তা জনস্বার্থে রিভিউ করতে বলেছি।' পর্যালোচনা সভায় সবার সম্পৃক্ততা থাকবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ, যাত্রীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসে পুরো পরিস্থিতি রিভিউ করে জনস্বার্থে বাস্তবভিত্তিক, ন্যায়ানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকার উচ্চ ভাড়ায় সিটিং সার্ভিসকে বৈধতা দিতে বাধ্য হবে কি-না_ জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'এ ধরনের পাঁয়তারা আছে কি-না তা রিভিউ (পুনর্মূল্যায়ন) করে বলা যাবে।'

মন্ত্রী বলেন, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকেই খুব প্রভাবশালী। তারা বাস বন্ধ রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও, বাস্তবতার কারণে কঠোর হতে পারছেন না।

বিআরটিএর পরিচালক নাজমুল আহসান সমকালকে জানান, আজ বুধবার বিকেল ৪টায় সংস্থার সদর কার্যালয়ে মালিক, শ্রমিক ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বিআরটিএ। বৈঠক থেকে কী সিদ্ধান্ত আসবে, সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এনফোর্সমেন্টের দায়িত্বে থাকা এ পরিচালক জানান, বৈঠক হলেও আজও বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবহন খাত সূত্রে

জানা গেছে, মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে সিটিং সার্ভিসের রুট পারমিট দাবি করে আসছেন। এর জন্য পৃথক ভাড়ার তালিকাও চান তারা। অনেকবার আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি) কাছে সিটিং সার্ভিসের অনুমতি চেয়েও পাননি তারা। রাজধানীতে চলাচলকারী বাসের প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া এক টাকা ৭০ পয়সা, মিনিবাসে এক টাকা ৬০ পয়সা। কিন্তু সিটিং বাসে এর চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া নেওয়া হয়। কোনো কোনো বাসে কিলোমিটারে তিন টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হয়। এতে মালিকরা কখনও কখনও জরিমানার মুখে পড়েন। পরিবহন মালিকরা সিটিং সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়ায়, দীর্ঘ দিনের অভ্যস্ততায় যাত্রীরা বিশেষ করে নারীরা অশেষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সিটিং সার্ভিসের যৌক্তিকতা প্রমাণে এ পরিস্থিতিই সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন মালিকরা। যাতে উচ্চ ভাড়ায় সিটিং সার্ভিস পরিচালনার অনুমতি দিতে বাধ্য হয় সরকার।

এদিকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সিটিং বাস লোকালে রূপান্তরিত হলেও আগের মতোই উচ্চ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। আবার কৃত্রিমভাবে অনেক বাস বন্ধ রাখায় যানসংকটও রয়েছে পথে। সব বাস লোকালে পরিণত হওয়ায়, গাদাগাদি করে বাসে চড়তে হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্ত যাত্রী, বিশেষ করে নারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

'স্টপেজ কমানোর আবেদন বিবেচনা হবে' : সড়ক পরিবহন সচিব এম এ এন ছিদ্দিক সমকালকে বলেন, 'বৈঠকে সব পক্ষ থাকবে। কীভাবে চলমান অস্থিরতার নিরসন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে।' সিটিং সার্ভিসকে অনুমোদন দেওয়া হবে কি-না_ এ প্রশ্নে সচিব বলেন, 'আইনের মধ্য থেকে মালিকরা আবেদন করলে, তাদের আমরা সহায়তা করতে পারব। আইনের বাইরে কিছুই করা যাবে না।' সচিব জানান, আইনে সিটিং সার্ভিস বলে কিছু নেই। রুট পারমিটে মালিকদের আবেদনের ভিত্তিতে স্টপেজ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। তিনি বলেন, 'মালিকরা যদি স্টপেজ কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন আমরা বিবেচনা করব। কিন্তু যেভাবে অনুমোদন নেবেন, সেভাবেই বাস পরিচালনা করতে হবে। যেখানে অনুমোদিত স্টপেজ নেই, সেখান থেকে যাত্রীরা তুলতে পারবে না।'

আজকের বৈঠকে সিটিং সার্ভিস অনুমতি পেতে যাচ্ছে কি না? _এ প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি মালিক সংগঠন সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহও। তিনি বলেন, 'সবাইকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। দেখা যাক কী সিদ্ধান্ত আসে।' তবে গত সোমবার তিনি সিটিং সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। ওই দিন তিনি সমকালকে বলেন, 'সিটিং সার্ভিস চালুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব হলে, আমরা সরকারকে অনুরোধ করব সিটিং সার্ভিসের অনুমতি দিতে। সিটিং সার্ভিসের ভাড়া লোকালের চেয়ে আলাদা ও বেশি হবে।' তিনি বলেছিলেন, 'স্টপেজ সংখ্যা কমাতে হবে। যাতে যাত্রীরা দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পেঁৗছাতে পারে।'

মন্ত্রী ও যাত্রীদের অসহায়ত্ব : এদিকে যাত্রীদের জিম্মি করা মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমাদের দেশের বাস্তবতা কী! আমরা কি জোর করে গাড়ি নামাতে পারব? আর গাড়ির সঙ্গে যারা জড়িত, তারা সামান্য মানুষ নয়। তারা অনেকেই খুব প্রভাবশালী।' অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'ফিটনেসের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন মানুষের দুর্ভোগ হয়। তোপের মুখে পড়ি আমরা। দোষটা আসে আমাদের ঘাড়ে। কী করব বলুন?'

সিটিং সার্ভিস বন্ধের তিন দিনের অভিজ্ঞতা থেকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, 'মালিকরা সিটিং সার্ভিসের বৈধতা পেতেই এ দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। তারা সিটিং বন্ধ করিয়ে, লোকালেই সিটিংয়ের ভাড়া নিচ্ছেন। যাত্রীরা বলতে শুরু করেছেন, আগেই ভালো ছিল। মালিকরা এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সিটিংয়ের বৈধতা নিয়ে নিচ্ছেন।'


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved