শিরোনাম
 সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্য সরানোর কাজ চলছে  রোজায় বিকেল ৫টা-রাত ১১টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ  জেএমবি নেতা সাইদুরের সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড  ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়: মির্জা ফখরুল  ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্রতি বছর ভর্তি ফি নয়: হাইকোর্ট
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:২৯:০৪ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ২১:৪৩:৩৪

চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।
 
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাজীর দেউড়ি মোড়ের অদূরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
 
সংঘর্ষে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম ও কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন, সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর মধ্যে একজন কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আহত হন পাঁচ-ছয় জন। উভয়পক্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন; তাদের মধ্যে ৬/৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
এদিকে, আউটার স্টেডিয়ামে সংঘর্ষের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। নগরীর ওয়াসা মোড়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে বহদ্দারহাটে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
 
চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০
এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নির্মাণাধীন সুইমিংপুলের ঘেরাবেড়া উপড়ে ফেলে, নির্বিচারে রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর এবং দোকানপাটে হামলা চালায়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধও করে দেয় তারা। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। লোকজন ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করে।
 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জের পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম ও কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া কম-বেশি আহত হন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও। সব মিলিয়ে দু'পক্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।
 
চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০
নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়ামের এক পাশে সুইমিংপুল নির্মাণ করছিল চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস)। কিন্তু এই সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল নগর ছাত্রলীগ। সুইমিংপুলের কাজ বন্ধ না হলে নিজেরাই তা গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। এজন্য আলটিমেটামও দেয় ছাত্রলীগ।
 
এরপরও কাজ বন্ধ না হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা রনির নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আলটিমেটাম অনুযায়ী মানববন্ধন কর্মসূচি পালনে জড়ো হয়। সেখান থেকে সুইমিংপুলের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিতে আউটার স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় নির্মাণাধীন সুইমিংপুলের চারপাশ আগে থেকেই পুলিশ ঘেরাও করে রাখে। কিন্তু ঘেরাও উপেক্ষা করে ভেতরে ঢুকতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেয় ও রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
 
চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফের সংগঠিত হয়ে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে লাঠি হাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্মাণাধীন সুইমিংপুল এলাকায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। সুইমিংপুলের চারপাশের ঘেরাবেড়া ও নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট করা শুরুর পর পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়ে তার জবাব দেয়। এরপর দফায় দফায় চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট ও যান চলাচল।
 
তারা আরও জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়কে যানবাহন ও দোকানপাটে চড়াও হয়। নির্বিচারে প্রাইভেটকার, রাইডার, মোটরসাইকেল, রিকশা ও রিকশাভ্যান ভাঙচুর করা হয়। এ সময় কয়েকটি দোকানেও হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়।
 
নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, 'ছাত্রলীগের মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আগে থেকেই পুলিশ নির্মাণাধীন সুইমিং পুলের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে রাখে। কিন্তু নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা পুলিশি বেষ্টনী উপেক্ষা করে জোরপূর্বক ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে; লাঠি হাতে চড়াও হয়। ফলে পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি, লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।'
 
কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনায় পুলিশের প্রায় ১৪ সদস্য আহত হন। তার মধ্যে পিপলু বড়ুয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন এবং এসআই শহীদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়। সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে দায়ীদের শনাক্ত করা হবে।
 
এ প্রসঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, 'খেলার মাঠ সংরক্ষণের জন্য আমরা আগে থেকেই আন্দোলন করে আসছি। আমাদের আজকের (মঙ্গলবার) কর্মসূচিও পূর্বঘোষিত। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও পুলিশ আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। হামলায় নগর ছাত্রলীগের মানবসম্পদ ও উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক লিটন চৌধুরীসহ চার কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ছয় জন আহত হয়েছে।'
 
চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০
নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রনি। সাম্প্রতিক সময়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধের দাবি ছিলও মহিউদ্দিনের।
 
তবে সোমবার মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মহিউদ্দিন-নাছির এক মঞ্চে ঘোষণা দিয়ে একে-অপরের সঙ্গে মিলে যান। তারপরও ছাত্রলীগ তাদের কর্মসূচি থেকে পিছপা হয়নি। সুইমিংপুল নির্মাণকারী সংস্থা সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। তার পক্ষে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সিজেকেএস নেতৃবৃন্দ।
 
চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০
এর আগে গত রোববার খেলার মাঠ দখল করে সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয় নগর ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার সেই আল্টিমেটাম শেষ হয়। এ আল্টিমেটাম দেওয়ার পর সিজেকেএসের পক্ষ থেকে নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
 
ওয়াসা মোড়ে মহিউদ্দিন-নাছির সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
 
আউটার স্টেডিয়ামে সংঘর্ষের পর মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ওয়াসা মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় নাছির উদ্দিন সমর্থক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায় ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
 
নাছির সমর্থক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা স্থানীয় যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মহিউদ্দিন অনুসারীরা এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে তারা।
আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved