শিরোনাম
 এক মাস কঠোর সংযমের পর এলো খুশির ঈদ  ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত  ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৭, ২২:১৪:৫৪

জনগাঁ সীমান্তে চোখের জলে মিলন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
যেন চোখের জলেই স্বজনের সঙ্গে মিলনের সুখ। চোখের জলেই স্বজনকে স্বাগত ও বিদায় জানানো। তবে এ জল বেদনার নয়, আনন্দের। শনিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার জনগাঁ সীমান্তের শূন্য রেখায় নববর্ষ উপলক্ষে দুই বাংলার মিলন মেলায় এ দৃশ্যের অবতারণা হয়।
 
ঠাকুরগাঁও ৩০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর আয়োজন করে। রানীশংকৈল উপজেলার জনগাঁ, বুজরুক, বেতনা, ডাবরী সীমান্তেও হয় মিলন মেলা।
 
সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের এপার-ওপারে জনগণ দুই দেশে থাকা স্বজনের সঙ্গে এর মাধ্যমে মিলিত হন। এভাবে কাঁটাতারের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে স্বজনের সঙ্গে আবারও দেখা করতে তাদের প্রতীক্ষায় থাকতে হবে এক বছর।
 
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে দু'দেশে বসবাসরত জনগণকে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সীমান্তে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এবারের মিলন মেলায় ভোর থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে জড়ো হতে থাকে সীমান্তে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আগে থেকেই তারা পরস্পরকে জানিয়ে দেন, কে কোথায় মিলিত হবেন।
 
মিলন মেলায় দুই বাংলার লাখো মানুষ নিজ নিজ স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এজন্য বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর এবং ভারতের কোচবিহার, আসাম, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইসাইকেল, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও মিনিবাসে হাজারও মানুষ সীমান্তে হাজির হন। দুপুরের পর স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে দু'দেশের আগতদের আসতে দেওয়া হয় কাঁটাতারের বেড়ার কাছে। বেড়ার ফাঁক দিয়ে প্রিয় স্বজনকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আগত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। অনেকে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়েই স্বজনদের বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দেন।
 
জনগাঁ সীমান্তে চোখের জলে মিলন
জনগাঁ সীমান্তের শূন্য রেখায় দুই বাংলার মিলন মেলা—সমকাল
স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বাসিন্দা খতেজা বেগম (৫৫) জানান, সাত বছর আগে তার মেয়ে আকলিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এই প্রথম মেয়ের সঙ্গে তার দেখা হলো।
 
সৈয়দপুরের রাধা রানী সমকালকে বলেন, 'আট বছর আগে আমার ছোট বোন শ্রীমতি রানীর বিয়ে হয় ভারতের গোয়ালপুকুর থানার পাঁচঘরিয়া গ্রামে। বিয়ের পর আর দেখা হয়নি; আজ বোনের সঙ্গে তারকাঁটার এপার-ওপারে দাঁড়িয়ে কথা বলে এবং কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বোনকে মিষ্টি ও কাপড় দিতে পেরে আমি আনন্দিত।'
 
ভারতের মালদহের হরিশচন্দ্রপুর থানার হলদিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাদেকুল হক (৩২) প্রায় একশ' কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসে দেখা করেন চাচা হরিপুর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামের সাদ্দামের (৫৯) সঙ্গে। এ সময় তারা কাঁদতে থাকেন।
 
হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, 'উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির আগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধীনে ছিল। এ কারণে দেশ বিভাগের পর আত্মীয়-স্বজন দু'দেশে ছড়িয়ে পড়েন। সারাবছর তারা দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারেন না। তাই অপেক্ষায় থাকেন এই দিনের।'
 
এ মিলন মেলাকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের সীমান্তে পর্যাপ্ত বিজিবি ও বিএসএফ মোতায়ন করা হয়। ঠাকুরগাঁও ৩০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল তুষার বিন ইউনুস বলেন, 'এবারও মিলন মেলা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা চাই এ মিলন মেলাটি আরও বড় পরিসরে ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হোক।'
আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved